৪৭তম বিসিএসের প্রিলি পরীক্ষায় বসছেন পৌনে ৪ লাখ চাকরিপ্রার্থী: আজ সকাল ১০টায় শুরু

আজ শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় অংশ নিতে আবেদন করেছেন তিন লাখ ৭৪ হাজার ৭৪৭ জন চাকরিপ্রার্থী, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ পরীক্ষার্থীর সংখ্যা। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) জানিয়েছে যে, সকাল ১০টায় শুরু হয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলবে এই পরীক্ষা।

কোথায় হচ্ছে পরীক্ষা?

৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে দেশের ৮টি বিভাগীয় শহরে মোট ২৫৬টি কেন্দ্রে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে ঢাকায় রয়েছে ১১৩টি কেন্দ্র। অন্যান্য বিভাগীয় শহরগুলো হলো রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, নকল, অনিয়ম, প্রক্সি এবং জালিয়াতি প্রতিরোধে ঢাকার প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া পিএসসি সচিবালয়ের কন্ট্রোল রুমে অতিরিক্ত ৭ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

কতজনের জন্য কত পদ?

৪৭তম বিসিএসে মোট ৩ হাজার ৬৮৮টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে ক্যাডার পদ ৩ হাজার ৪৮৭টি এবং নন-ক্যাডার পদ ২০১টি। অর্থাৎ প্রতিটি পদের জন্য প্রায় ১০১ জন প্রার্থী প্রতিযোগিতা করবেন, যা প্রমাণ করে এই পরীক্ষার তীব্র প্রতিযোগিতার মাত্রা।

এই বিসিএসে কিছু নতুন পদ যুক্ত হয়েছে, যা চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে আরও আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। বিসিএস ক্যাডারদের মধ্যে রয়েছে প্রশাসন, পুলিশ, বিদেশ, কর, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা।

পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ নিয়মকানুন

৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছতে হবে। সাড়ে ৯টার পর কোনো পরীক্ষার্থী হলে প্রবেশ করতে পারবেন না। পরীক্ষার হল ও কক্ষ নম্বর আগে থেকেই মেসেজের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের মোবাইল নম্বরে পাঠানো হবে।

প্রবেশপত্র ছাড়া কোনো পরীক্ষার্থী হলে প্রবেশ করতে পারবেন না। যদি কেউ প্রবেশপত্র হারিয়ে ফেলেন, তাহলে কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে নতুন করে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

কী আনা যাবে না পরীক্ষা কেন্দ্রে?

পরীক্ষা কেন্দ্রে বিভিন্ন জিনিস আনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এর মধ্যে রয়েছে বই-পুস্তক, সব ধরনের ঘড়ি, মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ব্যাগ, গহনা এবং ব্যাংক কার্ড বা ক্রেডিট কার্ডের মতো যেকোনো ডিভাইস।

পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের তল্লাশি করা হবে। যদি কেউ নিষিদ্ধ সামগ্রীসহ হলে প্রবেশ করার চেষ্টা করেন বা নকলের সাথে জড়িত থাকেন, তাহলে তার প্রার্থিতা বাতিল হবে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও নম্বর বণ্টন

৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় মোট ২০০টি এমসিকিউ প্রশ্ন থাকবে। প্রতিটি সঠিক উত্তরে পরীক্ষার্থী ১ নম্বর পাবেন। তবে প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.৫০ নম্বর কাটা যাবে। এই নেগেটিভ মার্কিং ব্যবস্থার কারণে পরীক্ষার্থীদের সাবধানতার সাথে উত্তর দিতে হবে।

প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্রে ৪টি সেট থাকবে – সেট ১, ২, ৩ ও ৪। পরীক্ষার্থী যে সেট নম্বরের উত্তরপত্র পাবেন, তাকে সেই সেট নম্বরের প্রশ্নপত্র দেওয়া হবে। এই ব্যবস্থা নকল প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা

প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য পিএসসি বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী প্রার্থীদের জন্য কমিশনের মনোনীত শ্রুতলেখক নিয়োগ করা হয়েছে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে প্রতি ঘণ্টার জন্য ১০ মিনিট এবং অন্যান্য প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে প্রতি ঘণ্টার জন্য ৫ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে।

আবেদনের পরিসংখ্যান ও যোগ্যতা

৪৭তম বিসিএসের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে এবং শেষ হয় ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪। ১ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে যেসব প্রার্থীর বয়স ২১ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে ছিল, তারা আবেদন করতে পেরেছেন।

এবারের তিন লাখ ৭৪ হাজারের বেশি আবেদনকারী বাংলাদেশে সরকারি চাকরির প্রতি তরুণদের আগ্রহের প্রমাণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উচ্চ বেকারত্বের হার এবং সরকারি চাকরির নিরাপত্তা ও মর্যাদার কারণে এই পরীক্ষায় এত বেশি প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন।

পরীক্ষা পরবর্তী পর্যায়

৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া প্রার্থীরা লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এরপর থাকবে মৌখিক পরীক্ষা বা ভাইভা। সাধারণত প্রিলিমিনারি পরীক্ষা থেকে ১০-১৫ গুণ বেশি প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।

বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দেশের প্রশাসনিক কাঠামোর মূল ভিত্তি। তারা বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, মন্ত্রণালয়, আদালত, পুলিশ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

পরীক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ

৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন আত্মবিশ্বাসী থাকতে এবং সময় ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা দেখাতে। ২০০টি প্রশ্নের জন্য ২ ঘণ্টা সময় পাওয়া যাবে, অর্থাৎ গড়ে প্রতিটি প্রশ্নের জন্য ৩৬ সেকেন্ড সময়।

ইকরাম শেখ
ইকরাম শেখ
ইকরাম শেখ শিক্ষা খাতের বিভিন্ন আপডেট নিয়ে লেখালেখি করেন। তিনি সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন এবং তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে আগ্রহী। নতুন কোনো ভর্তি বা ফলাফল সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের আগে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত নোটিশ যাচাই করেন। তিনি নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী তথ্য তুলে ধরতে সচেষ্ট।
রিলেটেড আরটিকেল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

জনপ্রিয় নিউজ