ডিগ্রি উত্তীর্ণদের জন্য প্রাইভেট প্রিলিমিনারী টু মাস্টার্স ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের এই প্রোগ্রামে অনলাইনে আবেদন শুরু হচ্ছে আগামী ১৫ জুন, সোমবার বিকেল ৪টা থেকে। আবেদন চলবে ৩০ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত। যেসব শিক্ষার্থী তিন বছর মেয়াদি ডিগ্রি (পাস) কোর্স শেষ করেছেন, তাদের জন্যই মূলত এই সুযোগ।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত এবং নির্বাচিত কলেজগুলোতে ভর্তি হতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের পুরো আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে অনলাইনে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা মাস্টার্স পর্যায়ে পড়ার অপেক্ষায় ছিলেন, তাঁদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। বিশেষ করে চাকরিজীবী কিংবা যাঁরা নিয়মিত কোর্সে অংশ নিতে পারেননি, তাঁদের জন্য প্রাইভেট প্রোগ্রাম একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প।
কারা আবেদন করতে পারবেন
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অনুষ্ঠিত তিন বছর মেয়াদি ডিগ্রি (পাস) অথবা সমমানের সার্টিফিকেট কোর্স পরীক্ষায় নির্ধারিত যোগ্যতা অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা এই প্রোগ্রামে আবেদনের সুযোগ পাবেন। অর্থাৎ যাঁরা ইতিমধ্যে ডিগ্রি পাস করেছেন, কিন্তু এখনো মাস্টার্স পর্যায়ে ভর্তি হতে পারেননি, তাঁদের সামনে এটিই উপযুক্ত সময়।
আবেদন ফি ও রেজিস্ট্রেশন খরচ
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এবার আবেদন ফি ধরা হয়েছে ১ হাজার টাকা। এর সঙ্গে রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ দিতে হবে আরও ১ হাজার ৬২০ টাকা। সব মিলিয়ে একজন শিক্ষার্থীর মোট খরচ পড়বে প্রায় ২ হাজার ৭০০ টাকা। নির্ধারিত এই ফি আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কলেজে জমা দিতে হবে। কেউ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা জমা না দিলে তাঁর আবেদন বাতিল বলে গণ্য হতে পারে।
আবেদন যেভাবে করবেন
আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বিষয়ক ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। ফরম পূরণের সময় ডিগ্রি পরীক্ষার রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, পাসের সাল, পছন্দের কলেজ ও বিষয় সঠিকভাবে নির্বাচন করতে হবে। আবেদন শেষে প্রার্থীকে পূরণ করা ফরমের একটি প্রিন্ট কপি, পরীক্ষার মূল মার্কশিট/সনদের ফটোকপি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নির্ধারিত কলেজে গিয়ে আবেদন চূড়ান্ত করতে হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
সাধারণত প্রাইভেট প্রিলিমিনারী টু মাস্টার্স ভর্তিতে অনলাইন আবেদনের প্রিন্ট কপি, ডিগ্রি (পাস) পরীক্ষার মার্কশিটের সত্যায়িত ফটোকপি, রেজিস্ট্রেশন কার্ড, এসএসসি ও এইচএসসির সনদের ফটোকপি, সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি এবং জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের কপি জমা দিতে হয়। নির্দিষ্ট কাগজপত্রের তালিকা ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে আলাদাভাবে উল্লেখ থাকতে পারে, তাই কলেজে জমা দেওয়ার আগে তা ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়াই ভালো।
প্রাইভেট কোর্সের বিশেষত্ব
নিয়মিত মাস্টার্স কোর্সের তুলনায় প্রাইভেট কোর্সে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা থাকে না। এখানে টার্ম পেপার, ইনকোর্স বা নির্বাচনী পরীক্ষার মতো অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন কম। তবে চূড়ান্ত পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একই সিলেবাস ও একই মানদণ্ডে পরীক্ষা দিতে হয়। ফলে যাঁরা চাকরি বা পারিবারিক ব্যস্ততার কারণে নিয়মিত কোর্সে যেতে পারেন না, তাঁদের জন্য এটি বেশ উপযোগী।
যা মনে রাখা জরুরি
ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, সময়ের শেষ দিনের জন্য অপেক্ষা না করে যত দ্রুত সম্ভব আবেদন সম্পন্ন করার। কারণ শেষ মুহূর্তে ওয়েবসাইটে চাপ বাড়ায় অনেক সময় সার্ভার ধীরগতির হয়ে যায়, তাতে অনেকেই আবেদন থেকে বাদ পড়ে যান। পাশাপাশি ফরম পূরণের সময় ব্যক্তিগত তথ্য, কলেজের নাম ও বিষয় নির্বাচনে যেন কোনো ভুল না হয় সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে বলা হয়েছে।
আবেদন শেষে যা হবে
আবেদন গ্রহণ শেষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী মেধাতালিকা ও কলেজভিত্তিক নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করবে। প্রাইভেট কোর্সে সাধারণত সরাসরি ভর্তির সুযোগ থাকলেও আসন বা কলেজভিত্তিক বরাদ্দ অনুযায়ী চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করা হয়। প্রয়োজনে রিলিজ স্লিপের মাধ্যমে কলেজ পরিবর্তনের সুযোগও থাকতে পারে, যা পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।
শেষ কথা
ডিগ্রি পাস করেও যাঁরা উচ্চশিক্ষার পথে এগোতে চান, তাঁদের জন্য প্রাইভেট প্রিলিমিনারী টু মাস্টার্স প্রোগ্রাম একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ১৫ জুন থেকে শুরু হওয়া এই আবেদন প্রক্রিয়া ৩০ জুনের মধ্যেই শেষ করতে হবে, এরপর নতুন করে সুযোগ পেতে আবার অপেক্ষা করতে হতে পারে দীর্ঘ সময়। তাই সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র গুছিয়ে রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ওয়েবসাইটে নিয়মিত চোখ রাখাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
