আজ ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ডাকসু নির্বাচন। দীর্ঘ ছয় বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি পার্লামেন্ট খ্যাত ডাকসু (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবারের নির্বাচনে ভোটদানের জন্য বিশেষ নিয়মকানুন রয়েছে যা সকল শিক্ষার্থীর জানা প্রয়োজন।
ব্যালট পেপারে ভোটদানের সঠিক নিয়ম
চিফ রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানিয়েছেন যে ব্যালট পেপারে ভোট দেওয়ার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে থাকা চারকোণা বক্সে নির্ধারিত কালো কালির কলম দিয়ে গাঢ়ভাবে ক্রস চিহ্ন (×) দিতে হবে। এই ক্রস চিহ্নটি অবশ্যই বক্সের সকল কোণা স্পর্শ করতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভোটাররা টিক (✓) চিহ্ন দিতে পারবেন না। একমাত্র ক্রস (×) চিহ্ন দিয়েই ভোট প্রদান করতে হবে। এই নিয়ম মানা না হলে ভোট বাতিল হয়ে যেতে পারে।
এবারের ব্যালট পেপারের বিশেষত্ব
এবারের ডাকসু নির্বাচনে ব্যালট পেপারের আকার অন্য সময়ের চেয়ে অনেক বড়। ডাকসুর জন্য পাঁচ পৃষ্ঠার ব্যালট পেপার রয়েছে, আর হল সংসদের জন্য এক পৃষ্ঠার ব্যালট পেপার রয়েছে। ভোট দিতে হবে অপটিক্যাল মার্ক রিকগনিশন (ওএমআর) শিট-এ।
ব্যালট পেপারের আকার বড় হওয়ার কারণে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে যথেষ্ট সময় নিয়ে ভোট দিতে হবে। একটু ভুল হলেই ভোট নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভোটদানের সময় ও স্থান
ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোটদান শুরু হবে সকাল ৮টা থেকে এবং চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের নির্ধারিত আটটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে। সকল ভোটকেন্দ্র হলের বাইরে স্থাপন করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা ব্রেইল পদ্ধতির ব্যালট ব্যবহার করে তাদের প্রিয় প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন।
এবারের নির্বাচনের পরিসংখ্যান
এবারের ডাকসু নির্বাচনে মোট ৪৭১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে নারী প্রার্থী ৬২ জন এবং পুরুষ প্রার্থী ৪০৯ জন রয়েছেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী মোট ভোটার সংখ্যা ৩৯,৭৭৫ জন।
বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন যেমন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্রশিবির, বামজোট, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ, ছাত্র অধিকার পরিষদ তাদের নিজস্ব প্যানেল নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। এছাড়াও কয়েকশত স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ভোট প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
ব্যালট পেপারে ভোট দেওয়ার সময় কিছু বিশেষ বিষয় মনে রাখতে হবে। প্রথমত, ব্যালট পেপার ভাঁজ করা যাবে না। দ্বিতীয়ত, কেবলমাত্র নির্ধারিত কালো কলম ব্যবহার করতে হবে। তৃতীয়ত, বক্সের মধ্যে স্পষ্ট ক্রস চিহ্ন দিতে হবে।
যদি কোনো শিক্ষার্থী ভুলভাবে ভোট দেন বা ব্যালট নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে তারা নতুন ব্যালট পেপার চাইতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা
এবারের ডাকসু নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত নির্বাচনী কর্মকর্তা ও পর্যবেক্ষক থাকবেন যারা ভোটদান প্রক্রিয়া তদারকি করবেন। শিক্ষার্থীরা যেন নির্বিঘ্নে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
শেষ কথা
ছয় বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ডাকসু নির্বাচন বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর এই প্রথম কোনো ছাত্রসংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকল শিক্ষার্থীকে সচেতনভাবে ভোট প্রদান করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে হবে।
ব্যালট পেপারে ক্রস চিহ্ন দেওয়ার নিয়ম মেনে চলে সকল শিক্ষার্থী তাদের পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে পারবেন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবেন।

