ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি পরীক্ষার সম্পূর্ণ গাইড

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার সাত কলেজ নিয়ে গঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে এই নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী।

এই প্রতিষ্ঠানটিতে তিনটি বিভাগে ভর্তি নেওয়া হচ্ছে – কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান, বিজ্ঞান এবং ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট। যারা উচ্চশিক্ষার জন্য একটি মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতে চান, তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার সুযোগ।

কোন কলেজগুলো এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে মোট সাড়ে চার হাজার আসন রয়েছে। এই আসনগুলো সাতটি বিখ্যাত কলেজে ভাগ করা হয়েছে। ঢাকা কলেজে ৬৮১টি আসন রয়েছে, যা সবচেয়ে পুরাতন ও ঐতিহ্যবাহী কলেজ হিসেবে পরিচিত। ইডেন মহিলা কলেজ একটি বিশেষ নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেখানে ৭৮৫টি আসন আছে।

সরকারি তিতুমীর কলেজে ৭৬৫টি এবং সরকারি বাঙলা কলেজে ৬৭৪টি আসন রয়েছে। এছাড়াও বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে ৫৯৩টি, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে ৪৬৫টি এবং কবি নজরুল সরকারি কলেজে ৫২৯টি আসন রয়েছে। এই সব কলেজে পড়াশোনার মান খুবই উন্নত এবং অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলী আছেন।

আবেদনের যোগ্যতা কী কী

ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা থাকতে হবে। যারা ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং ২০২৩ অথবা ২০২৪ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, কেবল তারাই আবেদন করতে পারবেন। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত যা সবাইকে মনে রাখতে হবে।

যারা আগে থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সাত কলেজে আবেদন করেছেন, তাদের আলাদা করে নতুন আবেদনের প্রয়োজন নেই। তাদের আগের আবেদনই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বৈধ হিসেবে গণ্য হবে। তবে যারা আবেদন প্রত্যাহার করতে চান, তারা তাদের জমা করা টাকা ফেরত পেয়ে যাবেন।

আবেদন পদ্ধতি এবং সময়সূচী

ভর্তি আবেদন করতে হবে সম্পূর্ণ অনলাইনে। আবেদনের সময় ১০ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। আবেদন ফি মাত্র ৮০০ টাকা, যা খুবই সাশ্রয়ী। এই অল্প খরচেই একটি মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

আবেদনের জন্য নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে যেতে হবে। সেখানে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে অনলাইন পেমেন্ট করতে হবে। আবেদন করার সময় সব তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া জরুরি, কারণ পরে এগুলো পরিবর্তন করা যাবে না।

ভর্তি পরীক্ষার নম্বর বণ্টন

ভর্তি পরীক্ষা মোট ১০০ নম্বরের হবে। এই পরীক্ষায় তিনটি বিষয় থাকবে – বাংলা ২৫ নম্বর, ইংরেজি ২৫ নম্বর এবং সাধারণ জ্ঞান ৫০ নম্বর। সাধারণ জ্ঞানে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি থাকবে। এছাড়াও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সমাজবিজ্ঞান, পৌরনীতি, অর্থনীতি, ইতিহাস, ভূগোল এবং যুক্তিবিদ্যা থেকে প্রশ্ন আসবে।

পরীক্ষায় মোট ১০০টি প্রশ্ন থাকবে এবং পাস নম্বর ৪০। যারা ৪০ এর কম পাবেন, তাদের আর বিবেচনা করা হবে না। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে। তাই অনুমান করে উত্তর না দেওয়াই ভালো।

পরীক্ষার তারিখ ও সময়

কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষা হবে ২২ আগস্ট শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত। বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষা ২৩ আগস্ট শনিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত হবে। ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের পরীক্ষা একই দিন অর্থাৎ ২৩ আগস্ট বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।

প্রবেশপত্র ডাউনলোড করা যাবে ১৭ আগস্ট থেকে। আর আসনবিন্যাস প্রকাশ করা হবে ২০ আগস্ট থেকে। এই তারিখগুলো মনে রাখা খুবই জরুরি, কারণ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সব কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

পরীক্ষার নিয়মকানুন

পরীক্ষার দিন OMR শিট বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই দেওয়া হবে। অতিরিক্ত কোনো শিট দেওয়া হবে না। উত্তর দেওয়ার সময় নির্দিষ্ট বৃত্ত পূরণ করতে হবে। পরীক্ষার সময় প্রবেশপত্র ছাড়া আর কোনো কাগজপত্র নিয়ে আসা যাবে না।

মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, বই, ইলেকট্রনিক ঘড়ি বা যেকোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরীক্ষা হলে নিয়ে আসা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি ভিসা, মাস্টারকার্ড বা এটিএম কার্ড নিয়ে আসাও যাবে না। এই নিয়মগুলো খুব কঠোরভাবে মানতে হবে।

প্রস্তুতির জন্য পরামর্শ

ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের ২০২ৄ সালের নির্ধারিত পাঠ্যসূচি অনুযায়ী হবে। তাই HSC এর বইগুলো ভালোভাবে পড়তে হবে। বিশেষ করে বাংলা ও ইংরেজি ব্যাকরণের দিকে নজর দিতে হবে। সাধারণ জ্ঞানের জন্য বর্তমান সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো জানতে হবে।

নিয়মিত অনুশীলন করা খুবই প্রয়োজন। বিগত বছরের প্রশ্নপত্র সমাধান করলে পরীক্ষার ধরন সম্পর্কে ভালো ধারণা পাওয়া যাবে। সময় ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মাত্র এক ঘণ্টায় ১০০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি একটি নতুন ও প্রতিশ্রুতিশীল প্রতিষ্ঠান। এখানে পড়াশোনার মান হবে অত্যন্ত উন্নত। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে সেমিস্টার পদ্ধতিতে পাঠদান শুরু হবে, যা আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবিধা হল এটি ঢাকা শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই ভালো। এছাড়াও এখানকার লাইব্রেরি, ল্যাবরেটরি এবং অন্যান্য সুবিধা আধুনিক মানের হবে। ভবিষ্যতে এখান থেকে পাস করা ছাত্রছাত্রীরা দেশে-বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে ভালো সুযোগ পাবেন।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া মানে একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়া। তাই আগ্রহী শিক্ষার্থীরা সময়মতো আবেদন করে ভালো প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

শাকিল আহম্মেদ
শাকিল আহম্মেদhttps://porasonablog.com
মোঃ শাকিল আহাম্মেদ শিক্ষা বিষয়ক সংবাদ নিয়ে নিয়মিত কাজ করছেন এবং ভর্তি, রেজাল্ট ও বিভিন্ন পরীক্ষার আপডেট সংগ্রহ ও যাচাই করেন। তিনি অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। তথ্য প্রকাশের আগে তিনি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল নোটিশ ও নির্ভরযোগ্য সূত্র মিলিয়ে দেখেন। শিক্ষার্থীদের জন্য দ্রুত ও নির্ভুল তথ্য পৌঁছে দেওয়াই তার প্রধান লক্ষ্য।
রিলেটেড আরটিকেল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

জনপ্রিয় নিউজ