আজ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) তাদের ক্যাম্পাসে র্যাগিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
র্যাগিং নিষিদ্ধের আইনগত ভিত্তি
বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ২০১৮ এর ৫(ঙ) ধারা অনুসারে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই আইনে স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের হল, বিভাগ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে যেকোনো জায়গায় টিজ/র্যাগিং/নির্যাতনমূলক কর্মকাণ্ড এ অংশগ্রহণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই আইনটি নতুন শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক নিরাপত্তা রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
র্যাগিংয়ের জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে র্যাগিং একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী র্যাগিংয়ের সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে সাময়িক থেকে শুরু করে চিরতরে বহিষ্কার পর্যন্ত। এই কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়ভীতি দূর করতে এবং একটি নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ গড়তে সহায়ক হবে।
মাদকের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান
র্যাগিং নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। ক্যাম্পাসে গাঁজা ও মদসহ যেকোনো ধরনের মাদকদ্রব্য সেবন এবং ব্যবসা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই পদক্ষেপটি শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্য এবং একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সকলকে র্যাগিং প্রতিরোধে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। সিনিয়র শিক্ষার্থীদের কাছে আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা জুনিয়র শিক্ষার্থীদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করেন এবং তাদের একাডেমিক সফলতায় সহায়তা প্রদান করেন।
জরুরি যোগাযোগের ব্যবস্থা
যেকোনো র্যাগিং বা হয়রানির ঘটনা ঘটলে শিক্ষার্থীরা প্রক্টর অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। এই ব্যবস্থা দ্রুত সমস্যা সমাধান এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের সাহায্য প্রদানের জন্য করা হয়েছে। প্রক্টরিয়াল বডি এ ধরনের যেকোনো অভিযোগ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিং পরিস্থিতি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এর এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি ইতিবাচক উদাহরণ স্থাপন করেছে। দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও র্যাগিং প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০২০ সালে উচ্চ আদালত সব বিশ্ববিদ্যালয়কে অ্যান্টি র্যাগিং কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল Dainik Bangla।
শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব
র্যাগিং নিষিদ্ধকরণ নতুন শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। র্যাগিং প্রায়ই নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের অভাব সৃষ্টি করে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে তাদের পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারবেন।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে নিয়মিত মনিটরিং এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কর্মসূচি হাতে নেবে। ক্যাম্পাসে নিয়মিত টহল এবং শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়মিত মতবিনিময় এর মাধ্যমে এই নীতি বাস্তবায়ন করা হবে।
উপসংহার
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাগিং নিষিদ্ধ করার এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক। এই পদক্ষেপের ফলে নতুন শিক্ষার্থীরা একটি নিরাপদ ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে তাদের শিক্ষাজীবন শুরু করতে পারবেন। সকল শিক্ষার্থীর সহযোগিতায় এই উদ্যোগ সফল হলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠবে আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
