এনটিআরসিএ’র শিক্ষক নিয়োগের শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ শুরু চলতি সপ্তাহে, ১০ দিন সময় পাবে প্রতিষ্ঠানগুলো

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ চলতি সপ্তাহেই শুরু হতে যাচ্ছে। বুধবার (০৪ মার্চ) থেকে এই কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এই শূন্য পদের তথ্য (ই-রিকুইজিশন) জমা দিতে ১০ দিন সময় পাবে। একই সঙ্গে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা যে এমসিকিউ পদ্ধতিতে হবে, তা-ও নিশ্চিত করেছেন এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান।

মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নতুন শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্ভব শুরু করার লক্ষ্যে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে শূন্য পদের চাহিদা সংগ্রহ কার্যক্রম বুধবার থেকেই শুরু করা হতে পারে। এই প্রক্রিয়াটি মূলত অনলাইনে পরিচালিত হবে এবং প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য জমা দিতে হবে।

শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়া শুরু হওয়া মানে হলো, নতুন শিক্ষক নিয়োগের পথ অনেকটাই খুলে যাচ্ছে। যারা এনটিআরসিএ নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন কিন্তু এখনো চাকরি পাননি, তাদের জন্য এটি একটি আশার খবর। কারণ শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন হলেই পরবর্তী ধাপে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে এবং সেই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিবন্ধিত প্রার্থীদের নিয়োগ সুপারিশ করা হবে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বেশ কিছুদিন ধরে ১৯তম নিবন্ধন পরীক্ষায় লিখিত পদ্ধতি চালু হবে বলে একটি গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। এই বিষয়ে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম স্পষ্টভাবে বলেছেন, “১৯তম নিবন্ধনের পরীক্ষা কোন পদ্ধতিতে হবে সেটি সার্কুলারে উল্লেখ করা আছে। এখানে লিখিত নেওয়া হবে এমন কিছু বলা হয়নি। ফলে কনফিউজড হওয়ার কিছু নেই।” তিনি নিশ্চিত করেন, ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা ২০০ নম্বরের এমসিকিউ পদ্ধতিতেই অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য, ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি হিসেবে গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ থেকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ই-রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। প্রথমে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় দেওয়া হলেও পরবর্তীতে তা বাড়িয়ে ১ মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত করা হয়। সেই ই-রেজিস্ট্রেশন পর্ব শেষ হওয়ার পর এখন ই-রিকুইজিশন পর্ব শুরু হতে যাচ্ছে, যেখানে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের শূন্য আসনের সংখ্যা অনলাইনে জানাবে।

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) বাংলাদেশের বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্তৃপক্ষ। প্রতিটি নতুন শিক্ষক নিয়োগ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে এই সংস্থাটি সারা দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ করে। এরপর সেই তথ্যের ভিত্তিতে নিবন্ধিত প্রার্থীদের পদায়নের সুপারিশ করা হয়।

দেশের লাখো শিক্ষক নিবন্ধনধারী প্রার্থীর জন্য এই খবরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে যারা নিবন্ধন পরীক্ষায় পাস করেও চাকরির অপেক্ষায় আছেন, তাদের জন্য চলতি সপ্তাহের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ শেষ হলে নতুন গণবিজ্ঞপ্তি কত দ্রুত আসবে, সেটি এখন সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের এনটিআরসিএ নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে লগইন করে নিজ প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদের সংখ্যা ও বিবরণ সঠিকভাবে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য না দিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এই নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রতিষ্ঠান প্রধানদের যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সার্বিকভাবে বলা যায়, এনটিআরসিএ শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫ প্রক্রিয়া এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এসেছে। শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপই লক্ষ লক্ষ চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। তাই এ সংক্রান্ত যেকোনো আপডেটের জন্য এনটিআরসিএ’র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং নির্ভরযোগ্য শিক্ষা সংবাদমাধ্যমে চোখ রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ইকরাম শেখ
ইকরাম শেখ
ইকরাম শেখ শিক্ষা খাতের বিভিন্ন আপডেট নিয়ে লেখালেখি করেন। তিনি সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন এবং তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে আগ্রহী। নতুন কোনো ভর্তি বা ফলাফল সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের আগে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত নোটিশ যাচাই করেন। তিনি নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী তথ্য তুলে ধরতে সচেষ্ট।
রিলেটেড আরটিকেল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

জনপ্রিয় নিউজ