পূর্ণ মন্ত্রীর ক্ষমতাধারীর তালিকা ২০২৬ | কে কোন মন্ত্রণালয় দায়িত্ব পেলেন চলুন জেনে নিই

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি পঞ্চম বারের মতো সরকার গঠন করেছে।

নতুন এই মন্ত্রিসভায় (Cabinet Ministers) মোট ৪৯ জন সদস্য রয়েছেন, যার মধ্যে ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী (Full Ministers) এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী (State Ministers) দায়িত্ব পেয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান। এই মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, টেকনোক্র্যাট এবং নবীন-প্রবীণ মিলিয়ে একটি সুষম মন্ত্রিপরিষদ গঠন করা হয়েছে।

২০ বছর পর বিএনপি সরকার ক্ষমতায় ফিরে এসেছে এবং নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে। এই নতুন মন্ত্রিসভা ২০২৬-এ কারা কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন এবং তাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রীর তালিকা ২০২৬ এবং তাদের মন্ত্রণালয়

পূর্ণ মন্ত্রী (Full Ministers) হলেন সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি যারা নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। নতুন মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী দায়িত্ব পেয়েছেন যাদের মধ্যে অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ এবং দক্ষ প্রশাসকরা রয়েছেন।

দলের সিনিয়র নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। অর্থনৈতিক বিষয়ে অভিজ্ঞ আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী পেয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়-এর দায়িত্ব। দেশের নিরাপত্তা রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পেয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমেদ।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, এবারের মন্ত্রিসভায় তিনজন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী রয়েছেন। বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ডা. খলিলুর রহমান পেয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-এর দায়িত্ব। কৃষি সেক্টরে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ পেয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়।

২০২৬ সালের পূর্ণ মন্ত্রীদের বিস্তারিত তালিকা

ক্রমিক নং মন্ত্রীর নাম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব
১ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়
২ আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থ মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়
৩ সালাহউদ্দিন আহমেদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
৪ ইকবাল হাসান মাহমুদ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়
৫ হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়
৬ আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়
৭ ডা. খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
৮ আব্দুল আউয়াল মিন্টু পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়
৯ কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়
১০ মিজানুর রহমান মিনু ভূমি মন্ত্রণালয়
১১ নিতাই রায় চৌধুরী সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়
১২ খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়
১৩ আরিফুল হক চৌধুরী শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়
১৪ জহির উদ্দিন স্বপন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়
১৫ মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ (টেকনোক্র্যাট) কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়
১৬ আফরোজা খানম বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়
১৭ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়
১৮ আসাদুল হাবিব দুলু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়
১৯ মো. আসাদুজ্জামান আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়
২০ জাকারিয়া তাহের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়
২১ দীপেন দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়
২২ আ ন ম এহসানুল হক মিলন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
২৩ সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
২৪ ফকির মাহবুব আনাম ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়
২৫ শেখ রবিউল আলম সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়

২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর তালিকা ২০২৬ | State Ministers List

প্রতিমন্ত্রী (State Ministers) হলেন পূর্ণ মন্ত্রীদের সহায়তাকারী যারা নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কিছু দায়িত্ব পালন করেন। নতুন মন্ত্রিসভায় ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ববি হাজ্জাজ যিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন এবং নুরুল হক নুর যিনি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে টেকনোক্র্যাট প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. আমিনুল হক। এছাড়াও সুলতান সালাউদ্দিন টুকু কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কৃষকদের উন্নয়নে কাজ করবেন। শামা ওবায়েদ ইসলাম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কাজে সহায়তা করবেন।

