দেশের সবচেয়ে বড় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার অনার্স প্রথম বর্ষে ভর্তির জন্য আবেদন শুরু হতে যাচ্ছে। ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) কোর্সে ভর্তি নিয়ে উৎসুক শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর এনেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত ২০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকপূর্ব শিক্ষা বিষয়ক স্কুল বিভাগের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. আশেক কবির চৌধুরী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ভর্তি সংক্রান্ত সকল তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এবার থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ভর্তি পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা আগের বছরগুলোতে ছিল না।
কখন থেকে আবেদন শুরু হবে?
যেসব শিক্ষার্থী অনার্স প্রথম বর্ষে ভর্তি হতে চান, তারা ২৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ বিকাল ৪টা থেকে অনলাইনে আবেদন শুরু করতে পারবেন। আবেদন করার শেষ সময় হলো ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ রাত ১২টা পর্যন্ত। অর্থাৎ শিক্ষার্থীরা প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় পাবেন অনলাইন আবেদন সম্পন্ন করতে।
আবেদন করতে হবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ভর্তি ওয়েবসাইটে। শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে সহজে আবেদন করতে পারবেন।
আবেদন ফি কত টাকা?
ভর্তির প্রাথমিক আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১,০০০ টাকা। এই ফি অনলাইনে পেমেন্ট করার পর শিক্ষার্থীদের আবেদনকৃত কলেজে ৪ জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে জমা দিতে হবে। তাই আবেদন করার সময় অবশ্যই পেমেন্ট সংক্রান্ত রসিদ সংরক্ষণ করতে হবে।
ভর্তি পরীক্ষা কীভাবে হবে?
এবছর থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মানবিক, বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা এবং কারিগরি শাখার সকল শিক্ষার্থীর জন্য ১০০ নম্বরের MCQ ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
ভর্তি পরীক্ষার বিস্তারিত:
| পরীক্ষার ধরন | বিবরণ |
|---|---|
| প্রশ্নের সংখ্যা | ১০০টি MCQ প্রশ্ন |
| পূর্ণমান | ১০০ নম্বর |
| পরীক্ষার সময় | ১ ঘণ্টা (৬০ মিনিট) |
| পাসের নম্বর | ন্যূনতম ৩৫ নম্বর |
ভর্তি পরীক্ষায় পাস করতে হলে শিক্ষার্থীদের ১০০ নম্বরের মধ্যে কমপক্ষে ৩৫ নম্বর পেতে হবে। যারা এই ন্যূনতম নম্বর পাবেন, শুধুমাত্র তারাই মেধাতালিকায় স্থান পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
মেধাতালিকা কীভাবে তৈরি হবে?
মেধাতালিকা তৈরির জন্য তিনটি পরীক্ষার ফলাফল একসাথে হিসাব করা হবে। ভর্তি পরীক্ষার ১০০ নম্বরের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষার জিপিএ-এর ৪০ শতাংশ এবং এইচএসসি পরীক্ষার জিপিএ-এর ৬০ শতাংশ যোগ করা হবে। এভাবে মোট ২০০ নম্বরের ভিত্তিতে চূড়ান্ত মেধাতালিকা প্রস্তুত করা হবে।
মেধা নম্বর গণনা পদ্ধতি:
| পরীক্ষা | মান বণ্টন |
|---|---|
| ভর্তি পরীক্ষা | ১০০ নম্বর |
| এসএসসি জিপিএ | ৪০% (জিপিএ × ৪০) |
| এইচএসসি জিপিএ | ৬০% (জিপিএ × ৬০) |
| মোট নম্বর | ২০০ নম্বর |
যেমন, কোনো শিক্ষার্থী যদি ভর্তি পরীক্ষায় ৭০ নম্বর পান, এসএসসিতে জিপিএ ৫.০০ এবং এইচএসসিতে জিপিএ ৪.৫০ থাকে, তাহলে তার মোট নম্বর হবে: ৭০ + (৫.০০ × ৪০) + (৪.৫০ × ৬০) = ৭০ + ২০০ + ২৭০ = ৫৪০ নম্বর। এই সম্মিলিত নম্বরের ভিত্তিতে তার অবস্থান নির্ধারিত হবে।
ভর্তির যোগ্যতা কী লাগবে?
