সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হওয়ার যে খবর ছড়িয়ে পড়েছে, সেটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং মিথ্যা বলে জানিয়েছেন বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম।
এনটিআরসিএ চেয়ারম্যানের স্পষ্ট বক্তব্য
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে দেওয়া একচেটিয়া সাক্ষাতকারে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, “১৯তম নিবন্ধন কিংবা শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি কবে প্রকাশিত হবে সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি। বিষয়টি সম্পূর্ণ ভুয়া।”
চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলামের এই স্পষ্ট বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, ১৬ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ নিয়ে যে গুজব ছড়িয়েছে তা একেবারেই ভিত্তিহীন। তিনি আরও জানান যে, এ বিষয়ে এনটিআরসিএর কোনো অফিসিয়াল সভাও হয়নি।
শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতিতে আসছে বড় পরিবর্তন
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন পদ্ধতি চালু করার পরিকল্পনা করছে এনটিআরসিএ। নতুন এই পদ্ধতিতে লিখিত পরীক্ষা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর পরিবর্তে কেবলমাত্র প্রিলিমিনারি এবং ভাইভার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করার কথা ভাবা হচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “এনটিআরসিএর নিয়োগ পরীক্ষায় ১৫-২০ লাখ প্রার্থী আবেদন করে থাকেন। বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হলে খাতা মূল্যায়নে দীর্ঘ সময় লাগবে। সেজন্য কেবলমাত্র এমসিকিউ পদ্ধতিতে মূল্যায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।”
তিন বিভাগের জন্য একই নম্বর বিতরণ
নতুন পরীক্ষা পদ্ধতিতে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি তিন বিভাগের জন্যই ২০০ নম্বরের পরীক্ষার প্রস্তাব করা হয়েছে। যদিও প্রথমে স্কুল-কলেজ এবং কারিগরিতে ১০০ নম্বর সাবজেক্টিভ এবং ১০০ নম্বর জেনারেল এবং মাদ্রাসার জন্য ১৪০ নম্বর সাবজেক্টিভ এবং ৬০ নম্বর জেনারেল করার প্রস্তাব ছিল।
তবে এভাবে বিভাজন করলে বৈষম্য তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এজন্য তিন বিভাগের জন্য নম্বর প্যাটার্ন একই রকম রাখার চিন্তা করা হচ্ছে।
প্রথমবারের মতো যুক্ত হতে পারে ভাইভার নম্বর
এনটিআরসিএর নিবন্ধন পরীক্ষায় কখনোই প্রার্থীদের ভাইভার নম্বর যুক্ত করা হয়নি। কিন্তু এবার প্রথমবারের মতো ভাইভার নম্বর যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে নিবন্ধনের পরিবর্তে নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন করা হওয়ায় ভাইভার নম্বর যুক্ত করার ব্যাপারে ইতিবাচক শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
মাউশির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “বিসিএসসহ সব ধরনের চাকরির পরীক্ষায় ভাইভার নম্বর যুক্ত করা হয়। আমরাও এনটিআরসিএর নিয়োগ পরীক্ষায় ভাইভার নম্বর যুক্ত করার মতামত দিয়েছি। ভাইভার নম্বর যুক্ত না হলে প্রার্থীদের প্রকৃত মেধা যাচাই করা সম্ভব হবে না।”
কবে প্রকাশিত হবে ১৯তম বিজ্ঞপ্তি?
১৯তম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি কবে প্রকাশিত হবে সে বিষয়ে এখনও কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, এ বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, আগামী এনটিআরসিএর বোর্ড সভায় এই বিষয়ে আলোচনা করা হবে। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের সভায় সবকিছু চূড়ান্ত করা হবে।
প্রার্থীদের জন্য সতর্কতা
শিক্ষক নিয়োগ প্রত্যাশী প্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যেকোনো গুজবে কান না দেওয়া। ১৯তম নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য শুধুমাত্র এনটিআরসিএর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং সরকারি সূত্র থেকে তথ্য নেওয়া উচিত।
নকল ও ভুয়া তথ্য প্রার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং অপ্রয়োজনীয় চাপ বাড়ায়। তাই সবসময় নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এনটিআরসিএ তাদের অফিসিয়াল চ্যানেল ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যমে ১৯তম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির তারিখ ঘোষণা করবে না বলে নিশ্চিত করেছে চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম।
