অনার্স-সমমান শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি উপবৃত্তি, আবেদন শুরু আজ

সরকারি উপবৃত্তির জন্য স্নাতক (পাস) ও সমমান পর্যায়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের অনলাইন আবেদন আজ থেকে শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের আওতায় আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের এই সহায়তা দেওয়া হবে। আবেদন চলবে ১৭ মে সকাল ৯টা থেকে ১৪ জুন রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ডিগ্রি ও ফাজিল ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীরা এই উপবৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। এ কার্যক্রমের আওতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া যোগ্য শিক্ষার্থীরা আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

যদিও অনেকেই এটিকে অনার্স শিক্ষার্থীদের বৃত্তি হিসেবে উল্লেখ করছেন, সরকারি নির্দেশনায় বিষয়টি স্নাতক (পাস) ও সমমান পর্যায়ের ১ম বর্ষ শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি হিসেবে উল্লেখ আছে। ফলে আবেদন করার আগে নিজের কোর্স ও শিক্ষাবর্ষ এ ঘোষণার আওতায় পড়ে কি না, তা শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি।

কীভাবে আবেদন করতে হবে

আবেদন করতে হবে সম্পূর্ণ অনলাইনে। এজন্য শিক্ষার্থীদের estipend.pmeat.gov.bd পোর্টালে প্রবেশ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য পূরণ করতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার পর তা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যাচাই করবে।

এরপর ১৫ জুন সকাল ৯টা থেকে ২১ জুন রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানপ্রধান শিক্ষার্থীর উপস্থিতি, বাছাই কমিটির সিদ্ধান্ত এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সফটওয়্যারে আপলোড করে আবেদন ফরওয়ার্ড করবেন।

কারা অগ্রাধিকার পাবেন

এই উপবৃত্তি মূলত অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল কিন্তু মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের উপবৃত্তি নির্দেশিকা অনুযায়ী, নিয়মিত শিক্ষার্থী হওয়া, শ্রেণিকক্ষে নির্ধারিত উপস্থিতি থাকা এবং পারিবারিক আর্থিক অবস্থার নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

উপলভ্য তথ্য অনুযায়ী, আবেদনকারীকে নিয়মিত শিক্ষার্থী হতে হবে এবং ক্লাসে কমপক্ষে ৭৫ শতাংশ উপস্থিতি থাকতে হবে। পাশাপাশি অভিভাবকের বার্ষিক আয় ও জমির পরিমাণ নিয়েও নির্ধারিত শর্ত রয়েছে। এসব বিষয় চূড়ান্ত বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে।

কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে

যোগ্য শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি, টিউশন ফি এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে একজন শিক্ষার্থী কী পরিমাণ অর্থ পাবেন, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যসূত্রে নির্দিষ্ট অঙ্ক উল্লেখ পাওয়া যায়নি। তাই এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অফিসিয়াল নির্দেশনা ও নোটিশ বোর্ড অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

হার্ড কপি জমা দিতে হবে কি

না, এ কার্যক্রম সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক। তাই আবেদনপত্রের হার্ড কপি ট্রাস্টে পাঠানোর প্রয়োজন নেই। এটি শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠান—উভয়ের জন্যই আবেদন প্রক্রিয়াকে সহজ করেছে।

কোথায় মিলবে বিস্তারিত তথ্য

উপবৃত্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের ওয়েবসাইট এবং ই-স্টাইপেন্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের নোটিশ বোর্ডে পাওয়া যাবে। আবেদন করতে গিয়ে কোনো জটিলতা হলে অফিস সময়ের মধ্যে সহায়তাও নেওয়া যাবে।

হেল্পলাইন:
০২-৫৫০০০৪২৮
০১৭৭৮৯৫৮৩৫৬
০১৭৭৮৯৬৪১৫৬

শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

আবেদন শুরুর প্রথম দিকেই প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র মিলিয়ে ফরম পূরণ করা ভালো। নাম, রোল, রেজিস্ট্রেশন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য, ব্যাংক হিসাব বা অন্যান্য তথ্যের ক্ষেত্রে ভুল হলে পরবর্তী ধাপে জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যাদের পারিবারিক আর্থিক অবস্থা দুর্বল, তাদের জন্য এ উপবৃত্তি উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে বড় সহায়তা হতে পারে।

সব মিলিয়ে, স্নাতক পর্যায়ের অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদন করতে পারলে উপবৃত্তি পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। তাই যোগ্য শিক্ষার্থীদের দেরি না করে দ্রুত আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

শাকিল আহম্মেদ
শাকিল আহম্মেদhttps://porasonablog.com
মোঃ শাকিল আহাম্মেদ শিক্ষা বিষয়ক সংবাদ নিয়ে নিয়মিত কাজ করছেন এবং ভর্তি, রেজাল্ট ও বিভিন্ন পরীক্ষার আপডেট সংগ্রহ ও যাচাই করেন। তিনি অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। তথ্য প্রকাশের আগে তিনি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল নোটিশ ও নির্ভরযোগ্য সূত্র মিলিয়ে দেখেন। শিক্ষার্থীদের জন্য দ্রুত ও নির্ভুল তথ্য পৌঁছে দেওয়াই তার প্রধান লক্ষ্য।
রিলেটেড আরটিকেল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

জনপ্রিয় নিউজ