চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি এলাকায় একটি টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবিতে মঞ্চ থেকেই শিক্ষামন্ত্রীকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি সামনে আসার পর তিনি প্রকাশ্যেই বলেন, বিষয়টি যেন বিলম্ব না করে এগিয়ে নেওয়া হয়।
শনিবার (১৬ মে) চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার খোর্দ্দ খাল পুনঃখননের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। ওই অনুষ্ঠানে স্থানীয় উন্নয়ন, অবকাঠামো এবং শিক্ষা-সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্ব পায় হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তিতে একটি টেকনিক্যাল কলেজ স্থাপনের প্রস্তাব।
প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যে বলেন, এলাকার জনগণের এই দাবি যৌক্তিক। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, চাঁদপুরের সন্তানই এখন দেশের শিক্ষামন্ত্রী। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি উপস্থিত সবার সামনে শিক্ষামন্ত্রীকে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। তার এই মন্তব্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া দেখা যায়।
স্থানীয়ভাবে জানা যায়, চাঁদপুর-৫ আসনের মানুষের অনেক দিনের প্রত্যাশা ছিল হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি অঞ্চলে একটি সরকারি টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা। কারণ, সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার সুযোগ বাড়লে এই এলাকার শিক্ষার্থীরা দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা গ্রহণ করে দ্রুত কর্মমুখী হতে পারবে। বিশেষ করে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করা অনেক শিক্ষার্থী নিজ জেলায় মানসম্মত কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় অন্যত্র যেতে বাধ্য হয়।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা এখন শুধু একটি উন্নয়ন দাবিই নয়, বরং সময়ের প্রয়োজন। দেশে শিল্প, সেবা ও প্রযুক্তিনির্ভর খাতে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বাড়ছে। সে বাস্তবতায় চাঁদপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ হলে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা তাই শুধু একটি তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং অঞ্চলের শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নের সম্ভাব্য নতুন দিকও তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তর কত দ্রুত প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় যায়।
চাঁদপুরে প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তিতে টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাস্তবে রূপ পেলে কারিগরি শিক্ষায় আগ্রহী বহু শিক্ষার্থীর জন্য তা বড় সুযোগ হয়ে উঠবে। শিক্ষা-উন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই ঘোষণা কত দ্রুত কার্যকর হয়, সেটিই এখন সবার নজরে।
