প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের ওএমআর মূল্যায়ন করছে বুয়েট, ফল প্রকাশ বুধবার

বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১১ হাজারেরও বেশি প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত এমসিকিউ পরীক্ষার ওএমআর শিট মূল্যায়নের কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বুধবারই ফল প্রকাশ করতে যাচ্ছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের সহায়তায় এই মূল্যায়ন কার্যক্রম চলছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এনটিআরসিএ সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে এনটিআরসিএর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ওএমআর শিট মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে গতকাল রবিবার অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় সিদ্ধান্ত বদলে বুয়েটের মাধ্যমে খাতা মূল্যায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ সোমবার দুপুরের পর থেকেই শুরু হয়েছে ওএমআর শিট স্ক্যানিং-এর কাজ। স্ক্যানিং ও মূল্যায়ন শেষে শিক্ষামন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান পদের এমসিকিউ পরীক্ষার ফলাফল বুধবার প্রকাশ করা হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের এমসিকিউ’র ফল প্রকাশের একটি সম্ভাব্য সময় আগে থেকেই নির্ধারিত রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এবং শিক্ষামন্ত্রী অনুমতি দিলে বুধবারই ফল প্রকাশ করা হবে।” তাঁর এই বক্তব্যে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন লক্ষাধিক পরীক্ষার্থী, যাঁরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন।

উল্লেখ্য, গত শনিবার রাজধানী ঢাকার ৯টি কেন্দ্রে চার শিফটে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই পরীক্ষায় অংশ নিতে আবেদন করেছিলেন মোট ৫৩ হাজার ৬৯ জন প্রার্থী। পরীক্ষার সময়সূচি অনুযায়ী ‘ক’ গ্রুপের পরীক্ষা সকাল ৯টা থেকে ১০টা, ‘খ’ গ্রুপের পরীক্ষা বেলা ১১টা ৩০ মিনিট থেকে ১২টা ৩০ মিনিট, ‘গ’ গ্রুপের পরীক্ষা দুপুর ২টা থেকে ৩টা এবং ‘ঘ’ গ্রুপের পরীক্ষা বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট থেকে ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ পরিবেশে পরীক্ষাটি সম্পন্ন হয়েছে বলে এনটিআরসিএ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এটি একটি ঐতিহাসিক নিয়োগ প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান পদে প্রথমবারের মতো এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ সুপারিশ করা হচ্ছে। এই নিয়োগের আওতায় মোট ১১ হাজার ১৫১টি শূন্য পদে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করা হবে। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ৭ হাজার ৯০৮টি, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ১১২টি এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ৩ হাজার ১৩১টি পদ রয়েছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বুয়েটের মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ওএমআর মূল্যায়ন করানোর ফলে পরীক্ষার ফলাফলে স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত হবে। আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত সফটওয়্যার ব্যবহার করে দ্রুততম সময়ে নির্ভুল ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে করে ভুল বা বিতর্ক এড়ানো যাবে এবং প্রার্থীদের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস দুটোই বজায় থাকবে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে এনটিআরসিএ সূত্র জানিয়েছে, এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের পরবর্তীতে লিখিত পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) অংশ নিতে হবে। সবগুলো ধাপ সফলভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত নিয়োগ সুপারিশের জন্য বিবেচনায় নেওয়া হবে। ফল প্রকাশের পর এনটিআরসিএর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ntrca.gov.bd-তে ফলাফল দেখা যাবে, যেখানে প্রার্থীরা নিজ নিজ রোল নম্বর দিয়ে ফলাফল যাচাই করতে পারবেন।

লক্ষাধিক চাকরিপ্রত্যাশীর নজর এখন এনটিআরসিএর প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফলের দিকে। বুধবার ফল প্রকাশিত হলে তা দেশের বেসরকারি শিক্ষা খাতে যোগ্য নেতৃত্ব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেই মনে করছেন শিক্ষাবিদরা। ফল প্রকাশ সংক্রান্ত যেকোনো হালনাগাদ তথ্য ও পরবর্তী নির্দেশনার জন্য প্রার্থীদের এনটিআরসিএর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও বিজ্ঞপ্তি নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তাসনিম লাবু
তাসনিম লাবু
তাসনিম আক্তার লাবনি শিক্ষা ও ভর্তি সংক্রান্ত সংবাদ সহজভাবে উপস্থাপনের জন্য কাজ করেন। তিনি ইংরেজি বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন এবং জটিল নোটিশকে পরিষ্কার ভাষায় ব্যাখ্যা করতে দক্ষ। তিনি সবসময় তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে অফিসিয়াল সার্কুলার ও বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করেন। তার লেখার উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্তি কমানো।
রিলেটেড আরটিকেল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

জনপ্রিয় নিউজ