এনটিআরসিএ’র ই-রেজিস্ট্রেশন শুরু ৯ ফেব্রুয়ারি: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য সম্পূর্ণ নির্দেশিকা

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ খবর এসেছে। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) জানিয়েছে যে, আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ই-রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হবে। এই কার্যক্রম চলবে ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত। এই সময়সীমার মধ্যে সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে তাদের তথ্য নিবন্ধন করতে হবে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) এনটিআরসিএ এই সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, ই-রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন না করলে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইনে শিক্ষক নিয়োগের চাহিদা (ই-রিকুজিশন) দিতে পারবে না। আর ই-রিকুজিশন ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশের আওতায় আসবে না।

কী এই ই-রেজিস্ট্রেশন? কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

ই-রেজিস্ট্রেশন হলো একটি অনলাইন প্রক্রিয়া যেখানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সকল তথ্য এনটিআরসিএ’র অনলাইন সিস্টেমে নিবন্ধিত করে। এই নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন তথ্য যেমন প্রতিষ্ঠানের নাম, EIIN নম্বর, প্রতিষ্ঠান প্রধানের তথ্য, এমপিও কোড, এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট অনলাইনে জমা দেওয়া হয়।

এই ই-রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া না করলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরবর্তীতে শিক্ষক নিয়োগের জন্য ই-রিকুজিশন দিতে পারবে না। ফলে প্রতিষ্ঠানটি ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের আওতায় শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশ পাবে না।

ই-রেজিস্ট্রেশন সময়সূচি ও গুরুত্বপূর্ণ তারিখ

বিবরণ তারিখ ও সময়
ই-রেজিস্ট্রেশন শুরুর তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ই-রেজিস্ট্রেশন শেষ তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মোট সময় ১৪ দিন
প্রযোজ্য প্রতিষ্ঠান সকল এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান

কোন কোন প্রতিষ্ঠানকে ই-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে?

ই-রেজিস্ট্রেশনের জন্য যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:

১. পাঠদানের অনুমতিপ্রাপ্ত EIIN নম্বরধারী প্রতিষ্ঠান: প্রতিষ্ঠানের অবশ্যই একটি বৈধ EIIN নম্বর থাকতে হবে এবং সরকার থেকে পাঠদানের অনুমতি থাকতে হবে।

২. একাডেমিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান: প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে একাডেমিক স্বীকৃতি থাকতে হবে।

৩. এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান: প্রতিষ্ঠানটি অবশ্যই মাসিক বেতন ভাতা (এমপিও) এর আওতাভুক্ত হতে হবে এবং একটি বৈধ এমপিও কোড থাকতে হবে।

এর মধ্যে রয়েছে সাধারণ স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি প্রতিষ্ঠান এবং তাদের সংযুক্ত শাখাসমূহ।

ই-রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া: ধাপে ধাপে নির্দেশিকা

নতুন প্রতিষ্ঠানের জন্য ই-রেজিস্ট্রেশন

যেসব প্রতিষ্ঠান একেবারে নতুন এবং প্রথমবারের মতো ই-রেজিস্ট্রেশন করতে চান, তাদের জন্য প্রক্রিয়াটি একটু ভিন্ন। নতুন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে:

ধাপ ১: প্রতিষ্ঠান প্রধানকে তার এলাকার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার (USEO) সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

ধাপ ২: উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানের সকল তথ্য যাচাই করবেন। এর মধ্যে রয়েছে EIIN নম্বর, একাডেমিক স্বীকৃতি, পাঠদানের অনুমতিপত্র, এমপিও কোড ইত্যাদি।

ধাপ ৩: সব তথ্য সঠিক প্রমাণিত হলে, শিক্ষা কর্মকর্তা তার নিজস্ব ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে এনটিআরসিএ’র ওয়েবসাইটে অথবা সরাসরি টেলিটকের ngi.teletalk.com.bd লিংকে লগইন করবেন।

ধাপ ৪: Institute Info অপশনে গিয়ে Add More Institute বাটনে ক্লিক করে প্রতিষ্ঠানের EIIN নম্বর, প্রতিষ্ঠানের নাম এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানের মোবাইল নম্বর দিয়ে Save বাটনে ক্লিক করতে হবে।

ধাপ ৫: টেলিটক থেকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রতিষ্ঠান প্রধানের মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড পাঠানো হবে।

প্রতিষ্ঠান প্রধানের করণীয়

মোবাইলে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠান প্রধানকে নিম্নলিখিত কাজগুলো করতে হবে:

১. লগইন করুন: প্রাপ্ত ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে Institute’s Section এ লগইন করুন।

