২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে কলেজে একাদশ শ্রেণিতে চূড়ান্ত ভর্তির প্রক্রিয়া আজ রোববার থেকে শুরু হয়েছে। যেসব শিক্ষার্থী তাদের পছন্দের কলেজে সুযোগ পেয়েছেন, তারা এখন স্ব স্ব কলেজে গিয়ে ভর্তি ফি জমা দিয়ে চূড়ান্ত ভর্তি সম্পন্ন করতে পারবেন।
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির শেষ মাইগ্রেশনের ফল ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রক্রিয়া চলবে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। তারপর ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে সারাদেশের কলেজগুলোতে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে।
কীভাবে ভর্তির ফল দেখবেন?
কলেজে ভর্তির ফল দেখতে শিক্ষার্থীরা একাদশে ভর্তির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট https://xiclassadmission.gov.bd/ এ গিয়ে লগইন করতে পারবেন। এই পোর্টালে শুধু ফল দেখা নয়, ভর্তির জন্য নির্বাচন-মাইগ্রেশন ফলের পিডিএফ ডাউনলোড করাও যাবে। এই সুবিধা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
তৃতীয় ধাপেও অনেক শিক্ষার্থী বাদ পড়েছেন
একাদশ শ্রেণির ভর্তিতে তৃতীয় ধাপের ফল প্রকাশের পরও ৫ হাজার ২৪০ জন শিক্ষার্থী কোনো কলেজে ভর্তির সুযোগ পাননি। যা অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় যে, এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৯৫ জন। এই মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য আরো সুযোগ সৃষ্টির প্রয়োজন রয়েছে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক মো. রিজাউল হক জানিয়েছেন, চতুর্থ পর্যায়ে আবেদনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। ১ৄ সেপ্টেম্বরের পর সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কোন কলেজগুলোতে এখনো আসন খালি?
ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, সারাদেশের ৩৭৬টি কলেজ এখনো একজন শিক্ষার্থীও পায়নি। এছাড়া ১৬টি কলেজে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার আগ্রহই দেখাননি। এই কলেজগুলো মূলত দূরবর্তী এলাকায় অবস্থিত, যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অন্যান্য সুবিধা সীমিত।
ভর্তি ফি কত?
কলেজে ভর্তি ফি এলাকা ও কলেজের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার ইংরেজি ভার্সনের ননএমপিও কলেজগুলো সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৫০০ টাকা ভর্তি ফি নিতে পারবে। আর বাংলা ভার্সনের ননএমপিও কলেজগুলো ৭ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত ফি নিতে পারবে।
ঢাকার বাইরের মেট্রোপলিটন এলাকায় বাংলা ভার্সনের ননএমপিও কলেজগুলো সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা এবং ইংরেজি ভার্সনের কলেজগুলো ৬ হাজার টাকা ভর্তি ফি নিতে পারবে। জেলা পর্যায়ে বাংলা ভার্সনের জন্য ৩ হাজার টাকা এবং ইংরেজি ভার্সনের জন্য ৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উপজেলা পর্যায়ের কলেজগুলোতে সবচেয়ে কম ভর্তি ফি। বাংলা ভার্সনের জন্য ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইংরেজি ভার্সনের জন্য ৃ হাজার টাকা।
এমপিওভুক্ত কলেজের ভর্তি ফি
সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত (এমপিওভুক্ত) কলেজগুলোতে ভর্তি ফি তুলনামূলক কম। ঢাকা মেট্রোপলিটনের এমপিওভুক্ত কলেজগুলো বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভার্সনে ৫ হাজার টাকা ভর্তি ফি নিতে পারবে। অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকায় এই ফি ৩ হাজার টাকা। জেলা পর্যায়ে ২ হাজার টাকা এবং উপজেলা পর্যায়ে মাত্র ১ হাজার ৫০০ টাকা ভর্তি ফি নির্ধারিত হয়েছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের করণীয়
চূড়ান্ত ভর্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের অবশ্যই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কলেজে গিয়ে ভর্তি ফি জমা দিতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সাথে নিয়ে যেতে ভুলবেন না। এর মধ্যে রয়েছে এসএসসি সনদপত্র ও মার্কশিট, জন্ম নিবন্ধন সনদ, পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র।
অভিভাবকদের উচিত সন্তানের সাथে কলেজে গিয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। কোনো সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করুন।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা
১৫ সেপ্টেম্বর থেকে সারাদেশের কলেজগুলোতে একাদশ শ্রেণির নিয়মিত ক্লাস শুরু হবে। শিক্ষার্থীদের উচিত আগে থেকেই পাঠ্যবই ও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ সংগ্রহ করে রাখা। নতুন শিক্ষাবর্ষে সফল হতে হলে প্রথম থেকেই নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে।
কলেজ জীবনে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে কিছু সময় লাগতে পারে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষক ও সিনিয়র শিক্ষার্থীদের সহায়তা নিন। সহপাঠী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করুন এবং নিজেদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলুন।
শেষ কথা
রোববার থেকে শুরু হওয়া চূড়ান্ত ভর্তি প্রক্রিয়া বাংলাদেশের লাখো শিক্ষার্থীর জন্য নতুন জীবনের সূচনা। একাদশ শ্রেণি হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার শুরু, যা ভবিষ্যতের ক্যারিয়ার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
যে সকল শিক্ষার্থী এই পর্যায়ে সুযোগ পেয়েছেন, তাদের জন্য অভিনন্দন। আর যারা এখনো সুযোগ পাননি, তাদের জন্য চতুর্থ পর্যায়ের সম্ভাবনা রয়েছে। হতাশ না হয়ে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে চলুন।
শিক্ষা আমাদের জাতির মেরুদণ্ড। সবার জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন। আমাদের শিক্ষার্থীরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়বে।