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাইলে শিক্ষার্থীদের কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। বিভিন্ন শাখার জন্য ভিন্ন ন্যূনতম জিপিএ প্রয়োজন।
মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার জন্য:
| পরীক্ষা | ন্যূনতম জিপিএ |
|---|---|
| এসএসসি পরীক্ষা | জিপিএ ২.০০ |
| এইচএসসি পরীক্ষা | জিপিএ ২.০০ |
| দুই পরীক্ষায় মোট | জিপিএ ৪.৫০ |
অর্থাৎ মানবিক বিভাগ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের এসএসসি এবং এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় আলাদাভাবে কমপক্ষে জিপিএ ২.০০ থাকতে হবে এবং দুইটি মিলিয়ে মোট জিপিএ হতে হবে ৪.৫০ বা তার বেশি।
বিজ্ঞান ও কারিগরি শাখার জন্য:
| পরীক্ষা | ন্যূনতম জিপিএ |
|---|---|
| এসএসসি পরীক্ষা | জিপিএ ২.২৫ |
| এইচএসসি পরীক্ষা | জিপিএ ২.০০ |
| দুই পরীক্ষায় মোট | জিপিএ ৪.৭৫ |
বিজ্ঞান বিভাগ এবং কারিগরি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এসএসসিতে জিপিএ ২.২৫, এইচএসসিতে জিপিএ ২.০০ এবং দুইটি পরীক্ষায় সম্মিলিতভাবে কমপক্ষে জিপিএ ৪.৭৫ লাগবে।
কোন বছরের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন?
শুধুমাত্র এসএসসি ২০২২ ও ২০২৩ সালে এবং এইচএসসি ২০২৪ ও ২০২৫ সালে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাই এবার অনার্স ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। এর বাইরে অন্য কোনো বছরের পাস করা শিক্ষার্থীরা এই সেশনে আবেদনের যোগ্য নয়।
এডমিট কার্ড ডাউনলোড ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ
আবেদন সম্পন্ন করার পর শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষার জন্য এডমিট কার্ড ডাউনলোড করতে হবে। পরীক্ষার তারিখের পাঁচ দিন আগে থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে এডমিট কার্ড সংগ্রহ করা যাবে।
পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের সময় শিক্ষার্থীদের অবশ্যই এডমিট কার্ড এবং এইচএসসি/সমমান পরীক্ষার মূল সনদপত্র সাথে আনতে হবে। এই দুটি জিনিস ছাড়া কাউকে পরীক্ষা হলে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
পরীক্ষার দিন যা নিষিদ্ধ:
কোনো শিক্ষার্থী মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরীক্ষা হলে নিয়ে যেতে পারবেন না। এমনকি স্মার্টওয়াচ বা ব্লুটুথ ডিভাইসও নিষিদ্ধ। এসব নিয়ম ভঙ্গ করলে শিক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল হয়ে যেতে পারে।
বিদেশি বোর্ড ও ও-লেভেল/এ-লেভেল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা
যেসব শিক্ষার্থী ও-লেভেল, এ-লেভেল বা বিদেশি শিক্ষা বোর্ড থেকে পাস করেছেন, তারাও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে তাদের জন্য আলাদা প্রক্রিয়া রয়েছে।
এই শিক্ষার্থীদের ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যেমন মার্কশিট, সার্টিফিকেট এবং সমমান সনদপত্রসহ সরাসরি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকপূর্ব শিক্ষা বিষয়ক স্কুলে গিয়ে আবেদন করতে হবে। তাদেরও আবেদন ফি ১,০০০ টাকা জমা দিয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।
কোটা সুবিধা পাবেন যারা
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন কোটা সুবিধা প্রদান করে থাকে। যেসব শিক্ষার্থী খেলোয়াড় কোটা, প্রতিবন্ধী কোটা বা মুক্তিযোদ্ধা পোষ্য কোটায় আবেদন করতে চান, তাদের প্রাসঙ্গিক কর্তৃপক্ষের সত্যায়িত সনদপত্র জমা দিতে হবে।
যেমন, কোনো জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় হলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সনদ, প্রতিবন্ধী হলে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সনদ এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বা নাতি-নাতনি হলে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সনদ লাগবে। এসব কোটা সনদপত্র ছাড়া কোনো শিক্ষার্থী কোটা সুবিধা দাবি করতে পারবেন না।
ভর্তি বিজ্ঞপ্তি কোথায় পাবেন?
