রাজধানী ঢাকার সাত সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা আজ (১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪) সকাল থেকে ঢাকা কলেজে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তাদের মূল দাবি হলো ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ দ্রুত জারি করা। এই আন্দোলনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের হতাশা এবং অনিশ্চয়তা।
কেন এই আন্দোলন?
সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা বলছেন যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি অবমাননাকর কাঠামোর অধীনে পড়াশোনা করছেন। “অধিভুক্তি” শব্দটি তাদের আত্মপরিচয়ে আঘাত করেছে। গত ২৬ মার্চ ২০২৪ সালে সরকার ঘোষণা দিয়েছিল যে এই সাতটি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পৃথক করে একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠন করা হবে। কিন্তু এখনো অধ্যাদেশ জারি না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ।
কোন কলেজগুলো জড়িত?
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে যে সাতটি কলেজ অন্তর্ভুক্ত হবে সেগুলো হলো:
- ঢাকা কলেজ
- ইডেন মহিলা কলেজ
- বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ
- শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ
- কবি নজরুল সরকারি কলেজ
- মিরপুর বাংলা কলেজ
- সরকারি তিতুমীর কলেজ
এই কলেজগুলো ঢাকার প্রাচীন এবং মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।
শিক্ষার্থীদের দাবি কী?
অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তাদের দাবি জানাচ্ছেন। তাদের প্রধান স্লোগানগুলো হলো:
- “শিক্ষা না দালালি, শিক্ষা শিক্ষা“
- “তাল বাহানা বন্ধ করো, অধ্যাদেশ জারি করো“
শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট করে বলেছেন যে, অধ্যাদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তাদের মতে, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ দ্রুত প্রয়োজন।
বর্তমান পরিস্থিতি কী?
যদিও ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি নামে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম চালু আছে, কিন্তু এখনো আনুষ্ঠানিক অধ্যাদেশ জারি হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ইতিমধ্যে প্রস্তাবিত নতুন নাম “ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি” অনুমোদন দিয়েছে।
আনুষ্ঠানিক অধ্যাদেশ জারি হলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কাজ শুরু হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত হবে।
শিক্ষার্থীদের হতাশার কারণ
সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা বছরের পর বছর অধিভুক্তি ব্যবস্থার অধীনে থাকার কারণে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। তাদের মতে:
- পরীক্ষার ফলাফল দেরিতে প্রকাশ হয়
- একাডেমিক কার্যক্রমে নিয়মিততার অভাব
- শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন
- চাকরির ক্ষেত্রে কলেজের পরিচয় নিয়ে সমস্যা
এসব কারণে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের দাবি দীর্ঘদিনের।
সরকারের পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সরকার ২০২৪ সালের মার্চ মাসে ঘোষণা দিয়েছিল যে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে অধ্যাদেশ দ্রুতই জারি হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। সংসদ না থাকায় রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমেই এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হবে।
শিক্ষার্থীদের আশা-আকাঙ্ক্ষা
সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা চান যেন তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একটি মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। তারা আশা করছেন:
- উন্নত শিক্ষার মান
- নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম
- দ্রুত পরীক্ষার ফলাফল
- আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা
- গবেষণার সুবিধা
এই আন্দোলনের গুরুত্ব
অধ্যাদেশ জারির দাবিতে শিক্ষার্থীদের এই অবস্থান কর্মসূচি শুধুমাত্র একটি প্রতিবাদ নয়, বরং এটি শিক্ষার মান উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠিত হলে:
- হাজার হাজার শিক্ষার্থী উপকৃত হবে
- শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে
- কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে
- দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে
সমাধানের পথ
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে এই সমস্যার সমাধান দ্রুত অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমেই সম্ভব। সরকারের উচিত:
- শিক্ষার্থীদের দাবি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা
- অধ্যাদেশ জারির প্রক্রিয়া দ্রুততর করা
- একাডেমিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখার ব্যবস্থা করা
- শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা
পরিশেষে
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারির দাবিতে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের এই অবস্থান কর্মসূচি একটি যুক্তিসঙ্গত দাবি। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সমস্যা সমাধানের জন্য এই পদক্ষেপ প্রয়োজনীয়। সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আশা করা যাচ্ছে যে তারা শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে দ্রুত অধ্যাদেশ জারি করবেন।
এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি নতুন মাত্রা যুক্ত হবে এবং হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে।
