দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠনে বড় পরিবর্তন এসেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন গেজেট জারি করে জানিয়েছে যে, এখন থেকে কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি একই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি থাকতে পারবেন না। একই সাথে সভাপতি হতে হলে কমপক্ষে স্নাতক বা সমমান ডিগ্রি থাকতে হবে।
নতুন নিয়মের মূল বিষয়গুলো
শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে এবার কঠোর নিয়ম করা হয়েছে। বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজের গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে হলে অবশ্যই স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অথবা ৪ বছর মেয়াদি স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। এই নিয়মটি সব ধরনের নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হবে।
মেয়াদের সীমাবদ্ধতা নিয়ে নতুন যে নিয়ম এসেছে, তা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি একই প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডিতে পর পর ২ বারের বেশি সভাপতি হতে পারবেন না। তবে এক মেয়াদ বিরতির পর আবার সভাপতি হওয়ার সুযোগ থাকবে। এই নিয়মের ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় নতুন মুখ দেখার সুযোগ তৈরি হবে।
কারা সভাপতি হতে পারবেন
নতুন প্রবিধানমালা অনুযায়ী, বেশ কয়েক ধরনের ব্যক্তি সভাপতি পদের জন্য প্রস্তাবিত হতে পারবেন। সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৯ম গ্রেডের নিচে নন এমন কর্মকর্তারা এই পদের জন্য যোগ্য। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক বা অধ্যাপকরাও সভাপতি হতে পারবেন।
প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতাদের জন্যও সভাপতি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া এমবিবিএস, প্রকৌশল, কৃষি বা অন্য কারিগরি বিষয়ে ৪ বছর মেয়াদি স্নাতক ডিগ্রিধারী যারা সরকারি প্রতিষ্ঠানে উপযুক্ত পদে কাজ করেন, তারাও সভাপতি পদের জন্য প্রস্তাবিত হতে পারবেন।
প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নতুন দিক
এই নিয়মের ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। একজন ব্যক্তি একসাথে সর্বোচ্চ ৩টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। এর বেশি নয়। এই সীমাবদ্ধতার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নে আরও মনোযোগী হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
শিক্ষক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও নতুন ব্যবস্থা এসেছে। মাধ্যমিক স্তরের প্রতিষ্ঠানে সব শিক্ষকের ভোটে ২ জন সাধারণ শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন। যদি প্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক স্তর সংযুক্ত থাকে, তাহলে মাধ্যমিক ও প্রাথমিক স্তর থেকে একজন করে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন।
গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়ন
গত বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এই গেজেট জারি করা হয়েছে। সব শিক্ষা বোর্ডে এই গেজেটের কপি পাঠানো হয়েছে যাতে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কমিটি গঠনের কাজ শুরু করা যায়। এই প্রবিধানমালা-২০২৪ অনুযায়ী এখন থেকে সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন কমিটি গঠন করতে হবে।
নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য। নিয়মটি কার্যকর হওয়ার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে এবং আরও যোগ্য ব্যক্তিরা নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব
এই নতুন নিয়মের ফলে শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। শিক্ষিত ও যোগ্য ব্যক্তিদের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হলে শিক্ষার্থীরা আরও ভালো পরিবেশ পাবে। সময়কাল সীমিত থাকায় দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন ধারণা ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে।
এই প্রবিধানমালার মাধ্যমে সরকার দেশের বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় আরও শৃঙ্খলা ও মানসম্পন্নতা আনতে চায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠনে এই নতুন নিয়ম অনুসরণ করলে শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা যায়।
