দেশের লাখো শিক্ষার্থীর জন্য বহুল প্রতীক্ষিত সংবাদ এসেছে। বাংলাদেশ শিক্ষা বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এখন নিশ্চিত হতে পারছেন তাদের পাবলিক পরীক্ষার তারিখ নিয়ে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, আগামী এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে শুরু হবে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। একই সঙ্গে জুন মাসের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এই ঘোষণায় সারাদেশের শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরেছে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দকার এহসানুল কবির সাংবাদিকদের জানান, পরীক্ষার সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। টেস্ট পরীক্ষা ও ফরম পূরণসহ প্রাথমিক কাজগুলো শেষ পর্যায়ে রয়েছে।”
এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬ নিয়ে যা জানা গেছে তা হলো, ইতোমধ্যে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের নির্বাচনী পরীক্ষা বা টেস্ট পরীক্ষা এবং ফরম পূরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে চলছে পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতি। শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাঠপর্যায় থেকে বিশেষ কোনো অনুরোধ এলে ফরম পূরণের সময় দু-একদিন বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬ এর জন্য আগামী ১ মার্চ থেকে শুরু হবে ফরম পূরণের কাজ। শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই পুরো ফরম পূরণ প্রক্রিয়া শেষ করা যাবে। এরপর শুরু হবে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের টেস্ট পরীক্ষা এবং অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম।
পরীক্ষা পিছিয়ে নেওয়ার কারণ সম্পর্কে জানা যায়, চলতি বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং পবিত্র রমজান মাসের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এসএসসি পরীক্ষা এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে পিছিয়ে নেওয়া হয়েছে। সাধারণত প্রতিবছর ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি পরীক্ষা এবং এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তবে করোনা মহামারির প্রভাব ও পরবর্তী বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে গত কয়েক বছর ধরে এই স্বাভাবিক শিক্ষাসূচি বজায় রাখা সম্ভব হয়নি।
শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষা কেন্দ্র নির্ধারণ, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, পরীক্ষক নিয়োগসহ সকল প্রশাসনিক কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।
এবারের পরীক্ষায় দেশব্যাপী লাখো শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সকল সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে একযোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে যেন কোনো দুশ্চিন্তা না করে তারা। নিয়মিত ক্লাস, কোচিং এবং বাড়িতে পড়াশোনা চালিয়ে গেলে ভালো ফলাফল অর্জন করা সম্ভব।
পাবলিক পরীক্ষার রুটিন শিগগিরই প্রকাশিত হবে বলে জানানো হয়েছে। রুটিন প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিতে পারবেন। এছাড়া প্রবেশপত্র ডাউনলোড সংক্রান্ত তথ্যও শিক্ষা বোর্ডের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে যথাসময়ে।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা হওয়ায় এখন শিক্ষার্থীরা পরিকল্পনামাফিক পড়াশোনা করতে পারবেন। এতে তাদের মানসিক চাপও কমবে এবং পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের সম্ভাবনা বাড়বে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে পরিস্থিতি সাপেক্ষে শিক্ষা বোর্ড নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা অবহিত করা হবে। সকল শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার জন্য শুভকামনা জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ টিপস: নিয়মিত পড়াশোনা করুন, সময়সূচি মেনে চলুন, স্বাস্থ্যের যত্ন নিন এবং মানসিক চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন, সঠিক প্রস্তুতিই সফলতার চাবিকাঠি।
