বাংলাদেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য একটি আনন্দের খবর এসেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তাদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই অনুমোদনের মাধ্যমে দেশের প্রায় পৌনে চার লাখ শিক্ষক-কর্মচারী উপকৃত হবেন।
কতজন শিক্ষক-কর্মচারী এই সুবিধা পাবেন?
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত এই প্রস্তাবে মোট ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৭৫২ জন শিক্ষক-কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এর মধ্যে স্কুল পর্যায়ে রয়েছেন ২ লাখ ৮৮ হাজার ৫৭৫ জন এবং কলেজ পর্যায়ে রয়েছেন ৮৬ হাজার ১৭৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষাকর্মী দেশের ১৯ হাজার ৭৪৪টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাজ করেন।
রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতনের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল এবং সেটি অনুমোদন পেয়েছে।
কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে সেপ্টেম্বরের বেতনের জন্য?
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতার জন্য মোট ৯৯৭ কোটি ৯১ লাখ ৪ৃ হাজার ৩৯৪ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে প্রদান করা হবে। এই বরাদ্দের মধ্যে রয়েছে মূল বেতন, বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা এবং বিশেষ সুবিধা।
ইএমআইএস সেল থেকে প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী এই তথ্য জানা গেছে। এর মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা সরকারি কর্মকর্তাদের মতো একই সুবিধা পাবেন।
কোন কোন প্রতিষ্ঠান এই সুবিধার আওতায় রয়েছে?
এই বেতন অনুমোদনের আওতায় রয়েছে দেশের ১৭ হাজার ১৪৫টি স্কুল এবং ২ হাজার ৫৯৯টি কলেজ। এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী এই সুবিধা পাবেন। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এই শিক্ষকগণ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন।
কীভাবে বেতন প্রদান করা হবে?
শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের টাকা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে প্রদানের জন্য ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিল অনলাইনে সাবমিট করতে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এই নতুন ইএফটি পদ্ধতি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন। এর আগে তাদের বেতন রাষ্ট্রায়ত্ত আটটি ব্যাংকের মাধ্যমে অ্যানালগ পদ্ধতিতে প্রদান করা হতো, যার কারণে অর্থ তুলতে শিক্ষকদের নানা ভোগান্তিতে পড়তে হতো।
প্রতিষ্ঠান প্রধানদের দায়িত্ব
শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল তথ্য প্রদানের কারণে কোনো শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিওর টাকা ইএফটিতে না পাঠানো হলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার প্রতিষ্ঠান প্রধানের উপর বর্তাবে। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হচ্ছে যে প্রতিটি যোগ্য শিক্ষক-কর্মচারী তাদের প্megabytes বেতন-ভাতা পাবেন।
শিক্ষা ব্যবস্থায় এই অনুমোদনের গুরুত্ব
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সেপ্টেম্বরের বেতন অনুমোদন বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা দেশের লাখো শিক্ষার্থীকে শিক্ষা প্রদান করে থাকেন। তাদের সময়মতো বেতন প্রদান শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেমন ইএফটির মাধ্যমে বেতন-ভাতা পান, এখন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরাও একই সুবিধা পাবেন। এর ফলে তাদের আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে এবং শিক্ষকতা পেশায় আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারবেন।
উপসংহার
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই বেতন অনুমোদন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য একটি স্বস্তিকর খবর। ৯৯৷ কোটি টাকার এই বরাদ্দ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। ইএফটি পদ্ধতিতে বেতন প্রদান শিক্ষকদের ভোগান্তি কমিয়ে আনবে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে অবদান রাখবে।
বাংলাদেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩ লাখ ৭৪ হাজারেরও বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এই সুবিধা পেয়ে আরও উৎসাহিত হয়ে শিক্ষাদানে মনোনিবেশ করতে পারবেন। এর ফলে দেশের শিক্ষার্থীরা আরও ভালো শিক্ষাসেবা পাবে এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে।
