দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫) অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। এই ঐতিহাসিক নির্বাচনে ভোট দেবেন ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন শিক্ষার্থী। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে এই গুরুত্বপূর্ণ ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া।
ডাকসু নির্বাচনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৮টি কেন্দ্রে ৮১০টি বুথ স্থাপন করেছে। এই বিশাল আয়োজনে কেন্দ্রীয় সংসদের ২৮টি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৴৭১ জন প্রার্থী। এছাড়া ১৮টি হল সংসদের ১৩টি পদে আরও ১ হাজার ৩৫ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করছেন।
নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় চ্যালেঞ্জ
ডাকসু নির্বাচন ২০২৫-এর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা। প্রায় ৪০ হাজার ভোটারের জন্য মাত্র ৮টি কেন্দ্র নির্ধারণ করায় প্রতি কেন্দ্রে গড়ে ৫ হাজার ভোটার পড়বে। আর প্রতিটি বুথে থাকবে গড়ে ৫৬ জন ভোটার।
বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থীকে কেন্দ্রীয় ও হল সংসদের মোট ৪১টি পদে ভোট দিতে সময় লাগবে প্রায় ৮ মিনিট। এর অর্থ হল প্রতি ১২ সেকেন্ডে একটি করে ভোট দিতে হবে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করতে।
নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণে সুবিধা বাড়াতে বুথের সংখ্যা ৫০০ থেকে বাড়িয়ে ৮১০ করেছে। এই বৃদ্ধি ৬২ শতাংশ যা ভোটারদের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে কেন্দ্রের সংখ্যা অপরিবর্তিত রাখায় বেশিরভাগ প্যানেলের প্রার্থীরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
ছাত্র রাজনীতিতে নতুন দিগন্ত
এই ডাকসু নির্বাচন শুধু একটি সাধারণ নির্বাচন নয়, বরং এটি বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে গণতান্ত্রিক চর্চার পুনর্জীবন ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঐতিহাসিক নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন। এই নির্বাচনের ফলাফল শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যই নয়, সমগ্র দেশের ছাত্র সমাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা হয়ে উঠবে।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা
ডাকসু নির্বাচন ২০২৫ এর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। ৮১০টি বুথের প্রতিটিতে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করেছে যে সকল ভোটার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
এই নির্বাচনের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে একটি গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা করবেন। আশা করা যাচ্ছে যে এই ঐতিহাসিক নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হবে এবং নতুন ছাত্র নেতৃত্ব উৎকর্ষ সাধনে কাজ করবে।