প্রতিমন্ত্রীদের সম্পূর্ণ তালিকা ও মন্ত্রণালয়

ক্রমিক নং প্রতিমন্ত্রীর নাম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব
১ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়
২ অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়
৩ মো. শরিফুল আলম বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়
৪ শামা ওবায়েদ ইসলাম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
৫ সুলতান সালাউদ্দিন টুকু কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়
৬ ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ভূমি মন্ত্রণালয়
৭ ফরহাদ হোসেন আজাদ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়
৮ মো. আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়
৯ নুরুল হক নুর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়
১০ ইয়াসের খান চৌধুরী তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়
১১ এম ইকবাল হোসেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়
১২ এম এ মুহিত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
১৩ আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়
১৪ ববি হাজ্জাজ শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
১৫ আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়
১৬ মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়
১৭ হাবিবুর রশিদ সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়
১৮ মো. রাজিব আহসান সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়
১৯ মো. আব্দুল বারী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
২০ মীর শাহে আলম স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়
২১ জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি অর্থ মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়
২২ ইশরাক হোসেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়
২৩ ফারজানা শারমীন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়
২৪ শেখ ফরিদুল ইসলাম পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, ধর্ম বিষয়ক এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়

নতুন মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈশিষ্ট্য | Cabinet 2026 Highlights

২০২৬ সালের মন্ত্রিসভায় বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা এই সরকারকে অনন্যতা দিয়েছে। প্রথমত, এই মন্ত্রিসভায় নবীন-প্রবীণ মিশ্রণ রয়েছে। অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি নতুন মুখও স্থান পেয়েছে যারা প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য (MP) হয়ে সরাসরি মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন।

দ্বিতীয়ত, তিনজন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন যা প্রমাণ করে যে সরকার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিয়েছে। টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীরা হলেন ডা. খলিলুর রহমান (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়), মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ (কৃষি মন্ত্রণালয়) এবং মো. আমিনুল হক (যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী)।

তৃতীয়ত, বিভাগভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর এবং ময়মনসিংহ – সকল বিভাগ থেকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সারাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়েছে এবং আঞ্চলিক উন্নয়নে সমতা আনা সম্ভব হবে।

চতুর্থত, নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি করা হয়েছে। মন্ত্রিসভায় একাধিক নারী মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন যেমন আফরোজা খানম (বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী) এবং ফারজানা শারমীন (মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী)। এটি নারীর ক্ষমতায়ন এবং জেন্ডার সমতা নিশ্চিতকরণের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।

পঞ্চমত, সুপ্রিম কোর্টের পাঁচজন আইনজীবী মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন যা আইনি বিষয়ে দক্ষতা নিশ্চিত করবে। এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে যেমন হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম যিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।

গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়সমূহ এবং তাদের দায়িত্ব | Key Ministries

নতুন মন্ত্রিসভায় বেশ কিছু কৌশলগত মন্ত্রণালয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অর্থ মন্ত্রণালয় দেশের অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণ করবে এবং আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী তার অভিজ্ঞতা দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে কাজ করবেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করবে এবং সালাহউদ্দিন আহমেদ এই দায়িত্ব পালন করবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে টেকনোক্র্যাট ডা. খলিলুর রহমান বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করবেন যা বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালীকরণে সহায়ক হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় দেশের শক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং ইকবাল হাসান মাহমুদ এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন। কৃষি মন্ত্রণালয় কৃষকদের উন্নয়ন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করবে যার দায়িত্বে রয়েছেন টেকনোক্র্যাট মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে কাজ করবে এবং আ ন ম এহসানুল হক মিলন শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও মানোন্নয়নে পদক্ষেপ নেবেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন-এর নেতৃত্বে কাজ করবে।

মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান | Oath Ceremony Details

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন প্রথমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-কে শপথ বাক্য পাঠ করান এবং পরবর্তীতে ৪৯ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে একযোগে শপথ বাক্য পাঠ করান।

শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা। শপথ অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন এবং জাতির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত বক্তব্যে দেশের উন্নয়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

শপথ গ্রহণের পর বুধবার থেকে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে অফিস করবেন এবং নতুন মন্ত্রীরাও তাদের নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন এবং বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন।

