২০২৫ শিক্ষাবর্ষে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর। আজ ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে জানানো হয়েছে যে এই রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চলবে আগামী ৬ অক্টোবর পর্যন্ত।
কারা রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন?
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার বিদ্যালয় পরিদর্শক ড. মো. মাসুদ রানা খানের সই করা জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরাই এই রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ পাবেন। ২০২৪ সালে সপ্তম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং ২০২৩ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করা শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা পাবেন।
এই নিয়মের ফলে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ধারাবাহিকতা নিশ্চিত হবে এবং অনলাইন শিক্ষার্থী তথ্য ফরম (ইএসআইএফ) পূরণের মাধ্যমে তাদের সঠিক তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।
বয়সসীমা ও যোগ্যতা
বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী, পরীক্ষার বছরের ১ জানুয়ারি তারিখে শিক্ষার্থীর বয়স হতে হবে ন্যূনতম ১১ বছর এবং সর্বোচ্চ ১৭ বছর। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই বয়সসীমা সর্বোচ্চ ২২ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য। এই বিশেষ ব্যবস্থা প্রতিবন্ধী ও অন্যান্য সহায়তা প্রয়োজন এমন শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে সহায়ক।
প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, শুধুমাত্র অনুমোদিত ও স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই নিজ প্রতিষ্ঠানের নামে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। যেসব প্রতিষ্ঠান অনুমোদিত নয়, সেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিকটবর্তী অনুমোদিত স্কুল বা কলেজের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এই নিয়ম শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণ ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাগত সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয়।
রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া: ধাপে ধাপে গাইড
অনলাইন রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রথমে বোর্ডের ওয়েবসাইটে যেতে হবে। সেখানে ওইএমএন বা ইএসআইএফ বাটনে ক্লিক করে ইআইআইএন ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে। লগইন সফল হওয়ার পর শিক্ষার্থীর সংখ্যা, নাম ও মোবাইল নম্বর দিয়ে সোনালী সেবার স্লিপ প্রিন্ট করতে হবে।
এরপর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাংকে গিয়ে নির্ধারিত ফি জমা দিতে হবে। পেমেন্ট ক্লিয়ার হওয়ার পর শিক্ষার্থীর তথ্য ইএসআইএফ পূরণ করে ফাইনাল সাবমিট করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ফাইনাল সাবমিটের আগে ভর্তি ফরম ও জন্মসনদের সাথে তথ্য মিলিয়ে যাচাই করে নিতে হবে।
রেজিস্ট্রেশন ফি ও খরচ
রেজিস্ট্রেশন ফি হিসেবে প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য ২৫০ টাকা এবং যুব রেডক্রিসেন্ট ফি হিসেবে ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ৬০ টাকার মধ্যে ৩৬ টাকা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব যুব রেডক্রিসেন্ট কার্যক্রমের জন্য রাখবে এবং ২৪ টাকা শিক্ষা বোর্ডে জমা দেবে। এই ফি কাঠামো সাশ্রয়ী এবং পরিবারের জন্য সহনীয়।
রেজিস্ট্রেশন কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক
বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের সমন্বয়ে তিন সদস্যের রেজিস্ট্রেশন কমিটি গঠন করতে হবে। অনলাইন রেজিস্ট্রেশন শেষে প্রিন্ট কপি সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক। শিক্ষার্থীর তথ্যে কোনো ভুল থাকলে তার দায়ভার প্রতিষ্ঠান প্রধান ও কমিটির সদস্যদের ওপর বর্তাবে। এই ব্যবস্থা তথ্যের নির্ভুলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।
নতুন প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ নির্দেশনা
বোর্ড আরও জানিয়েছে যে, যেসব প্রতিষ্ঠান নতুন পাঠদানের অনুমতি পেয়েছে, তারা ব্যানবেইস থেকে ইআইআইএন সংগ্রহের পর সোনালী ব্যাংকে ১ হাজার ৫০০ টাকা জমা দিয়ে লগইন পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে। স্বীকৃতি হালনাগাদ না থাকলে দ্রুত স্বীকৃতি নবায়নের আবেদন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তারিখ মনে রাখুন
রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা: ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর ২০২৫। এই ১৩ দিনের সময়সীমার মধ্যে সমস্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। দেরি করলে পরবর্তী সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে, যা শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জীবনে বিলম্ব ঘটাবে।
সতর্কতা ও পরামর্শ
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনের সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। জন্ম তারিখ, নাম বানান, পিতা-মাতার নাম সহ সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দেওয়া হলে পরবর্তীতে সংশোধনের জন্য অতিরিক্ত সময় ও অর্থের প্রয়োজন হতে পারে।
ইন্টারনেট সংযোগ স্থিতিশীল রাখা এবং রেজিস্ট্রেশনের প্রিন্ট কপি নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই রেজিস্ট্রেশন কার্ড ভবিষ্যতে বিভিন্ন শিক্ষাগত কাজে প্রয়োজন হবে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের এই অনলাইন রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করার পাশাপাশি শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট নিয়মিত দেখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
