চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় আছেন চাকসু নির্বাচনের জন্য। অবশেষে সুখবর এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের রোডম্যাপ ও তফসিল ঘোষণা হতে পারে। আর সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে এই প্রত্যাশিত নির্বাচন।
৩৫ বছর পর ফিরে আসছে চাকসু
চাকসু নির্বাচন নিয়ে উৎসাহ রয়েছে প্রতিটি শিক্ষার্থীর মনে। কারণ সর্বশেষ ১৯৯০ সালে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তারপর দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম করেও এই নির্বাচন পাননি। এখন অবশেষে তাদের দীর্ঘ স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে।
নির্বাচনের প্রস্তুতি এগিয়ে চলেছে
চাকসু নির্বাচন পরিচালনার জন্য ইতিমধ্যে ১২ সদস্যের একটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন। আর সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন পদার্থবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক একেএম আরিফুল হক সিদ্দিকী।
কমিটির আহ্বায়ক ড. মনির উদ্দিন বলেছেন যে তারা এখন ভোটার তালিকা প্রস্তুত করছেন। আগামী রোববারের মধ্যে এই কাজ শেষ হবে। পাশাপাশি আচরণবিধি নিয়েও কাজ চলছে। এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ হলেই তফসিল ঘোষণা করা হবে।
গঠনতন্ত্র নিয়ে বিতর্ক
যদিও গত ১ আগস্ট ৫৫৯তম সিন্ডিকেট সভায় গঠনতন্ত্র চূড়ান্ত করা হয়েছে, তবুও এর কিছু বিষয় নিয়ে ছাত্রসংগঠনগুলো আপত্তি জানিয়েছে। বিশেষ করে প্রার্থীতার বয়স ৩০ এবং দপ্তর সম্পাদকের দুটি পদ ছেলে শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত রাখার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র অধিকার পরিষদসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন এই গঠনতন্ত্র সংস্কারের দাবি জানিয়েছে।
ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রতিক্রিয়া
শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দীন মহসিন জানিয়েছেন যে তফসিল ঘোষণা নিয়ে এখনও পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না। তিনি মনে করেন বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে বয়সসীমা ৩০ নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেছেন যে চাকসু নির্বাচনে যে সমস্যাগুলো রয়েছে সেগুলো দ্রুত সমাধান করে নির্বাচন দিতে হবে। তারা তফসিল ঘোষণা ও শতভাগ আবাসনের দাবিতে আগামী রোববার অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করেছে।
শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা
ছাত্র অধিকার পরিষদ চবি শাখার সদস্য সচিব রোমান রহমান জানিয়েছেন যে তারা শুরু থেকেই চাকসু নিয়ে বিভিন্ন আন্দোলন করে আসছেন। তিনি মনে করেন বড় দুটি ছাত্র সংগঠনের ইশারাতেই প্রশাসন তফসিল ঘোষণা করছে না।
বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি জশদ জাকির বলেছেন যে তারা গঠনতন্ত্রের কিছু সংস্কার প্রস্তাবনা দিয়েছেন। এগুলো শেষ করে দ্রুতই নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছেন।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচন?
চাকসু নির্বাচন শুধু একটি ছাত্র সংসদ নির্বাচন নয়। এটি শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকারের একটি বড় বিজয়। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এই নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পাবেন। এর ফলে ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক চর্চা আরও শক্তিশালী হবে।
সামনের দিকগুলো
বর্তমানে দেশের স্বায়ত্তশাসিত চার বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটিতে ইতিমধ্যে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে জাকসু নির্বাচন। এই প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও শীঘ্রই চাকসু নির্বাচনের তফসিল আসার সম্ভাবনা বেড়েছে।
শেষ কথা
চাকসু নির্বাচন নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে উৎসাহ ও প্রত্যাশা, তা অত্যন্ত স্বাভাবিক। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এই গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়ার আনন্দ রয়েছে সকলের মনে। সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে যখন এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তখন ক্যাম্পাসে নতুন এক উৎসবের আমেজ তৈরি হবে।
প্রশাসনের কাছে শিক্ষার্থীদের দাবি – আর কোনো বিলম্ব না করে দ্রুত তফসিল ঘোষণা করুন এবং একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন।
