আজ ২৩ আগস্ট ২০২৫ তারিখে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। রাজধানীর সাতটি প্রতিষ্ঠিত সরকারি কলেজ নিয়ে গঠিত এই প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথমবারের মতো ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আজকের দিনে বিজ্ঞান ইউনিট এবং ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের শিক্ষার্থীরা তাদের স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন।
আজকের পরীক্ষার সময়সূচী
আজকের পরীক্ষার সময়সূচী অনুযায়ী, সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই দুটি ইউনিটের মাধ্যমে হাজার হাজার শিক্ষার্থী তাদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেছেন।
ভর্তির সুযোগ ও আবেদনকারীর সংখ্যা
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে এবার তিনটি ইউনিটে মোট প্রায় সাড়ে ১১ হাজার শিক্ষার্থী চার বছর মেয়াদি স্নাতক সম্মান শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ পাবেন। এই সীমিত আসনসংখ্যার জন্য প্রতিযোগিতা করেছেন প্রায় ৭২ হাজার শিক্ষার্থী। এই বিপুল সংখ্যক আবেদনকারী প্রমাণ করে যে, নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কতটা ব্যাপক।
পরীক্ষার কাঠামো ও মূল্যায়ন পদ্ধতি
বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে এমসিকিউ পদ্ধতিতে মোট ১০০ নম্বরের উপর। এই ইউনিটে এইচএসসি পাঠ্যসূচি থেকে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান এবং গণিত – এই চারটি বিষয় থেকে প্রশ্ন এসেছে। প্রতিটি বিষয়ের জন্য বরাদ্দ ছিল ২৫ নম্বর করে।
ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটেও একই নিয়মে এক ঘণ্টার এমসিকিউ পরীক্ষায় মোট ১০০ নম্বর বরাদ্দ ছিল। উভয় ইউনিটেই পাশ নম্বর নির্ধারিত হয়েছে ৪০। এর মানে হলো, কমপক্ষে ৪০ নম্বর না পেলে কোনো শিক্ষার্থী পরবর্তী ধাপে এগোতে পারবেন না।
প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রশাসক ও ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস জানিয়েছেন যে, পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর নিকটবর্তী থানার সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে সার্বিক নিরাপত্তার জন্য। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে পরীক্ষায় সহযোগিতা করেছেন।
মেধাক্রম নির্ধারণ ও ভর্তি প্রক্রিয়া
ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মেধাক্রম তৈরি হবে মোট ১২০ নম্বরের ভিত্তিতে। এর মধ্যে এসএসসি থেকে ১০ নম্বর, এইচএসসি থেকে ১০ নম্বর এবং ভর্তি পরীক্ষার ১০০ নম্বর যোগ করা হবে। এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের সার্বিক শিক্ষাগত যোগ্যতার একটি সুষম মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে।
আগামী পদক্ষেপসমূহ
পরীক্ষার পর শিক্ষার্থীদের অনলাইনে কলেজ ও বিষয় পছন্দ দিতে হবে। আগামী ২০ অক্টোবর বিষয় বরাদ্দ প্রকাশ করা হবে এবং ২৫ অক্টোবর ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। সবশেষে ৩০ অক্টোবর থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রবেশপত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্য
শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে হয়েছে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (https://collegeadmission.eis.du.ac.bd) থেকে। আসন বিন্যাস প্রকাশ করা হয়েছিল ২০ আগস্ট। পরীক্ষার দিন শিক্ষার্থীদের আধা ঘণ্টা আগে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হয়েছে এবং অবশ্যই প্রবেশপত্র সাথে রাখতে হয়েছে।
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাজধানীর সাতটি ঐতিহ্যবাহী সরকারি কলেজ এখন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এসেছে। এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। শিক্ষার্থীরা এখন আরও উন্নত শিক্ষাগত সুবিধা এবং গবেষণার সুযোগ পাবেন।
আজকের এই ঐতিহাসিক ভর্তি পরীক্ষা বাংলাদেশের শিক্ষা ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। হাজার হাজার তরুণ-তরুণীর স্বপ্ন বাস্তবায়নের এই প্রক্রিয়া শুধু তাদের ব্যক্তিগত জীবনে নয়, বরং দেশের মানব সম্পদ উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
