আজ ৯ জানুয়ারি ২০২৫, শুক্রবার সারাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় অংশ নিতে যাচ্ছেন প্রায় ১০ লাখ ৮০ হাজার চাকরিপ্রার্থী। তিন পার্বত্য জেলা বাদে দেশের সকল জেলায় একযোগে এই লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্তভাবে সম্পন্ন করতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (DPE) বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে।
পরীক্ষার সময়সূচী এবং প্রবেশের নিয়ম
পরীক্ষার্থীদের জন্য সময়মতো পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুপুর ২টার মধ্যে সকল পরীক্ষার্থীকে তাদের নির্ধারিত আসনে বসতে হবে। এরপর দুপুর আড়াইটায় পরীক্ষা কেন্দ্রের সকল প্রবেশপথ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। তাই দেরি করে আসলে আর পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যাবে না। পরীক্ষার হলে প্রবেশের পর পরীক্ষার্থীদের মধ্যে OMR শিট বিতরণ করা হবে এবং পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে হল ত্যাগ করতে দেওয়া হবে না।
| সময় | কার্যক্রম |
|---|---|
| দুপুর ২:০০ টা | নির্ধারিত আসনে বসতে হবে |
| দুপুর ২:৩০ টা | পরীক্ষা কেন্দ্রের সকল গেট বন্ধ হবে এবং OMR শিট বিতরণ শুরু |
| পরীক্ষা চলাকালীন | কেউ হল ছেড়ে যেতে পারবেন না |
প্রবেশপত্র এবং পরিচয়পত্র সংক্রান্ত নির্দেশনা
পরীক্ষায় অংশ নিতে হলে অবশ্যই প্রবেশপত্র এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সাথে আনতে হবে। এই দুটি ডকুমেন্ট ছাড়া কোনো পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা হলে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। প্রবেশপত্রে পরীক্ষার্থীর ছবি এবং স্বাক্ষর থাকবে, যা দিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর পরিচয় যাচাই করা হবে। যদি কেউ ভুয়া পরীক্ষার্থী হিসেবে ধরা পড়েন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরীক্ষার হাজিরা শিটে এবং OMR শিটে যে স্বাক্ষর দেওয়া হবে, তা অবশ্যই আবেদনপত্রে দেওয়া স্বাক্ষরের সাথে মিলতে হবে। অন্যথায় উত্তরপত্র বাতিল হয়ে যেতে পারে।
পরীক্ষা কেন্দ্রে নিষিদ্ধ জিনিসপত্র
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পরীক্ষা কেন্দ্রে অনেক ধরনের জিনিস নিয়ে প্রবেশ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই নির্দেশনা অত্যন্ত কঠোরভাবে মানা হবে এবং কেউ যদি নিষিদ্ধ জিনিস নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করেন, তাহলে তাকে তাৎক্ষণিক বহিষ্কার করা হবে এবং তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
| নিষিদ্ধ জিনিসপত্র | বিস্তারিত |
|---|---|
| মোবাইল ফোন ও ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস | কোনো ধরনের মোবাইল ফোন, স্মার্টওয়াচ, ইলেকট্রনিক্স ঘড়ি বা যোগাযোগ যন্ত্র |
| ক্যালকুলেটর | যেকোনো ধরনের ক্যালকুলেটর সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ |
| বই, নোট ও কাগজপত্র | উত্তরপত্র, নোট বই অথবা অন্য কোনো কাগজপত্র |
| ব্যাগ ও পার্স | ভ্যানিটি ব্যাগ, পার্স বা হাতব্যাগ |
| কার্ড জাতীয় জিনিস | জাতীয় পরিচয়পত্র (স্মার্ট কার্ড) ছাড়া অন্য কোনো ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড |
| হাতঘড়ি | সাধারণ বা ইলেকট্রনিক্স যেকোনো ধরনের ঘড়ি |
OMR শিট পূরণের গুরুত্বপূর্ণ নিয়মকানুন
পরীক্ষার উত্তরপত্র হিসেবে OMR (Optical Mark Recognition) শিট ব্যবহার করা হবে। এই শিট সঠিকভাবে পূরণ করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ একটি ছোট ভুলও আপনার পুরো উত্তরপত্র বাতিল করে দিতে পারে। পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই কালো বলপয়েন্ট কলম ব্যবহার করতে হবে। অন্য কোনো রঙের কলম ব্যবহার করলে উত্তরপত্র বাতিল হয়ে যাবে।
প্রতিটি পরীক্ষার্থীর জন্য একটি নির্দিষ্ট সেট কোড থাকবে, যা প্রবেশপত্রে উল্লেখ করা আছে। পরীক্ষা হলে যে OMR ফরম দেওয়া হবে, সেখানে সেট কোডের ঘরে প্রবেশপত্রে উল্লিখিত সেট কোডটির বিপরীতে বৃত্ত সঠিকভাবে ভরাট করতে হবে। পরীক্ষা শুরু হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে পরিদর্শক জানিয়ে দেবেন কোন সেট কোডের প্রশ্ন পাবেন।
যদি রোল নম্বর বা সেট কোড পূরণে কোনো ভুল হয়, তাহলে পুরো উত্তরপত্রটি বাতিল হয়ে যাবে। তাই অত্যন্ত সাবধানে এবং মনোযোগ দিয়ে OMR শিট পূরণ করতে হবে। হাজিরা শিটে সঠিক স্থানে স্বাক্ষর করতে হবে এবং হাজিরা বৃত্তও পূরণ করতে হবে।