সম্পূর্ণ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি এবং বিস্তারিত গাইডলাইন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.nu.ac.bd-এ পাওয়া যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়ে সম্পূর্ণ বিজ্ঞপ্তি ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।
এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকপূর্ব শিক্ষা বিষয়ক কলেজে যোগাযোগ করতে পারবেন।
আবেদনের আগে যা মনে রাখবেন
অনার্স ভর্তির জন্য আবেদন করার আগে শিক্ষার্থীদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খেয়াল রাখতে হবে:
প্রথমত, নিজের এসএসসি এবং এইচএসসি জিপিএ ভালোভাবে যাচাই করুন। আপনার জিপিএ যদি ন্যূনতম যোগ্যতার চেয়ে কম হয়, তাহলে আবেদন করা যাবে না। দ্বিতীয়ত, আপনি কোন বছর এসএসসি এবং এইচএসসি পাস করেছেন তা নিশ্চিত হন। শুধুমাত্র নির্দিষ্ট বছরের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।
তৃতীয়ত, আবেদন ফি পরিশোধের জন্য অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম যেমন বিকাশ, নগদ বা ব্যাংক কার্ড রেডি রাখুন। চতুর্থত, আবেদন করার সময় সঠিক তথ্য দিন। ভুল তথ্য দিলে পরবর্তীতে ভর্তি বাতিল হতে পারে।
পঞ্চমত, আবেদনের সময় আপনার মোবাইল নম্বর এবং ইমেইল অ্যাড্রেস সঠিক দিন। কারণ এডমিট কার্ড, পরীক্ষার তারিখ এবং ফলাফল সংক্রান্ত সকল তথ্য এই মাধ্যমে পাঠানো হবে।
কেন এবার ভর্তি পরীক্ষা বাধ্যতামূলক?
আগের বছরগুলোতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধুমাত্র এসএসসি ও এইচএসসি-এর ফলাফলের ভিত্তিতে অনার্স ভর্তি হতো। কিন্তু এবার থেকে ভর্তি পরীক্ষা চালু করা হয়েছে। এর পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে।
প্রথমত, ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা যাচাই করা সম্ভব হবে। দ্বিতীয়ত, সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হবে। তৃতীয়ত, যারা সত্যিই পড়াশোনায় আগ্রহী এবং যোগ্য, তারাই মেধাতালিকায় স্থান পাবেন।
এই পরিবর্তন উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা এখন আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রস্তুতি কীভাবে নেবেন?
ভর্তি পরীক্ষার জন্য ভালো প্রস্তুতি নিতে হলে শিক্ষার্থীদের কিছু বিষয়ে মনোযোগ দিতে হবে। যেহেতু পরীক্ষাটি MCQ পদ্ধতিতে হবে, তাই বহুনির্বাচনী প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার দক্ষতা বাড়াতে হবে।
প্রথমত, এইচএসসি পরীক্ষার সিলেবাস ভালোভাবে পড়ুন। কারণ ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন মূলত এইচএসসি পর্যায়ের বিষয়গুলো থেকেই আসবে। দ্বিতীয়ত, প্রতিদিন নিয়মিত অনুশীলন করুন। বিভিন্ন মডেল টেস্ট দিয়ে নিজের প্রস্তুতি যাচাই করুন।
তৃতীয়ত, সময় ব্যবস্থাপনা শিখুন। ১ ঘণ্টায় ১০০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, তাই দ্রুত এবং সঠিকভাবে উত্তর দেওয়ার অভ্যাস করুন। চতুর্থত, গুরুত্বপূর্ণ টপিক চিহ্নিত করুন এবং সেগুলোতে বেশি মনোযোগ দিন।
পঞ্চমত, পূর্ববর্তী বছরের প্রশ্নপত্র দেখুন যদি পাওয়া যায়। এতে পরীক্ষার ধরন সম্পর্কে ধারণা পাবেন। সবশেষে, নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়ান এবং মানসিক চাপ কমিয়ে রাখুন।
শেষ কথা
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স ভর্তি দেশের লাখো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণের একটি সুযোগ। ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের এই ভর্তি প্রক্রিয়া আগের বছরগুলোর থেকে কিছুটা ভিন্ন হলেও এটি আরও স্বচ্ছ এবং মেধাভিত্তিক হয়েছে।
যেসব শিক্ষার্থী এসএসসি ২০২২ বা ২০২৩ এবং এইচএসসি ২০২৪ বা ২০২৫ সালে পাস করেছেন এবং ন্যূনতম জিপিএ পূরণ করেছেন, তারা ২৩ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
এই সুযোগটি কাজে লাগাতে হলে শিক্ষার্থীদের এখনই ভালো প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করা উচিত। নিয়মিত পড়াশোনা, মডেল টেস্ট এবং সময় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন সম্ভব।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করুন এবং সব ধরনের আপডেট সম্পর্কে জানুন। আপনার উচ্চশিক্ষার পথযাত্রা শুভ হোক এবং মেধাতালিকায় আপনার নাম উজ্জ্বল হোক – এই প্রত্যাশা রইল।