উপদেষ্টা পরিষদ | Advisory Council 2026

মন্ত্রিসভার পাশাপাশি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়েছে যেখানে ১০ জন উপদেষ্টা নিয়োগ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন আব্বাস এবং রিজভী যারা বিএনপির দীর্ঘদিনের নিবেদিত নেতা। এছাড়াও জাহেদ উর রহমান প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

উপদেষ্টারা প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন নীতি নির্ধারণে পরামর্শ প্রদান করবেন এবং সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। এটি একটি পরামর্শমূলক প্রক্রিয়া যা সরকারকে জনগণের কাছাকাছি রাখবে এবং বিভিন্ন মতামত বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

মন্ত্রীদের সুযোগ-সুবিধা | Facilities for Ministers

প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন যা তাদের দায়িত্ব পালনে সহায়ক হবে। প্রধানমন্ত্রী পাবেন সরকারি বাসভবন, গাড়ি, নিরাপত্তা, চিকিৎসা ভাতা এবং ভ্রমণ ভাতা। তিনি আজীবন বিশেষ নিরাপত্তা এবং অন্যান্য সুবিধা পাবেন।

পূর্ণ মন্ত্রীরা পাবেন সরকারি বাসা, গাড়ি, ফোন সুবিধা, চিকিৎসা ভাতা এবং ভ্রমণ ভাতা। প্রতিমন্ত্রীরাও একই ধরনের সুবিধা পাবেন তবে কিছু ক্ষেত্রে পরিমাণ ভিন্ন হবে। মন্ত্রীদের পরিবারের সদস্যরাও সরকারি চিকিৎসা সুবিধা পাবেন এবং তাদের সন্তানদের জন্য শিক্ষা ভাতা প্রদান করা হবে।

মন্ত্রীরা সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা পাবেন যাতে তারা নির্বিঘ্নে দেশ ও জনগণের সেবা করতে পারেন। এছাড়াও তাদের জন্য ব্যক্তিগত সচিব (PS) এবং সহকারী ব্যক্তিগত সচিব (APS) নিয়োগ দেওয়া হবে যারা তাদের প্রশাসনিক কাজে সহায়তা করবেন।

নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা | Challenges and Expectations

নতুন বিএনপি সরকারের সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দ্বিতীয়ত, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তৃতীয়ত, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধান করা এবং জনগণের কাছে নিরবচ্ছিন্ন সেবা পৌঁছানো।

চতুর্থত, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন করা এবং সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য করা। পঞ্চমত, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং যুবসমাজকে কর্মক্ষম করে তোলা। ষষ্ঠত, কৃষি ও শিল্পের উন্নয়ন করা এবং দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি করা। সপ্তমত, দুর্নীতি প্রতিরোধ করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।

অন্যদিকে, জনগণ নতুন সরকারের কাছে অনেক প্রত্যাশা করছে। তারা চায় দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকুক, বেকারত্ব দূর হোক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নত হোক এবং দুর্নীতি বন্ধ হোক। জনগণ আশা করছে যে নতুন সরকার তাদের নির্বাচনী ওয়াদা পূরণ করবে এবং দেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী করে তুলবে।

মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক ও কর্মপরিকল্পনা | First Cabinet Meeting

নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হবে যেখানে সরকারের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে। বৈঠকে আলোচনা হবে জরুরি সমস্যা সমাধান, বাজেট প্রণয়ন, উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন এবং নীতি সংস্কার নিয়ে। প্রতিটি মন্ত্রণালয় তাদের ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করবে যাতে সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য পরিষ্কার হয়।

মন্ত্রিসভা মাসিক বৈঠক করবে এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়মিত মন্ত্রীদের সাথে মতবিনিময় করবেন এবং সরকারি কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন। এছাড়াও মন্ত্রিসভা জনগণের সাথে সংযোগ রাখতে বিভিন্ন এলাকায় সফর করবে এবং তাদের সমস্যা সরাসরি শুনবে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন | FAQ Section

১. ২০২৬ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কে?

