জাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ একটি ঐতিহাসিক দিন। দীর্ঘ ৩৩ বছর পর জাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদের নির্বাচনে ভোট দিতে শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা।

৩৩ বছরের অপেক্ষার অবসান

জাকসু নির্বাচন নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে রয়েছে প্রচণ্ড উৎসাহ। ১৯৯২ সালে সর্বশেষ নবম জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর পর থেকে দীর্ঘ তিন দশক ধরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। আজকের এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া তাই শুধু একটি নির্বাচন নয়, বরং গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের এক গৌরবময় মুহূর্ত।

ভোটগ্রহণের বিস্তারিত তথ্য

এবারের জাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার রয়েছেন ১১ হাজার ৭৪৩ জন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ১১টি ও ছাত্রীদের ১০টিসহ মোট ২১টি আবাসিক হলে ভোট কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে নিয়োজিত রয়েছেন দক্ষ কর্মকর্তারা। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ২১টি ভোটকেন্দ্রে ২১ জন রিটার্নিং অফিসার, ৬৭ জন পোলিং অফিসার ও ৬৭ জন সহকারী পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করছেন। এই ব্যবস্থা জাকসু নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।

কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা

জাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ নিরবিচ্ছিন্নভাবে সম্পন্ন করতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। তবে এদের অধিকাংশই ক্যাম্পাসের বাইরের দিকে অবস্থান করছেন, যাতে শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে তাদের ভোট দিতে পারেন।

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন যে এখন পর্যন্ত কোনো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি নেই। তবে গেরুয়া ফটক দিয়ে বহিরাগতদের প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সেখানে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

আধুনিক প্রযুক্তিতে নিরীক্ষা

জাকসু নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে। প্রায় ৮০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের জন্য। নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে এই ক্যামেরাগুলো দিয়ে ভোট কেন্দ্রের পরিবেশ ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এছাড়াও জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের সমন্বয়ে একটি মনিটরিং টিম, প্রক্টরিয়াল বডি এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা পুরো ক্যাম্পাসে দায়িত্ব পালন করছেন। দুইজন ম্যাজিস্ট্রেটও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া তদারকি করছেন।

ব্যালট পেপারের বিশেষ ব্যবস্থা

এবারের জাকসু নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জাকসুর জন্য ৩ পাতা এবং দুটি হলের জন্য ২ পাতা এবং বাকি হলগুলোর জন্য ১ পাতার ব্যালট পেপার ছাপানো হয়েছে।

জাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার জানিয়েছেন যে কোনো ভোটার ব্যালট পেপারে ভুল করলে সাথে সাথে তা বাতিল করে নতুন ব্যালট পেপারে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। এই কারণে কিছু অতিরিক্ত ব্যালট পেপার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ও আশা

দীর্ঘ ৩৩ বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়া এই জাকসু নির্বাচন নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে অপার উৎসাহ ও প্রত্যাশা। তারা আশা করছেন যে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তাদের অধিকার রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে অবদান রাখবেন।

উপসংহার

আজকের এই জাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুধু একটি নির্বাচনিক প্রক্রিয়া নয়, বরং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। দীর্ঘ তিন দশকের বিরতির পর আজ আবার শিক্ষার্থীরা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন। সন্ধ্যায় ভোটগ্রহণ শেষ হলে ভোট গণনা শুরু হবে এবং ফলাফল ঘোষণার মাধ্যমে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে।

শাকিল আহম্মেদ
শাকিল আহম্মেদhttps://porasonablog.com
মোঃ শাকিল আহাম্মেদ শিক্ষা বিষয়ক সংবাদ নিয়ে নিয়মিত কাজ করছেন এবং ভর্তি, রেজাল্ট ও বিভিন্ন পরীক্ষার আপডেট সংগ্রহ ও যাচাই করেন। তিনি অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। তথ্য প্রকাশের আগে তিনি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল নোটিশ ও নির্ভরযোগ্য সূত্র মিলিয়ে দেখেন। শিক্ষার্থীদের জন্য দ্রুত ও নির্ভুল তথ্য পৌঁছে দেওয়াই তার প্রধান লক্ষ্য।
রিলেটেড আরটিকেল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

জনপ্রিয় নিউজ