ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে একটি নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথমবারের মতো স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ বা ‘খ’ ইউনিটের এই পরীক্ষাটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
কখন অনুষ্ঠিত হয়েছে ভর্তি পরীক্ষা?
গত শুক্রবার (২২ আগস্ট ২০২৫) বিকেল ৩ টা থেকে ৪ টা পর্যন্ত এক ঘন্টাব্যাপী এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি ছিল ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ইতিহাসে প্রথম ভর্তি পরীক্ষা, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ‘খ’ ইউনিটের প্রশ্ন
আসন সংখ্যা ও প্রতিযোগিতার চিত্র
কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে মোট ৪ হাজার ৪৯৮টি আসন রয়েছে। এই আসনগুলোর জন্য আবেদন জমা পড়েছে ২৪ হাজার ৯৪টি। এর মানে হলো প্রতিটি আসনের জন্য গড়ে ৫.৩৬ জন শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতা করছেন। এই প্রতিযোগিতার হার দেখে বোঝা যায় যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কতটা বেশি।
তবে মজার বিষয় হলো, পূর্বে ৮৯০ জন শিক্ষার্থী রিফান্ড আবেদন করেছেন, যার ফলে প্রকৃত প্রতিযোগীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে।
পরীক্ষার পদ্ধতি ও নম্বর বিতরণ
ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত সহজ ও বোধগম্য। MCQ বা বহুনির্বাচনী পদ্ধতিতে এই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। মোট ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে।
পরীক্ষার বিষয়বস্তু ছিল তিনটি প্রধান অংশে বিভক্ত। বাংলা ও ইংরেজি বিষয় থেকে ৫০ নম্বর এবং সাধারণ জ্ঞান থেকে ৫০ নম্বরের প্রশ্ন ছিল। এই বিতরণ শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক জ্ঞান যাচাইয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল।
নেগেটিভ মার্কিং সিস্টেম
এই পরীক্ষায় নেগেটিভ মার্কিং বা ভুল উত্তরের জন্য নম্বর কাটার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে। এই নিয়মটি শিক্ষার্থীদের আরও সতর্কতার সাথে উত্তর দিতে উত্সাহিত করে এবং অনুমানের উপর নির্ভর করার প্রবণতা কমায়।
মেধা তালিকা প্রস্তুতির নিয়ম
চূড়ান্ত মেধা তালিকা প্রস্তুতির ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ভর্তি পরীক্ষার নম্বর বিবেচনা করা হবে না। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের উপর ২০ নম্বর বিবেচনা করা হবে। এর মানে হলো ভর্তি পরীক্ষায় ৮০ নম্বর এবং পূর্ববর্তী পরীক্ষার ফলাফলে ২০ নম্বর মিলিয়ে মোট ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে চূড়ান্ত মেধা তালিকা প্রস্তুত হবে।
পরীক্ষার কেন্দ্রসমূহ
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে সাতটি প্রতিষ্ঠিত কলেজে। এই কলেজগুলো হলো ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, তিতুমীর কলেজ, বাংলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা কলেজ, কবি নজরুল কলেজ এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ। এই সাতটি কলেজের অভ্যন্তরেই পরীক্ষার কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তত্ত্বাবধান ও পরিদর্শন
পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের পাশাপাশি ইউজিসি টিম সকল পরীক্ষার কেন্দ্রে পরিদর্শন করেছেন। এই ব্যবস্থা পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে সাহায্য করেছে।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি এই প্রথম ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে। এটি বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি ভবিষ্যতে আরও উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা ও সুবিধা প্রদানের পরিকল্পনা করছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ
যারা ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হতে আগ্রহী, তাদের জন্য পরামর্শ হলো বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞানে সমান গুরুত্ব দেওয়া। নেগেটিভ মার্কিং এর কারণে নিশ্চিত না হলে উত্তর না দেওয়াই ভালো। এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে ভালো ফলাফল করা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি চূড়ান্ত মেধা তালিকায় প্রভাব ফেলবে।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির এই প্রথম ভর্তি পরীক্ষা বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এটি ভবিষ্যতে আরও অনেক শিক্ষার্থীর জন্য উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