পরীক্ষা চলাকালীন বিশেষ নির্দেশনা
পরীক্ষার সময় পরীক্ষার্থীদের উভয় কান উন্মুক্ত রাখতে হবে। এর মানে হলো কানে কোনো ইয়ারফোন, ব্লুটুথ ডিভাইস বা অন্য কিছু রাখা যাবে না। এছাড়া, পরীক্ষার হলে থাকা অবস্থায় কারো সাথে কথা বলা বা কোনো ধরনের অসদুপায় অবলম্বন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই ধরনের কার্যকলাপ ধরা পড়লে পরীক্ষার্থীকে তৎক্ষণাৎ বহিষ্কার করা হবে।
পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রের আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি থাকবে। এর মানে হলো পরীক্ষা কেন্দ্রের আশপাশে কোনো ধরনের সমাবেশ, বিক্ষোভ বা জনসমাগম হতে পারবে না। এটি করা হয়েছে যাতে পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবং কোনো বাহ্যিক হস্তক্ষেপ না ঘটে।
নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেই যে চাকরি নিশ্চিত হবে এমন নয়। লিখিত পরীক্ষা এবং মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া চাকরির কোনো নিশ্চয়তা দেয় না। শুধুমাত্র মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষার নম্বর প্রকাশযোগ্য নয়, তাই পরীক্ষার নম্বর জানতে চাইলেও তা পাওয়া যাবে না।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর পরীক্ষার্থীদের বিশেষভাবে সতর্ক করেছে যে, নিয়োগের নামে কোনো অসাধু চক্রের সাথে আর্থিক লেনদেন করা যাবে না। অনেক সময় দালালরা টাকা নিয়ে চাকরি দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয়। এ ধরনের প্রতারকদের থেকে সাবধান থাকতে হবে। সরকারি নিয়োগে কোনো অর্থের বিনিময় নেই।
| গুরুত্বপূর্ণ বিষয় | মনে রাখুন |
|---|---|
| পরীক্ষায় অংশগ্রহণ | চাকরির নিশ্চয়তা নয় |
| নিয়োগের ভিত্তি | শুধুমাত্র মেধা ও যোগ্যতা |
| পরীক্ষার নম্বর | প্রকাশযোগ্য নয় |
| অর্থ লেনদেন | কোনো দালাল বা অসাধু চক্রের সাথে লেনদেন করবেন না |
পরীক্ষা সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার উপায়
পরীক্ষা সংক্রান্ত সকল তথ্য এবং আপডেট প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.dpe.gov.bd থেকে পাওয়া যাবে। পরীক্ষার ফলাফল, পরবর্তী পদক্ষেপ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি এই ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। তাই নিয়মিত ওয়েবসাইট চেক করতে থাকুন।
পরীক্ষা কেন্দ্রে কোন কক্ষে পরীক্ষার্থীর আসন রয়েছে, তার তালিকা পরীক্ষা কেন্দ্রের ভিতরে টাঙিয়ে দেওয়া হবে। তাই পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর সেই তালিকা দেখে নিজের আসন খুঁজে নিতে হবে।
চূড়ান্ত প্রস্তুতির জন্য টিপস
আজকের পরীক্ষায় সফল হতে হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সময়মতো পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানো। দুপুর ২টার আগেই পৌঁছানোর চেষ্টা করুন। যাতায়াতে সমস্যা হতে পারে ভেবে একটু আগেই বাসা থেকে বের হন। সাথে অবশ্যই প্রবেশপত্র এবং জাতীয় পরিচয়পত্র নেবেন। এছাড়া, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কালো বলপয়েন্ট কলম (অন্তত ২-৩টি) সাথে রাখুন।
পরীক্ষার আগের রাতে ভালো ঘুমান এবং সকালে হালকা নাস্তা করে নিন। মানসিকভাবে শান্ত থাকার চেষ্টা করুন এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে পরীক্ষায় অংশ নিন। মনে রাখবেন, আপনার পরিশ্রম এবং প্রস্তুতিই আপনার সাফল্য নিশ্চিত করবে।
পরীক্ষা হলে প্রবেশের পর OMR শিট পূরণের আগে নির্দেশনা ভালোভাবে পড়ে নিন। কোনো বিষয়ে সন্দেহ থাকলে পরিদর্শককে জিজ্ঞাসা করুন। তাড়াহুড়ো করবেন না এবং প্রতিটি উত্তর সাবধানে মার্ক করুন। সেট কোড এবং রোল নম্বর পূরণে বিশেষ সতর্ক থাকুন।
শেষ কথা
প্রায় ১০ লাখ ৮০ হাজার প্রার্থীর জন্য আজকের এই পরীক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন পূরণের প্রথম ধাপ এই লিখিত পরীক্ষা। উপরে উল্লেখিত সকল নির্দেশনা সঠিকভাবে মেনে চললে পরীক্ষায় কোনো সমস্যা হবে না। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই নিয়োগ দেওয়া হবে, তাই নিজের প্রস্তুতির উপর আস্থা রাখুন এবং সততার সাথে পরীক্ষা দিন।
সকল পরীক্ষার্থীর জন্য শুভকামনা! আপনাদের পরিশ্রম সফল হোক এবং Primary Teacher Recruitment Exam 2025 এ আপনারা সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হন। পরীক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো আপডেট জানতে নিয়মিত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।
