দীর্ঘ ৩৩ বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে একটি নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য এই ঐতিহাসিক নির্বাচনে সকল প্রার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক ডোপ টেস্ট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
নিষ্পত্তিকর সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, গত ৩১ আগস্ট জাকসু নিয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় অধিকাংশ প্রার্থী জাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক ডোপ টেস্ট বা মাদক পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে রয়েছে প্রার্থীদের নিজেদের দাবি। সামগ্রিক প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করে নির্বাচন কমিশন আলোচনার মাধ্যমে প্রার্থীদের এই যুক্তিসঙ্গত প্রস্তাব বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা
সব প্রার্থীর ডোপ টেস্ট নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে ডোপ টেস্ট করাতে পারবেন। এই প্রক্রিয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দু’একদিন সময় দেওয়া হবে।
প্রার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন
৩১ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে জাকসু নিয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় জাকসু ও হল সংসদের অধিকাংশ প্রার্থী সবার ডোপ টেস্ট চালুর পক্ষে জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেন। এমনকি ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদপ্রার্থী মো. রাব্বি হোসেন এই দাবিতে অনশনেও বসেছিলেন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ৩৩ বছরের বিরতি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৯১ সাল থেকে জাকসু নির্বাচন বন্ধ ছিল। দীর্ঘ ৩৩ বছর পর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে আবার নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই নির্বাচনকে ঘিরে পুরো ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
কতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন?
জাকসু নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী ২৫টি পদে ১৭৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন। এর মধ্যে সহসভাপতি (ভিপি) পদে ১০ জন, সাধারণ সম্পাদক পদে ৯ জন, সহকারী সাধারণ সম্পাদক (ছাত্রী) পদে ৬ জন এবং সহকারী সাধারণ সম্পাদক (ছাত্র) পদে ১০ জন প্রার্থী রয়েছেন।
ডোপ টেস্টের গুরুত্ব ও প্রভাব
মাদকমুক্ত নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য এই ডোপ টেস্টের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত যুগোপযোগী। এর মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে যে, জাকসুর নেতৃত্বে আসছেন সৎ, মেধাবী এবং মাদকমুক্ত প্রার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতে এটি একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে।
নির্বাচনী পরিবেশ ও প্রত্যাশা
দীর্ঘ অপেক্ষার পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও প্রত্যাশা রয়েছে। তারা আশা করছেন যে, নতুন জাকসু কমিটি তাদের অধিকার আদায়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নে অবদান রাখবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে, ডোপ টেস্টের পাশাপাশি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ১১ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হবে এবং একই দিন সন্ধ্যায় ফলাফল ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঐতিহাসিক নির্বাচন শুধু প্রতিষ্ঠানের জন্যই নয়, দেশের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারে। মাদকমুক্ত নেতৃত্ব ও পরিচ্ছন্ন ছাত্র রাজনীতির এই উদ্যোগ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও অনুসরণীয় হতে পারে।
এই নির্বাচনের মাধ্যমে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে, যেখানে ছাত্র নেতৃত্ব হবে মাদকমুক্ত, দায়িত্বশীল এবং জবাবদিহিতামূলক।
