সরকারি ক্রয় কার্যক্রম আরও গতিশীল ও অর্থবহ করতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি

সরকারি ক্রয় কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ, স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী করতে ৬ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গঠিত এই কমিটির নেতৃত্বে রাখা হয়েছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রীকে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়াতে এবং নীতিগত দিকগুলো আরও সুসংহত করতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ তারিখে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, সরকারি ক্রয় ও অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির কার্যক্রম আরও অর্থবহ করতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যেই এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কারা আছেন কমিটিতে

নতুন এই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রীকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

এতে স্পষ্ট হচ্ছে, নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে প্রশাসনিক ও কারিগরি—দুই দিকের প্রতিনিধিত্বই কমিটিতে রাখা হয়েছে। ফলে সুপারিশ প্রণয়নের সময় বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক প্রয়োগ—উভয় দিক বিবেচনায় আসার সুযোগ থাকবে।

কমিটির মূল দায়িত্ব কী

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কমিটিকে কয়েকটি নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির কার্যপদ্ধতি আরও স্পষ্ট ও কার্যকর করার বিষয়ে সুপারিশ দেওয়া।

এ ছাড়া পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আওতায় থাকা বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে কোথায় পরিবর্তন বা উন্নয়ন প্রয়োজন, সে বিষয়ে মতামত দেওয়ার দায়িত্বও থাকবে এ কমিটির। সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, বাস্তবসম্মত ও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কী হতে পারে, তা নিয়েও তারা সুপারিশ করবে।

প্রয়োজনে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি যেকোনো অতিরিক্ত দায়িত্বও এই কমিটিকে দিতে পারবে।

কীভাবে চলবে কমিটির কার্যক্রম

সরকারি কাজের প্রয়োজন অনুযায়ী এই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রয়োজনে কমিটি নতুন সদস্যও অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। সার্বিক সাচিবিক সহায়তা দেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এই ব্যবস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত নানা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত বা খাতভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব প্রয়োজন হলে কমিটি তা যুক্ত করতে পারবে। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সুপারিশ প্রণয়নের প্রক্রিয়া আরও বাস্তবভিত্তিক হওয়ার সুযোগ থাকবে।

কেন এ কমিটি গুরুত্বপূর্ণ

বাংলাদেশে সরকারি ক্রয় কার্যক্রম উন্নয়ন প্রকল্প, অবকাঠামো নির্মাণ, পণ্য ও সেবা সংগ্রহসহ নানা খাতে সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই এ প্রক্রিয়ায় গতি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থাপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞ মহলে দীর্ঘদিন ধরেই বলা হচ্ছিল, সরকারি ক্রয়ের কিছু প্রক্রিয়া আরও সহজ, সমন্বিত ও সময়সাশ্রয়ী করা প্রয়োজন। উচ্চপর্যায়ের এই কমিটি সেই জায়গায় নীতিগত পর্যালোচনা ও সুপারিশের মাধ্যমে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থী ও সচেতন পাঠকের জন্য কেন জানা জরুরি

সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিখাতের বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। কোনো খাতে ক্রয় প্রক্রিয়া যত কার্যকর হবে, সংশ্লিষ্ট সেবাও তত দ্রুত ও মানসম্মতভাবে পৌঁছানোর সম্ভাবনা বাড়বে। ফলে এই ধরনের নীতিগত পরিবর্তন শুধু প্রশাসনিক বিষয় নয়, জনসেবা ব্যবস্থার মানোন্নয়নের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।

সমাপনী কথা

সরকারি ক্রয় কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও অর্থবহ করার লক্ষ্য নিয়ে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তকে প্রশাসনিক সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে—কমিটি কী ধরনের সুপারিশ দেয় এবং সেগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়। জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট এই খাতে কার্যকর সংস্কার হলে তার সুফল শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষই পাবে।

ইকরাম শেখ
ইকরাম শেখ
ইকরাম শেখ শিক্ষা খাতের বিভিন্ন আপডেট নিয়ে লেখালেখি করেন। তিনি সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন এবং তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে আগ্রহী। নতুন কোনো ভর্তি বা ফলাফল সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের আগে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত নোটিশ যাচাই করেন। তিনি নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী তথ্য তুলে ধরতে সচেষ্ট।
রিলেটেড আরটিকেল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

জনপ্রিয় নিউজ