স্কুলে গানের নয়, ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দেন: শিক্ষক নেতাদের দাবি

বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে। জাতীয় শিক্ষক ফোরামের নেতারা বলছেন, স্কুলে গানের শিক্ষক নিয়োগের পরিবর্তে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, দেশের শিশুদের নৈতিক শিক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ গড়ে তুলতে এই পদক্ষেপ জরুরি।

শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধনে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। জাতীয় শিক্ষক ফোরাম ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব কী?
জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক নাছির উদ্দীন জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে সবাই আশা করেছিল যে ধর্মীয় শিক্ষাকে আর উপেক্ষা করা হবে না। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ধর্মীয় শিক্ষকের পদ তৈরি না করে বরং নাচ-গানের জন্য ৬৫ হাজার ৫০০টি পদ তৈরি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “শৈশব থেকেই শিশুদের নৈতিক মূল্যবোধ শেখানো দরকার। গানের পাঠ ভালো কিন্তু তার চেয়েও বেশি প্রয়োজন ধর্মীয় শিক্ষা। এটি শিশুদের চরিত্র গঠনে সাহায্য করে এবং তাদের সৎ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।”
বর্তমান পরিস্থিতি কেমন?

বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় এখন পর্যন্ত ধর্মীয় শিক্ষা তেমন গুরুত্ব পায়নি। বেশিরভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষকের আলাদা পদ নেই। অথচ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য হাজার হাজার নতুন পদ তৈরি করা হচ্ছে।

শিক্ষক নেতারা মনে করেন, এই ব্যবস্থা বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার বিপরীত। তারা চান যে, প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অন্তত একজন করে ধর্মীয় শিক্ষক থাকুক।
শিক্ষাবিদদের মতামত কী?

শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নৈতিক শিক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ শিশুদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একই সাথে সাংস্কৃতিক শিক্ষাও প্রয়োজনীয়। তাই দুটি বিষয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া উচিত।

ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি ড. মাছুম রব্বানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে আরও অনেক শিক্ষক নেতা অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি মাও. এবিএম জাকারিয়া এবং সেক্রেটারি জেনারেল প্রভাষক ডা. আবদুস সবুর।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

জাতীয় শিক্ষক ফোরামের নেতারা জানিয়েছেন, তারা সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক দাবি জানাবেন। তাদের প্রধান দাবি হলো:

প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। এর পাশাপাশি গানের শিক্ষক নিয়োগের সংখ্যা কমিয়ে আনতে হবে। তারা বিশ্বাস করেন যে, ধর্মীয় শিক্ষা শিশুদের মানসিক ও নৈতিক বিকাশে বেশি সাহায্য করবে।
জনমতে প্রতিক্রিয়া কেমন?

এই দাবি নিয়ে সমাজে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেক অভিভাবক মনে করেন, ধর্মীয় শিক্ষা শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয়। তারা বলেন, নৈতিক মূল্যবোধ শেখানোর জন্য ধর্মীয় শিক্ষকের বিকল্প নেই।

অন্যদিকে, কিছু মানুষ মনে করেন যে সাংস্কৃতিক শিক্ষাও একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গান ও নৃত্য শিশুদের সৃজনশীলতা বাড়ায় এবং তাদের মানসিক বিকাশে সাহায্য করে।
সরকারের ভূমিকা কী হবে?

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মতামত দেয়নি। তবে শিক্ষাবিদরা আশা করছেন যে, সরকার সব পক্ষের মতামত শুনে একটি সুষম সিদ্ধান্ত নেবে।

প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় যেকোনো পরিবর্তন শিশুদের ভবিষ্যতের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

বর্তমানে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নানা ধরনের সংস্কার চলছে। শিক্ষক নিয়োগের এই বিতর্কও সেই সংস্কারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী দিনে এ নিয়ে আরও আলোচনা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

ইকরাম শেখ
ইকরাম শেখ
ইকরাম শেখ শিক্ষা খাতের বিভিন্ন আপডেট নিয়ে লেখালেখি করেন। তিনি সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন এবং তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে আগ্রহী। নতুন কোনো ভর্তি বা ফলাফল সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের আগে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত নোটিশ যাচাই করেন। তিনি নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী তথ্য তুলে ধরতে সচেষ্ট।
রিলেটেড আরটিকেল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

জনপ্রিয় নিউজ