২. Institute Profile পূরণ করুন: প্রতিষ্ঠানের সম্পূর্ণ তথ্য দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে:

তথ্যের ধরন বিস্তারিত
MPO Authority DSHE, DME, DTE অথবা সংযুক্ত শাখা অনুযায়ী নির্বাচন করুন
Institute Type প্রতিষ্ঠানের ধরন (স্কুল/কলেজ/মাদ্রাসা/কারিগরি)
MPO Status এমপিও কোড উল্লেখ করুন
Student Type Boys/Girls/Co-Education
প্রতিষ্ঠান প্রধানের তথ্য নাম, পদবি, NID, জন্ম তারিখ, ছবি, স্বাক্ষর, মোবাইল, ইমেইল
গভর্নিং বডির তথ্য চেয়ারম্যানের নাম, NID, ছবি, স্বাক্ষর, মোবাইল নম্বর

৩. MPO Authority সঠিকভাবে নির্বাচন করুন: এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুল MPO Authority নির্বাচন করলে প্রতিষ্ঠানের সঠিক ধরন পাওয়া যাবে না।

উদাহরণ: যদি প্রতিষ্ঠানটি সাধারণ ধারার স্কুল বা কলেজ হয়, তাহলে DSHE নির্বাচন করুন। মাদ্রাসা হলে DME, কারিগরি প্রতিষ্ঠান হলে DTE নির্বাচন করুন। যদি স্কুল/কলেজের সাথে কারিগরি শাখা থাকে, তাহলে DSHE and DTE নির্বাচন করুন।

৪. Institute Type সঠিকভাবে নির্বাচন করুন: এটিও অত্যন্ত জরুরি। ভুল Institute Type নির্বাচন করলে পরবর্তীতে ই-রিকুজিশনের সময় শূন্যপদের তথ্যে ভুল হবে।

উদাহরণ:

– নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় (৬ষ্ঠ-৮ম শ্রেণি): Junior Secondary School (6-8)
– মাধ্যমিক বিদ্যালয় (৬ষ্ঠ-১০ম শ্রেণি): Secondary High School (6-10)
– উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (৬ষ্ঠ-১২শ শ্রেণি): Higher Secondary School (6-12)
– উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ (১১শ-১২শ): Higher Secondary College (11-12)

৫. Save and Submit করুন: সকল তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করার পর ভালোভাবে যাচাই করুন এবং Save and Submit বাটনে ক্লিক করুন।

৬. Print Copy সংরক্ষণ করুন: ভবিষ্যৎ রেফারেন্সের জন্য একটি প্রিন্ট কপি নিয়ে অফিসে সংরক্ষণ করুন।

পুরাতন প্রতিষ্ঠানের জন্য ই-রেজিস্ট্রেশন হালনাগাদকরণ

যেসব প্রতিষ্ঠান আগে থেকেই ই-রেজিস্ট্রেশন করা আছে, তাদেরকেও এই সময়ের মধ্যে তথ্য হালনাগাদ (Update) করতে হবে। এমনকি যদি কোনো তথ্যের পরিবর্তন না হয়, তবুও লগইন করে Save and Submit বাটনে ক্লিক করতে হবে। নতুবা প্রতিষ্ঠানের ই-রেজিস্ট্রেশন নবায়ন হবে না।

হালনাগাদকরণ প্রক্রিয়া:

ধাপ ১: এনটিআরসিএ’র ওয়েবসাইটে যান এবং ই-রেজিস্ট্রেশন সেবা বক্সে ক্লিক করুন।

ধাপ ২: আপনার পুরাতন ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন।

ধাপ ৩: প্রয়োজনীয় তথ্য সংশোধন বা হালনাগাদ করুন।

ধাপ ৪: সব তথ্য ঠিক আছে কিনা যাচাই করুন এবং Save and Submit বাটনে ক্লিক করুন।

ই-রেজিস্ট্রেশন তথ্য সংশোধন (Edit) করার নিয়ম

যদি Submit করার পর কোনো তথ্যে ভুল পান বা কোনো তথ্য যোগ-বিয়োগ করার প্রয়োজন হয়, তাহলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে তা সংশোধন করতে পারবেন।

সংশোধন প্রক্রিয়া:

১. প্রতিষ্ঠানের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন।

২. ই-রেজিস্ট্রেশন ফর্মের উপরে EDIT বাটনে (লাল রঙের) ক্লিক করুন।

৩. প্রয়োজনীয় তথ্য সংশোধন করুন এবং পুনরায় Save and Submit বাটনে ক্লিক করুন।

মনে রাখবেন: নির্ধারিত সময়ের পর আর কোনো সংশোধন করা যাবে না। তাই সময়মতো সব তথ্য যাচাই করে নিন।

পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে কী করবেন?

