রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা – প্রতি আসনে প্রতিযোগিতা করছেন ৮২ শিক্ষার্থী

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তির জন্য আজ বৃহস্পতিবার ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিজ্ঞান বিভাগের এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় প্রতিটি আসনের জন্য প্রতিযোগিতা করছেন গড়ে ৮২ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী। আজ ১৬ জানুয়ারি দুই শিফটে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে – প্রথম শিফটের পরীক্ষা সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা এবং দ্বিতীয় শিফটের পরীক্ষা বিকাল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত।

এবারের ‘সি’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষায় মোট ১ লাখ ২৬ হাজার ২২৫ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার ৮৩৮ জন এবং অবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৫ হাজার ৩৮৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। এই বিশাল সংখ্যক পরীক্ষার্থীদের জন্য মোট ১৫৩৬টি আসন রয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২০টি আসন বেশি।

কোন কোন বিভাগে ভর্তির সুযোগ

রাবির ‘সি’ ইউনিট মোট সাতটি অনুষদ নিয়ে গঠিত। এই অনুষদগুলোর অধীনে রয়েছে ২৬টি বিভাগ। বিজ্ঞান অনুষদে নয়টি বিভাগ, জীববিজ্ঞান অনুষদে ছয়টি, কৃষি অনুষদে দুইটি, প্রকৌশল অনুষদে পাঁচটি, ভূ-বিজ্ঞান অনুষদে দুইটি বিভাগ রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে ফিশারিজ অনুষদ এবং ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্সেস অনুষদ।

বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য ১৪৯৬টি আসন রয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৩৬টি বেশি। অন্যদিকে, অবিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে ৪০টি আসন। অবিজ্ঞান শাখা থেকে যারা পরীক্ষা দেবেন তারা শুধুমাত্র শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগে ১০টি, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগে ১০টি এবং মনোবিজ্ঞান বিভাগে ২০টি আসনের জন্য প্রতিযোগিতা করতে পারবেন।

কীভাবে হবে পরীক্ষা

এবারের ভর্তি পরীক্ষা সম্পূর্ণ বহুনির্বাচনী পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। একশো নম্বরের এই পরীক্ষায় মোট ৮০টি প্রশ্ন থাকবে এবং প্রতিটি প্রশ্নের মান হবে ১.২৫। পরীক্ষার সময় বরাদ্দ রয়েছে এক ঘণ্টা। পরীক্ষায় প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২০ নম্বর কেটে নেওয়া হবে, অর্থাৎ পাঁচটি ভুল উত্তর দিলে এক নম্বর কাটা যাবে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে ন্যূনতম ৪০ নম্বর পেতে হবে।

বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দুটি অংশে বিভক্ত থাকবে – আবশ্যিক এবং ঐচ্ছিক। আবশ্যিক অংশে পদার্থবিজ্ঞান থেকে ২৫টি, রসায়ন থেকে ২৫টি এবং আইসিটি থেকে ৫টি প্রশ্ন থাকবে। ঐচ্ছিক অংশে শিক্ষার্থীরা গণিত, জীববিদ্যা অথবা দুটি বিষয় মিলিয়ে মোট ২৫টি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন।

অবিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলা থেকে ২৫টি, ইংরেজি থেকে ২৫টি এবং সাধারণ জ্ঞান, ভূগোল ও মনোবিজ্ঞান মিলিয়ে ৩০টি প্রশ্ন থাকবে। প্রতিটি প্রশ্নের মান এক্ষেত্রেও ১.২৫ নম্বর।

কোন বিষয় নিয়ে পড়লে কোন বিভাগে ভর্তির সুযোগ

যে সকল শিক্ষার্থী পরীক্ষায় জীববিদ্যা ও গণিত উভয় বিষয়ে উত্তর দেবেন, তারা ‘সি’ ইউনিটের সব বিভাগে ভর্তির জন্য বিবেচিত হবেন। এটি সবচেয়ে বেশি সুবিধাজনক অপশন।

যারা শুধুমাত্র গণিত বিষয়ে উত্তর দেবেন, তারা গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, পরিসংখ্যান, ফলিত গণিত, ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আরও কয়েকটি প্রযুক্তিগত বিভাগে ভর্তির সুযোগ পাবেন।

অন্যদিকে, যারা শুধুমাত্র জীববিদ্যা বিষয়ে উত্তর দেবেন, তারা ফার্মেসি, প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান, প্রাণিবিদ্যা, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি, মাইক্রোবায়োলজি, ফিশারিজ, ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্সেস এবং কৃষি সংক্রান্ত বিভাগে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