২০২৬ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হলেন তারেক রহমান। তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। এটি বিএনপির পঞ্চম বারের সরকার গঠন।

২. নতুন মন্ত্রিসভায় মোট কতজন সদস্য আছেন?

নতুন মন্ত্রিসভায় মোট ৪৯ জন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। এছাড়াও তিনজন টেকনোক্র্যাট (অরাজনৈতিক দক্ষ ব্যক্তি) মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

৩. অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে কে আছেন?

অর্থ মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ এবং অর্থনীতিবিদ যিনি দেশের অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন এবং বাজেট প্রস্তুতে দায়িত্ব পালন করবেন।

৪. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে কে?

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, পুলিশ প্রশাসন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবেন। এটি সরকারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়।

৫. পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কে?

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হলেন ডা. খলিলুর রহমান যিনি একজন টেকনোক্র্যাট (অরাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ)। তিনি বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন এবং কূটনৈতিক বিষয়ে অভিজ্ঞ। তিনি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করবেন।

৬. শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কার কাছে?

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন, পাঠ্যক্রম সংস্কার এবং শিক্ষার্থীদের উন্নত শিক্ষা প্রদানে কাজ করবেন। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন ববি হাজ্জাজ।

৭. টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী কারা এবং কেন তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে?

টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হলেন এমন ব্যক্তি যারা রাজনীতিবিদ নন কিন্তু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ এবং অভিজ্ঞ। নতুন মন্ত্রিসভায় তিনজন টেকনোক্র্যাট আছেন: ডা. খলিলুর রহমান (পররাষ্ট্র মন্ত্রী), মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ (কৃষি মন্ত্রী) এবং মো. আমিনুল হক (যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী)। তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে যাতে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটে এবং সরকার আরও কার্যকর হয়।

৮. কোন বিভাগ থেকে সবচেয়ে বেশি মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ পেয়েছেন?

ঢাকা বিভাগ থেকে সবচেয়ে বেশি মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ পেয়েছেন। তবে সরকার সকল বিভাগ থেকে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছে যাতে দেশের সকল অঞ্চলের উন্নয়ন সমান হয়। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর এবং ময়মনসিংহ বিভাগ থেকেও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

উপসংহার | Conclusion

২০২৬ সালের নতুন মন্ত্রিসভা বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন যাত্রার সূচনা করেছে। ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে গঠিত এই মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, টেকনোক্র্যাট এবং নবীন নেতৃত্ব রয়েছে যা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে বিএনপি সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে এবং দেশকে উন্নত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নতুন মন্ত্রিসভার সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে কিন্তু জনগণ আশাবাদী যে এই সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং দুর্নীতি দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

এই আর্টিকেলে আমরা পূর্ণ মন্ত্রীর তালিকা ২০২৬, প্রতিমন্ত্রীদের তালিকা, কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন এবং নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করি এই তথ্য আপনার জন্য উপকারী হয়েছে এবং আপনি বাংলাদেশের নতুন মন্ত্রিসভা ২০২৬ সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা পেয়েছেন।

শাকিল আহম্মেদ
শাকিল আহম্মেদhttps://porasonablog.com
মোঃ শাকিল আহাম্মেদ শিক্ষা বিষয়ক সংবাদ নিয়ে নিয়মিত কাজ করছেন এবং ভর্তি, রেজাল্ট ও বিভিন্ন পরীক্ষার আপডেট সংগ্রহ ও যাচাই করেন। তিনি অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। তথ্য প্রকাশের আগে তিনি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল নোটিশ ও নির্ভরযোগ্য সূত্র মিলিয়ে দেখেন। শিক্ষার্থীদের জন্য দ্রুত ও নির্ভুল তথ্য পৌঁছে দেওয়াই তার প্রধান লক্ষ্য।
রিলেটেড আরটিকেল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

জনপ্রিয় নিউজ