যদি কোনো প্রতিষ্ঠান প্রধান তার পাসওয়ার্ড ভুলে যান বা হারিয়ে ফেলেন, তাহলে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নিতে হবে:

১. সংশ্লিষ্ট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অথবা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে যান।

২. তাদের সুপারিশসহ প্রতিষ্ঠানের প্যাডে একটি আবেদনপত্র লিখুন। আবেদনে প্রতিষ্ঠানের EIIN নম্বর এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানের মোবাইল নম্বর উল্লেখ করুন।

৩. আবেদনপত্র এনটিআরসিএ বরাবর পাঠান।

৪. আবেদন যাচাই করার পর এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠান প্রধানের মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে নতুন পাসওয়ার্ড পাঠাবে।

গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা: পাসওয়ার্ডের গোপনীয়তা সবসময় রক্ষা করুন। কাউকে আপনার পাসওয়ার্ড শেয়ার করবেন না। অনুমোদিত ব্যক্তির কাছে পাসওয়ার্ড শেয়ার করার কারণে যদি কোনো সমস্যা হয়, তার সম্পূর্ণ দায় প্রতিষ্ঠান প্রধানের ওপর বর্তাবে।

ই-রেজিস্ট্রেশন না করলে কী হবে?

এনটিআরসিএ স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ই-রেজিস্ট্রেশন বা প্রোফাইল হালনাগাদকরণ না করলে গুরুতর পরিণতি হতে পারে:

১. ই-রিকুজিশন দিতে পারবেন না: ই-রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান অনলাইনে শিক্ষক শূন্যপদের চাহিদা (ই-রিকুজিশন) জমা দিতে পারবে না।

২. শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশ পাবেন না: ই-রিকুজিশন ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি এনটিআরসিএ থেকে শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশের জন্য বিবেচিত হবে না।

৩. এমপিও বাতিল: এনটিআরসিএ আইন ২০০৫ এবং পরিপত্র অনুসারে প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিল করা হতে পারে।

৪. আইনি ব্যবস্থা: আইন অনুযায়ী অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তাই সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবশ্যই ই-রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে।

১৉তম শিক্ষক নিবন্ধনের জন্য প্রস্তুতি

এই ই-রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম মূলত ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের প্রস্তুতির অংশ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ই-রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হওয়ার পর এনটিআরসিএ শূন্যপদের তথ্য সংগ্রহ করবে এবং তারপর নিবন্ধিত প্রার্থীদের পছন্দক্রম ও মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ সুপারিশ প্রদান করবে।

এনটিআরসিএ কেবলমাত্র অনলাইন ই-রিকুজিশনের মাধ্যমেই শূন্যপদের চাহিদা গ্রহণ করে। অফলাইনে, হার্ডকপি বা ইমেইলের মাধ্যমে কোনো চাহিদা গ্রহণ করা হয় না।

যেভাবে এনটিআরসিএ’র ওয়েবসাইট ব্যবহার করবেন

ই-রেজিস্ট্রেশনের জন্য আপনাকে এনটিআরসিএ’র অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে হবে। ওয়েবসাইটে গিয়ে ই-রেজিস্ট্রেশন সেবা বক্সে ক্লিক করুন। সেখানে বিস্তারিত নির্দেশিকা এবং লগইন অপশন পাবেন।

বিকল্পভাবে, আপনি সরাসরি টেলিটকের লিংক ngi.teletalk.com.bd ব্যবহার করেও ই-রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।

গুরুত্বপূর্ণ টিপস ও পরামর্শ

১. সময়মতো করুন: শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না। ৯ ফেব্রুয়ারি থেকেই ই-রেজিস্ট্রেশন শুরু করুন। লাস্ট মিনিটে সার্ভার জ্যাম হতে পারে।

২. সকল ডকুমেন্ট প্রস্তুত রাখুন: শুরু করার আগে সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (EIIN সার্টিফিকেট, এমপিও সার্টিফিকেট, NID, ছবি, স্বাক্ষর ইত্যাদি) স্ক্যান করে রাখুন।

৩. তথ্য যাচাই করুন: সকল তথ্য খুব সতর্কতার সাথে পূরণ করুন। Submit করার আগে দুইবার চেক করুন।

৪. পাসওয়ার্ড সুরক্ষিত রাখুন: আপনার ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড কাউকে শেয়ার করবেন না।

৫. প্রিন্ট কপি রাখুন: Submit করার পর অবশ্যই একটি প্রিন্ট কপি নিয়ে সংরক্ষণ করুন।

৬. উপজেলা শিক্ষা অফিসের সাহায্য নিন: যদি কোনো সমস্যা হয়, তাহলে আপনার এলাকার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করুন।

FAQ: ই-রেজিস্ট্রেশন সম্পর্কে প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

প্রশ্ন ১: ই-রেজিস্ট্রেশন কবে শুরু এবং শেষ হবে?

