ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আজ রাতে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের উপর হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে এসেছেন। শুক্রবার মধ্যরাতে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে পুরো ঢাবি ক্যাম্পাস উত্তাল হয়ে উঠেছে।
কী ঘটেছিল আজ রাতে?
শুক্রবার রাত ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে একটি বড় ঘটনা ঘটে। গণঅধিকার পরিষদের নেতারা সেখানে জড়ো হলে জাপা নেতাকর্মীদের সাথে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয়।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী গণঅধিকার পরিষদের নেতাদের ১০ মিনিট সময় দিয়ে ঘটনাস্থল ছাড়তে বলে। কিন্তু তারা না যাওয়ায় সেখানে ব্যাপক লাঠিচার্জ শুরু হয়। এই লাঠিচার্জে নুরুল হক নুরসহ অনেকেই গুরুতর আহত হন।
নুরুল হক নুরের অবস্থা কেমন?
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান জানিয়েছেন যে নুরুল হক নুরের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। তিনি বলেন, “হামলায় নুরুল হক নুরের নাক ফেটে গেছে। তার চোখের অবস্থা খুবই খারাপ। তার হাত ভেঙে গেছে। তিনি এখন মুমূর্ষু অবস্থায় আছে।”
রাশেদ খান আরও জানান যে তিনি নিজেও এই হামলার শিকার হয়েছেন। নুরুল হক নুরকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া
এই হামলার খবর পেয়েই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসেন। মধ্যরাতেই বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন তারা। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা বলেছেন, “হাসিনার ফ্যাসিবাদী সহযোগীরা আজ নুরের ওপর হামলা করেছে। তাদের চিহ্নিত করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।” তারা আরও বলেন যে জাতীয় পার্টি আবার পুরানো শাসকদের ফিরিয়ে আনতে চায়।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া
নুরুল হক নুরের উপর এই হামলার ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের নিন্দা জানিয়েছে। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ অনেক দল এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি তাৎক্ষণিক বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। তারা এই হামলার বিচার দাবি করেছে।
এমনকি আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন, “ভিপি নুরুল হক নূরের ওপর বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
আগামীকাল কী হতে পারে?
গণঅধিকার পরিষদ জানিয়েছে যে আগামীকাল শনিবার দুপুর ১২টায় দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন যে তারা জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের দাবি জানাবেন। তারা বলেছেন এই ধরনের হামলার বিচার না হলে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
এই ঘটনা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
নুরুল হক নুর শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি ডাকসুর সাবেক ভিপি এবং ছাত্র আন্দোলনের একজন পরিচিত মুখ। শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি একজন জনপ্রিয় নেতা। তাই তার উপর হামলার ঘটনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
এছাড়া, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ধরনের হামলার ঘটনা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। শিক্ষার্থীরা মনে করছেন যে এটি মত প্রকাশের স্বাধীনতার উপর আঘাত।
পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে?
এই মুহূর্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা তাদের বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে।
নুরুল হক নুরের চিকিৎসা চলমান রয়েছে। ডাক্তাররা তার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে রাখছেন। শিক্ষার্থী এবং রাজনৈতিক নেতারা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।
এই ঘটনা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। শিক্ষার্থী আন্দোলন এবং রাজনৈতিক সহিংসতার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।
