জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন হাজারো শিক্ষার্থী। ২০২ৄ সালের ডিগ্রি (পাস) ও সার্টিফিকেট কোর্সের প্রথম বর্ষের ইনকোর্স পরীক্ষার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে দেশের লাখো শিক্ষার্থী এবং তাদের পরিবারের মুখে হাসি ফুটেছে।
কখন হবে নতুন পরীক্ষা
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ইনকোর্স পরীক্ষা এখন ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এই নতুন সময়সূচি শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ দিয়েছে।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর (শনিবার) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এই গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করেন। এর ফলে যে সমস্ত শিক্ষার্থী ইনকোর্স পরীক্ষার জন্য আরও কিছুটা সময় চেয়েছিলেন, তাদের সেই আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হলো।
উত্তরপত্র জমা দেওয়ার নিয়ম
ইনকোর্স পরীক্ষার উত্তরপত্র, হাজিরাপত্র এবং নম্বরপত্র সবকিছু হার্ডকপি আকারে গালাসীল করে জমা দিতে হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র হাতে হাতে জমা দিতে হবে আঞ্চলিক কেন্দ্র অথবা গাজীপুর ক্যাম্পাসের সংশ্লিষ্ট শাখায়।
উত্তরপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ সেপ্টেম্বর। এই তারিখের মধ্যে সব ধরনের কাগজপত্র যথাযথভাবে জমা দিতে হবে।
শিক্ষার্থীদের জানা প্রয়োজন
ইনকোর্স পরীক্ষা হলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫ শতাংশ নম্বর এবং ক্লাসে উপস্থিতির জন্য ৫ শতাংশ নম্বর বরাদ্দ থাকে। সর্বমোট ২০ শতাংশ নম্বর এই ইনকোর্স পরীক্ষা থেকে পাওয়া যায়।
ইনকোর্স পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের কমপক্ষে ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। এর কম পেলে তারা চূড়ান্ত পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে পারবেন না। একই সাথে ক্লাসে উপস্থিতি কমপক্ষে ৬০ শতাংশ থাকতে হবে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত
এই সময় বৃদ্ধির সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের কল্যাণের কথা মাথায় রেখে। অনেক শিক্ষার্থী হয়তো বিভিন্ন কারণে ইনকোর্স পরীক্ষার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হতে পারেননি। এই অতিরিক্ত সময় তাদের ভালো প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সবসময়ই তার শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং তাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়। এবারের এই সিদ্ধান্তও তারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
অন্যান্য নিয়মাবলী অপরিবর্তিত
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে ইনকোর্স পরীক্ষা গ্রহণ এবং উত্তরপত্র পাঠানোর অন্যান্য সব নিয়মাবলী আগের মতোই থাকবে। পূর্বে প্রকাশিত স্মারক অনুযায়ী সব নিয়মকানুন অপরিবর্তিত রয়েছে।
কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য বিশেষভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের করণীয়
এই সময় বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের ইনকোর্স পরীক্ষার প্রস্তুতি আরও ভালো করে নিতে পারবেন। তবে মনে রাখতে হবে যে এই অতিরিক্ত সময়টুকু কাজে লাগাতে হবে। সিলেবাস অনুযায়ী পড়াশোনা করে ইনকোর্স পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনের চেষ্টা করতে হবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নেওয়া এমন সিদ্ধান্ত দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি ইতিবাচক দিক। এই সময় বৃদ্ধির ফলে অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী ইনকোর্স পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন এবং তাদের শিক্ষা জীবনে এগিয়ে যেতে পারবেন।
শেষ কথা: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে উপকৃত হবেন দেশের লাখো শিক্ষার্থী। ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে তাদের ইনকোর্স পরীক্ষায় সফলতার সাথে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে পারবেন।
