২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়ায় তৃতীয় ধাপের ফলাফল প্রকাশের পরও হাজার হাজার শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তির সুযোগ পাননি। এই পরিস্থিতিতে কলেজে ভর্তি না পাওয়া শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তারা আশার আলো দেখিয়েছেন চতুর্থ ধাপের আবেদনের ব্যাপারে।
তৃতীয় ধাপে কত শিক্ষার্থী বাদ পড়লেন
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের তৃতীয় ধাপে মোট ৫ হাজার ২৪০ জন শিক্ষার্থী কোনো কলেজে ভর্তির জন্য মনোনীত হননি। এই সংখ্যার মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো জিপিএ-৫ পাওয়া ২৯৫ জন শিক্ষার্থীও কলেজে সুযোগ পাননি। এটি দেখায় যে শুধু ভালো ফলাফলই যথেষ্ট নয়, কলেজ ভর্তির প্রতিযোগিতা কতটা তীব্র হয়ে উঠেছে।
শিক্ষা বোর্ডের আশ্বাস: চতুর্থ ধাপের সম্ভাবনা
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক মো. রিজাউল হক জানিয়েছেন যে, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে চতুর্থ ধাপে আবেদনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। তিনি বলেছেন, “১৪ সেপ্টেম্বরের পরে বোঝা যাবে কত শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়ার বাইরে থাকে। তখন চতুর্থ পর্যায়ে তাদের আবেদনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।”
এই আশ্বাস ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর। যেসব শিক্ষার্থী এতদিন দুশ্চিন্তায় ছিলেন, তারা এখন চতুর্থ ধাপের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারেন।
ভর্তি প্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা
ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, তিন ধাপে আবেদন করে নির্বাচিত হওয়া শিক্ষার্থীদের কলেজে চূড়ান্ত ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হবে ৭ সেপ্টেম্বর এবং চলবে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এরপর ১৫ সেপ্টেম্বর একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে ২য় ধাপের মাইগ্রেশনের ফল আগামীকাল প্রকাশ করা হবে, যা কিছু শিক্ষার্থীর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
কলেজগুলোর অবস্থা: শূন্য আসনের চিত্র
ভর্তি পরিস্থিতির আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হলো সারাদেশের ৩৭৬টি কলেজ ভর্তির জন্য একজন শিক্ষার্থীও পায়নি। এছাড়া ১৬টি কলেজে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার আগ্রহ দেখাননি। এটি শিক্ষার্থীদের পছন্দের কলেজে ভর্তি হওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং কলেজের মানের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের করণীয়
কলেজ ভর্তিতে সুযোগ না পাওয়া শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের এখনই হতাশ হওয়ার কিছু নেই। চতুর্থ ধাপের সম্ভাবনার জন্য অপেক্ষা করুন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন। শিক্ষা বোর্ডের ঘোষণার জন্য নিয়মিত অফিসিয়াল ওয়েবসাইট পরীক্ষা করুন।
এদিকে যে শিক্ষার্থীরা বিকল্প পরিকল্পনা ভাবছেন, তারা খোলা বিশ্ববিদ্যালয় বা কারিগরি শিক্ষার দিকে নজর দিতে পারেন। এসব ক্ষেত্রেও উন্নত ক্যারিয়ারের সুযোগ রয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আশার আলো
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা বোর্ডগুলো শিক্ষার্থীদের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চতুর্থ ধাপের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হলে সেটি একটি বড় সমাধান হতে পারে যে সব শিক্ষার্থী এখনো কলেজে ভর্তির সুযোগ পাননি।
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের এই ভর্তি পরিস্থিতি দেখায় যে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় আরো পরিকল্পনা ও সংস্কার প্রয়োজন। তবে শিক্ষা কর্তৃপক্ষের দ্রুত সিদ্ধান্ত ও চতুর্থ ধাপের ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের জন্য আশার আলো এনেছে।

ভাই আমি ৩য় আবেদনে একটা কলেজ পাইছি কিন্তু আমি সেখানে পড়ব না আমি কি খবর এখন
আমিও একই অবস্থা,, এখন কি করতে পারি আমরা