জনপ্রিয় বিভাগগুলোতে কত আসন

বিজ্ঞান অনুষদে এ বছর ১৫টি আসন বাড়ানো হয়েছে। এই অনুষদের নয়টি বিভাগে মোট ৬২৫টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে গণিত বিভাগে ১০০, রসায়ন বিভাগে ১০০, পরিসংখ্যান বিভাগে ৮০ এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ৭০টি আসন রয়েছে। ফার্মেসি এবং প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগে রয়েছে ৫০টি করে আসন।

জীববিজ্ঞান অনুষদে মোট ৩০৫টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে প্রাণিবিদ্যা বিভাগে ৮০, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে ৭০, মনোবিজ্ঞান বিভাগে ৬০, চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগে ৩৫ এবং জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে ৩০টি করে আসন রয়েছে।

প্রকৌশল অনুষদে পাঁচটি বিভাগে মোট ২৫১টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগে ৭০, ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৫০, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৪৬, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৪৫ এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৪০টি আসন রয়েছে।

কৃষি অনুষদে দুটি বিভাগে মোট ১২০টি আসন রয়েছে। ফিশারিজ অনুষদে ৫০টি এবং ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্সেস অনুষদে ৫০টি আসন রয়েছে। ভূ-বিজ্ঞান অনুষদে এ বছর পাঁচটি আসন বাড়িয়ে মোট ১৩৫টি আসন করা হয়েছে।

কোথায় হবে পরীক্ষা

এবারের ‘সি’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি সারাদেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। রাজশাহী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রংপুর ও বরিশাল – এই ছয়টি বিভাগে অবস্থিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্যাম্পাসে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এতে শিক্ষার্থীদের ভ্রমণ খরচ এবং সময় সাশ্রয় হবে।

মেধাতালিকা কীভাবে তৈরি হবে

এবারের ভর্তি পরীক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের উপর কোনো মার্কস যুক্ত হবে না। সম্পূর্ণ মেধাতালিকা তৈরি হবে শুধুমাত্র ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের উপর ভিত্তি করে। যে শিক্ষার্থী একশো নম্বরের পরীক্ষায় যত বেশি নম্বর পাবেন, তিনি তত এগিয়ে থাকবেন।

এ বছর সিলেকশন পদ্ধতি থাকছে না, যা শিক্ষার্থীদের জন্য কিছুটা সুবিধাজনক। তবে প্রতি আসনে ৮২ জন প্রতিযোগী থাকায় প্রতিযোগিতা অত্যন্ত কঠিন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

আজ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ রয়েছে। প্রথমত, পরীক্ষার হলে প্রবেশের আগে অ্যাডমিট কার্ড এবং ভোটার আইডি/জন্ম নিবন্ধন সনদ সঙ্গে রাখা অত্যাবশ্যক। দ্বিতীয়ত, প্রথম শিফটের পরীক্ষার্থীদের সকাল ১০টার মধ্যে এবং দ্বিতীয় শিফটের পরীক্ষার্থীদের বিকাল ২টার মধ্যে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানো উচিত।

পরীক্ষায় ক্যালকুলেটর ব্যবহারের অনুমতি নেই। তবে সাধারণ জ্যামিতিক যন্ত্র যেমন স্কেল, পেন্সিল ব্যবহার করা যাবে। পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার উপায়

ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল ভর্তি ওয়েবসাইট http://admission.ru.ac.bd থেকে সকল আপডেট তথ্য জানতে পারবেন। পরীক্ষার ফলাফল, মেধাতালিকা এবং পরবর্তী সকল নির্দেশনা এই ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

এছাড়াও, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি দপ্তরের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করেও যেকোনো সমস্যার সমাধান পাওয়া যাবে। শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে নিয়মিত ওয়েবসাইট চেক করতে এবং কোনো অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তি মিস না করতে।

আজকের এই ভর্তি পরীক্ষা হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম সেরা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, কৃষি এবং জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল তৈরি করে আসছে। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবেন।

সকল পরীক্ষার্থীর জন্য শুভকামনা। পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে পরীক্ষায় অংশ নিলে সফলতা অবশ্যই আসবে।

লিজা আক্তার
লিজা আক্তার
লিজা আক্তার শিক্ষা ও ক্যারিয়ার বিষয়ক সংবাদ নিয়ে কাজ করেন। তিনি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। তথ্য প্রকাশের আগে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল নোটিশ ও বিশ্বস্ত সূত্র যাচাই করেন। তিনি এমনভাবে তথ্য উপস্থাপন করতে চান যাতে শিক্ষার্থীরা সহজেই প্রয়োজনীয় তথ্য বুঝতে পারে।
রিলেটেড আরটিকেল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

জনপ্রিয় নিউজ