শাবিপ্রবিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে, শীঘ্রই কমিশন গঠন

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) দীর্ঘ ২৮ বছর পর কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে এই ঐতিহাসিক নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী।

আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই গঠন করা হবে নির্বাচন কমিশন, যা এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে।
২৮ বছর পর শাকসু নির্বাচনের সুখবর

রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গণমাধ্যমকে এই আনন্দদায়ক সংবাদ নিশ্চিত করেছেন শাবিপ্রবির উপাচার্য। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শাবিপ্রবিতে সর্বশেষ শাকসু নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। এর আগে ১৯৯৩ সাল থেকে মোট তিনবার শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ অচল হয়ে থাকায় শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বমূলক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এবার নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা পাবেন নিজেদের নির্বাচিত প্রতিনিধি।
উপাচার্যের আশাবাদী বক্তব্য

শাবিপ্রবির উপাচার্য বলেন, “প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হচ্ছে। আমরাও আশা করছি, শিগগির শাকসু নির্বাচনের আয়োজন করতে পারব।”

তিনি শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতাদের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, “এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীজন, বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।”

উপাচার্য আরও জোর দিয়ে বলেন, “লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা উৎসবের আমেজে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। এর মাধ্যমে তারা নির্বাচিত প্রতিনিধি পাবে, নিজেদের দাবি প্রশাসনের কাছে জানাতে ও আদায় করতে পারবে।”
নির্বাচনের সময়সূচি ও প্রস্তুতি

নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে উপাচার্য বিস্তারিত তথ্য দিয়ে জানান, “এখন ক্যাম্পাসে সেমিস্টার ফাইনালের প্রস্তুতিমূলক ছুটি চলছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি ফাইনাল পরীক্ষা প্রায় শেষ হবে।”

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “এরপর নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে দুই-তিন দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে।”
নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব

নবগঠিত নির্বাচন কমিশন যেসব গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করবে তার মধ্যে রয়েছে হল সংসদের গঠনতন্ত্র চূড়ান্ত করা। উপাচার্য জানিয়েছেন যে পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন, যাতে শিক্ষার্থীরা সব ধরনের প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারেন।

নির্বাচন কমিশন গঠনের পর নির্বাচনী প্রচারণা, প্রার্থী মনোনয়ন এবং ভোটের তারিখ সংক্রান্ত বিস্তারিত সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ও গুরুত্ব

শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নির্বাচনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচন শুধু একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয়, বরং শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।

ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পাবেন নিজেদের প্রতিনিধি, যারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে শিক্ষার্থীদের সমস্যা এবং দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা বলতে পারবেন।
দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায় শাবিপ্রবিও যোগ দিতে যাচ্ছে, যা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় গণতান্ত্রিক চর্চার একটি ইতিবাচক দিক।

শাবিপ্রবির এই নির্বাচনী উদ্যোগ অন্যান্য প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্যও অনুপ্রেরণাদায়ক হতে পারে। শিক্ষার্থী সমাজ এবং শিক্ষাবিদরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা

শাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা পাবেন সংগঠিত কণ্ঠস্বর। নির্বাচিত ছাত্র সংসদ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নানা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম হাতে নিতে পারবে। ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং একাডেমিক সহায়তা প্রদানে ছাত্র সংসদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে।

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসানে শাবিপ্রবিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচন শাবিপ্রবির ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

ইকরাম শেখ
ইকরাম শেখ
ইকরাম শেখ শিক্ষা খাতের বিভিন্ন আপডেট নিয়ে লেখালেখি করেন। তিনি সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন এবং তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে আগ্রহী। নতুন কোনো ভর্তি বা ফলাফল সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের আগে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত নোটিশ যাচাই করেন। তিনি নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী তথ্য তুলে ধরতে সচেষ্ট।
রিলেটেড আরটিকেল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

জনপ্রিয় নিউজ