বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এসেছে। আগামী ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে সব অনার্স কোর্সের শিক্ষার্থীদের জন্য আইসিটি বিষয় পড়া বাধ্যতামূলক হয়ে গেছে। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
আইসিটি বিষয় কেন আবশ্যিক করা হলো?
আজকের ডিজিটাল যুগে প্রযুক্তির গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। তাই প্রতিটি বিষয়ের শিক্ষার্থীদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পর্কে জানা জরুরি হয়ে পড়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ এর আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন যে আইসিটি বিষয় বাধ্যতামূলক করা হবে। সেই ঘোষণা অনুযায়ী এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
কী কী বিষয় পড়তে হবে?
নতুন নিয়মানুযায়ী শিক্ষার্থীদের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিষয়ে দুইটি কোর্স সম্পন্ন করতে হবে। একটি হবে তত্ত্বীয় কোর্স এবং অন্যটি ব্যবহারিক কোর্স। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কম্পিউটার এবং প্রযুক্তি সম্পর্কে হাতে-কলমে শিখতে পারবে।
কারা পড়াবেন এই বিষয়?
প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে কোন ধরনের শিক্ষকরা এই বিষয় পড়াতে পারবেন। প্রথম অগ্রাধিকার পাবেন আইসিটি, কম্পিউটার সায়েন্স, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষকরা।
এছাড়া যেসব শিক্ষক আইসিটি বিষয়ে টিওটি, সিইডিপি, এনএসডিএ, বিটিইডি বা বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, তারাও পড়াতে পারবেন। ইউজিসি স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট-গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমাধারী শিক্ষকরাও এই সুযোগ পাবেন।
বিকল্প ব্যবস্থা কী?
যদি উল্লিখিত বিষয়ের কোনো শিক্ষক না থাকেন, তাহলে অন্যান্য বিষয়ের শিক্ষকরাও পড়াতে পারবেন। এর মধ্যে রয়েছে পদার্থবিজ্ঞান, গণিত, রসায়ন, পরিসংখ্যান, প্রাণিবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা, মৃত্তিকা বিজ্ঞান, প্রাণ রসায়ন, ভূগোল ও পরিবেশ এবং পরিবেশ বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষকরা।
প্রয়োজনে সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ বা বেসরকারি কলেজের গভর্নিং বডি জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত কম্পিউটার প্রোগ্রামার বা সহকারী প্রোগ্রামার বা আইসিটি বিষয়ে পারদর্শী রিসোর্স পার্সনকে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করতে পারবেন।
কখন থেকে কার্যকর হবে?
এই প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকেই এই নিয়ম চালু হয়ে যাবে। সব স্নাতক (সম্মান) প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের এই বিষয় পড়তে হবে, তারা যে বিভাগেই থাকুন না কেন।
শিক্ষার্থীদের জন্য এর গুরুত্ব
এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। আজকের যুগে যেকোনো চাকরিতে কম্পিউটার দক্ষতা প্রয়োজন। আইসিটি বিষয় পড়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আধুনিক প্রযুক্তির সাথে পরিচিত হবে। এটি তাদের ভবিষ্যত ক্যারিয়ারে অনেক সাহায্য করবে।
বাংলাদেশ সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছে। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজন দক্ষ জনশক্তি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পদক্ষেপ সেই দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
এই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় একটি নতুন মাত্রা যোগ হলো। সব বিষয়ের শিক্ষার্থীরা এখন প্রযুক্তিগত জ্ঞান নিয়ে বের হবে, যা তাদের কর্মজীবনে সফল হতে সাহায্য করবে।