উত্তর: ই-রেজিস্ট্রেশন ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। মোট ১৪ দিন সময় পাওয়া যাবে।

প্রশ্ন ২: ই-রেজিস্ট্রেশন না করলে কী সমস্যা হবে?

উত্তর: ই-রেজিস্ট্রেশন না করলে প্রতিষ্ঠান ই-রিকুজিশন দিতে পারবে না এবং শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশ পাবে না। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিল হতে পারে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

প্রশ্ন ৩: নতুন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড কীভাবে পাবো?

উত্তর: নতুন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানটি যুক্ত করার পর টেলিটক থেকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রতিষ্ঠান প্রধানের মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড পাঠানো হবে।

প্রশ্ন ৪: MPO Authority এবং Institute Type ভুল হলে কী করবো?

উত্তর: নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লগইন করে EDIT বাটনে ক্লিক করে তথ্য সংশোধন করতে পারবেন। তাই খুব সতর্কতার সাথে প্রথমবারই সঠিক তথ্য দিন এবং Submit করার আগে ভালোভাবে যাচাই করুন।

প্রশ্ন ৫: পুরাতন প্রতিষ্ঠানের তথ্যে কোনো পরিবর্তন না থাকলেও কি হালনাগাদ করতে হবে?

উত্তর: হ্যাঁ, অবশ্যই। এমনকি তথ্যে কোনো পরিবর্তন না থাকলেও লগইন করে পূর্বের তথ্য অপরিবর্তিত রেখে Save and Submit বাটনে ক্লিক করতে হবে। নতুবা প্রতিষ্ঠানের ই-রেজিস্ট্রেশন নবায়ন হবে না।

প্রশ্ন ৬: পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে কীভাবে পুনরুদ্ধার করবো?

উত্তর: জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সুপারিশসহ প্রতিষ্ঠানের প্যাডে আবেদন করতে হবে। আবেদনে EIIN নম্বর এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানের মোবাইল নম্বর উল্লেখ করতে হবে। এনটিআরসিএ যাচাই করে নতুন পাসওয়ার্ড এসএমএসে পাঠাবে।

প্রশ্ন ৭: ই-রেজিস্ট্রেশনের জন্য কোনো ফি লাগবে কি?

উত্তর: না, ই-রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। তবে সকল তথ্য সঠিকভাবে অনলাইনে দিতে হবে। অফলাইনে বা ইমেইলে কোনো আবেদন গ্রহণ করা হয় না।

প্রশ্ন ৮: ই-রেজিস্ট্রেশনের পর কখন ই-রিকুজিশন দিতে পারবো?

উত্তর: সকল প্রতিষ্ঠানের ই-রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হওয়ার পর এনটিআরসিএ ই-রিকুজিশনের জন্য আলাদা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে। সেই সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের শূন্যপদের চাহিদা অনলাইনে জমা দিতে পারবে।

শেষ কথা

এনটিআরসিএ’র ই-রেজিস্ট্রেশন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া যা ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের জন্য বাধ্যতামূলক। সকল এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এর মধ্যে এই কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। ই-রেজিস্ট্রেশন না করলে শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশ পাওয়া সম্ভব হবে না এবং প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিল হতে পারে।

তাই আর দেরি না করে আজই প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট প্রস্তুত করুন এবং এনটিআরসিএ’র ওয়েবসাইটে গিয়ে ই-রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন। যেকোনো সমস্যার জন্য আপনার এলাকার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করুন।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে এই ই-রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া অত্যন্ত কার্যকর একটি পদক্ষেপ। এই ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া আরো স্বচ্ছ, দ্রুত এবং নিরপেক্ষ হবে।

নিলয় আহমেদ
নিলয় আহমেদ
নিলয় আহম্মেদ শিক্ষা বিষয়ক প্রতিবেদক। তিনি বাংলা বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। পরীক্ষা, ভর্তি ও শিক্ষানীতি সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে কাজ করেন। তথ্য যাচাই করে সংক্ষিপ্ত ও পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করাই তার প্রধান দায়িত্ব।
রিলেটেড আরটিকেল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

জনপ্রিয় নিউজ