২০২৫ সালের একাদশ শ্রেণি ভর্তির প্রথম ধাপের ফলাফল প্রকাশের পর একটি বিস্ময়কর তথ্য উঠে এসেছে। জিপিএ-৫ পাওয়া ৫ হাজার ৭৬৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থী তাদের পছন্দের কোনো কলেজে ভর্তির সুযোগ পাননি। এই ঘটনা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছে।
কী ঘটেছে একাদশ ভর্তিতে?
একাদশ শ্রেণি ভর্তি ২০২৫ এর প্রথম ধাপে মোট ২৫ হাজার ৩৩ জন শিক্ষার্থী কোনো পছন্দের কলেজে স্থান পান না। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর মধ্যে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো ৫ হাজার ৭৬৫ জন জিপিএ-৫ পাওয়া মেধাবী শিক্ষার্থী রয়েছেন। কলেজে ভর্তির সুযোগ না পাওয়ার এই ঘটনা অনেক অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে।
ভর্তির জন্য আবেদন করা মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ৪৭ হাজার ৯৬২ জন। তাদের মধ্যে ৯৮ শতাংশ শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য মনোনীত হয়েছেন। বাকি ২ শতাংশ শিক্ষার্থী এই পর্যায়ে কোনো সুযোগ পাননি।
কেন এমন পরিস্থিতি হলো?
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর মো. রিজাউল হকের মতে, কলেজ পছন্দ দেওয়ার সময় অনেক শিক্ষার্থী ভুল করেছেন। তারা শুধুমাত্র নামকরা কলেজগুলো বেছে নিয়েছেন। কিন্তু প্রাপ্ত নম্বরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কলেজ নির্বাচন করেননি।
ভালো কলেজের আসন সীমিত হওয়ায় এবং সবাই একই কলেজে ভর্তি হতে চাওয়ার কারণে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভেবেছিলেন তাদের উচ্চ জিপিএ দিয়ে সহজেই পছন্দের কলেজে ভর্তি হতে পারবেন। কিন্তু প্রতিযোগিতার তীব্রতা তাদের প্রত্যাশাকে ব্যর্থ করে দিয়েছে।
কোন কলেজগুলো শিক্ষার্থী পেল না?
৩৭৮টি কলেজ এই পর্যায়ে একজন শিক্ষার্থীও পায়নি। এছাড়াও ১০টি কলেজে কোনো আবেদনই জমা পড়েনি। এই তথ্য প্রমাণ করে যে কলেজ নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্ন রয়েছে। জনপ্রিয় কলেজগুলোতে ভিড় থাকলেও অনেক ভালো কলেজ খালি থেকে যাচ্ছে।
সরকারি কলেজ এবং নামকরা বেসরকারি কলেজের প্রতি শিক্ষার্থীদের ঝোঁক বেশি। অথচ অনেক মানসম্পন্ন কলেজ রয়েছে যেগুলো সম্পর্কে সঠিক তথ্য না থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা আবেদন করেননি।
দ্বিতীয় ধাপে কী হবে?
কলেজ ভর্তির দ্বিতীয় ধাপে যারা প্রথম পর্যায়ে কোনো কলেজে স্থান পাননি তারা আবার আবেদনের সুযোগ পাবেন। শিক্ষা বিভাগের নিশ্চয়তা অনুযায়ী সবাই শেষ পর্যন্ত কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবেন।
দ্বিতীয় ধাপের আবেদনে শিক্ষার্থীদের আরও বাস্তবসম্মত পছন্দ দিতে হবে। উচ্চ জিপিএ পেয়েও যারা প্রথম ধাপে সুযোগ পাননি তাদের কলেজ নির্বাচনের কৌশল পরিবর্তন করতে হবে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের করণীয়
কলেজ ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। জিপিএ-৫ পাওয়া মানেই যেকোনো কলেজে ভর্তি হওয়া যাবে এই ধারণা ভুল। প্রতিযোগিতার মাত্রা এখন অনেক বেশি।
কলেজ পছন্দ দেওয়ার সময় প্রাপ্ত নম্বর, কলেজের কাটঅফ পয়েন্ট এবং আসন সংখ্যা বিবেচনা করতে হবে। শুধুমাত্র নামকরা কলেজ না দেখে মানসম্পন্ন সব কলেজের প্রতি নজর দিতে হবে।
শিক্ষাব্যবস্থায় এর প্রভাব
এই ঘটনা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছে। মানসম্পন্ন কলেজের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং আসন সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ পেয়েছে। শিক্ষার মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি সুযোগের সমতা নিশ্চিত করাও জরুরি।
উচ্চশিক্ষার সুযোগ সবার জন্য সহজলভ্য করতে হলে আরও বেশি মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তির সুযোগ না পাওয়ার ঘটনা দেশের শিক্ষানীতি পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা
একাদশ শ্রেণি ভর্তি প্রক্রিয়া আরও উন্নত ও স্বচ্ছ করার প্রয়োজন রয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঠিক গাইডলাইন প্রদান করা উচিত। কলেজের তথ্য সহজলভ্য করে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নতি প্রয়োজন। দ্বিতীয় ধাপে সবাই কলেজে ভর্তির সুযোগ পেলেও এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি।
