নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি আজ (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫) পদত্যাগের পর হেলিকপ্টারে করে কাঠমান্ডু ছেড়েছেন। জেন-জি প্রজন্মের তীব্র আন্দোলনের মুখে এই পদত্যাগ ঘটেছে। তার সাথে ৭ জন মন্ত্রীও রয়েছেন এই যাত্রায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, হেলিকপ্টারে করে তিনি কোথায় গেছেন?
সেনাবাহিনীর সহায়তায় নিরাপদ স্থানে
নেপালি সেনাবাহিনী কে পি শর্মা অলি এবং তার মন্ত্রসভার ৭ সদস্যকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পদত্যাগের পর প্রাথমিকভাবে সেনাবাহিনী তাকে এবং তার সহযোগীদের নিরাপত্তা প্রদান করেছে।
বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, চিকিৎসার নাম করে কে পি শর্মা অলি ভারত অথবা সংযুক্ত আরব আমিরাতে আশ্রয় নিতে পারেন। তবে এখনও তার সঠিক গন্তব্য সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। হেলিকপ্টারের গন্তব্য এখনও রহস্যের মধ্যেই রয়ে গেছে।
জেন-জি আন্দোলনের ভয়াবহতা
গত দুই দিনের তীব্র বিক্ষোভে ১৯ জনের প্রাণহানি এবং কয়েকশো মানুষ আহত হয়েছেন। জেন-জি নামের তরুণরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর জ্বালিয়ে দিয়েছে। এই আন্দোলনের তীব্রতা এতটাই বেড়েছিল যে প্রধানমন্ত্রী শেষ পর্যন্ত পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন।
আজ সকাল থেকেই একের পর এক মন্ত্রীরা পদত্যাগ করতে শুরু করেছিলেন। এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলিও আর টিকে থাকতে পারেননি এবং পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।
সেনাপ্রধানের চাপ ও পদত্যাগ
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের রিপোর্ট অনুযায়ী, সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেল সরাসরি প্রধানমন্ত্রী অলিকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছিলেন। এই ঘটনাটি অনেকেই বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের সাথে তুলনা করছেন।
সেনাবাহিনীর চাপ এবং জনগণের তীব্র বিক্ষোভের মুখে কে পি শর্মা অলি বুঝতে পেরেছিলেন যে আর ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। তাই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিমানবন্দরে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে যে নেপালি সেনারা বিমানবন্দর দখল নিয়েছে। সমস্ত বিমান ওঠা-নামা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই চরম অরাজক পরিস্থিতি সামাল দিতে শাসনভার নেওয়ার দিকে এগিয়ে চলেছে সেনাবাহিনী।
কাঠমান্ডু পোস্টের রিপোর্ট অনুযায়ী, পার্লামেন্ট ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলোতে নিরাপত্তা রক্ষায় মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী। এই পরিস্থিতিতে দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
রহস্যময় গন্তব্য
হেলিকপ্টারে করে কে পি শর্মা অলি যে কাঠমান্ডু ছেড়েছেন সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে জানা গেলেও তার সঠিক গন্তব্য এখনও অজানা। অনলাইন এনডিটিভি এই খবর প্রকাশ করলেও হেলিকপ্টারের গন্তব্য সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দেয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কে পি শর্মা অলি হয়তো অস্থায়ীভাবে নিরাপদ কোনো স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। চিকিৎসার অজুহাতে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারেন বলেও অনুমান করা হচ্ছে।
নেপালে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়
কে পি শর্মা অলির পদত্যাগ এবং হেলিকপ্টারে করে দেশত্যাগ নেপালের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। জেন-জি আন্দোলনের শক্তি প্রমাণ করেছে যে জনগণের ক্ষোভ কতটা শক্তিশালী হতে পারে।
এখন প্রশ্ন হলো নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন এবং দেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে কিনা। সেনাবাহিনীর ভূমিকা এবং জনগণের দাবি কীভাবে পূরণ হবে সেটাই এখন নেপালের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
কে পি শর্মা অলির এই পদত্যাগ এবং হেলিকপ্টারে করে চলে যাওয়া দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
