দেশের একমাত্র সমুদ্র বিষয়ক বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি তাদের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে। সোমবার ২০ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে আগামী ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে এই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
কতটি আসনের জন্য পরীক্ষা হবে?
এবার মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে মোট ২০০টি আসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪টি অনুষদের অধীনে ৫টি বিভাগে এই আসনগুলো বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিটি বিভাগে ৪০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাবে। যারা সমুদ্র বিজ্ঞান, নৌযান প্রকৌশল, সমুদ্র আইন কিংবা বন্দর ব্যবস্থাপনায় ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার সুযোগ।
কোন কোন বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে?
বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের জন্য পাঁচটি আকর্ষণীয় বিষয়ে পড়ার সুবিধা দিচ্ছে। ফ্যাকাল্টি অব আর্থ এন্ড ওশান সাইন্স অনুষদে রয়েছে বিএসসি (অনার্স) ইন ওশানোগ্রাফি এবং বিএসসি (অনার্স) ইন মেরিন ফিশারিজ বিভাগ। সমুদ্র এবং তার জীববৈচিত্র্য নিয়ে যারা পড়াশোনা করতে আগ্রহী, তাদের জন্য এই দুটি বিভাগ আদর্শ।
প্রকৌশল শিক্ষায় আগ্রহীদের জন্য রয়েছে ফ্যাকাল্টি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদের অধীনে বিএসসি ইন নেভাল আর্কিটেকচার এন্ড অফশোর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। এই বিভাগে জাহাজ নির্মাণ এবং সমুদ্রে তেল-গ্যাস উত্তোলনের প্রযুক্তি নিয়ে পড়ানো হয়। আইনে আগ্রহীরা ফ্যাকাল্টি অব মেরিটাইম গভর্ন্যান্স এন্ড পলিসি থেকে এলএলবি (অনার্স) ইন মেরিটাইম ল’ পড়তে পারবেন। আর ব্যবসায় শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে ফ্যাকাল্টি অব শিপিং এডমিনিস্ট্রেশন থেকে বিবিএ ইন পোর্ট ম্যানেজমেন্ট এন্ড লজিস্টিকস্ বিভাগ।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হতে চাইলে আপনাকে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য যারা ওশানোগ্রাফি, মেরিন ফিশারিজ কিংবা নেভাল আর্কিটেকচার বিভাগে পড়তে চান, তাদের এসএসসি এবং এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ৪.০০ থাকতে হবে। শুধু তাই নয়, এইচএসসিতে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে ‘এ’ গ্রেড এবং বাকি বিষয়গুলোতে ‘বি’ গ্রেড থাকা বাধ্যতামূলক।
অন্যদিকে মেরিটাইম ল’ এবং পোর্ট ম্যানেজমেন্ট বিভাগে যেকোনো শাখা থেকে আসা শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। তবে তাদের এসএসসি এবং এইচএসসিতে ন্যূনতম জিপিএ ৩.৫০ থাকতে হবে এবং সব বিষয়ে ‘বি’ গ্রেড পেতে হবে। ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্যও আলাদা যোগ্যতার শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। O-Level এবং A-Level এ নির্দিষ্ট সংখ্যক বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে এবং নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি ‘সি’ গ্রেড থাকলে আবেদন বাতিল হবে।
ভর্তি পরীক্ষা কীভাবে হবে?
মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির ভর্তি পরীক্ষা সম্পূর্ণ এমসিকিউ বা নৈর্ব্যত্তিক পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য গণিত, ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন এবং জীববিজ্ঞান/আইসিটি বিষয় থেকে প্রতিটিতে ২০ নম্বর করে মোট ১০০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে। পরীক্ষার সময় থাকবে ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। মজার ব্যাপার হলো, প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে, তাই উত্তর দেওয়ার সময় সতর্ক থাকতে হবে।
মেরিটাইম ল’ এবং পোর্ট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের জন্য পরীক্ষা পদ্ধতি কিছুটা ভিন্ন। এখানে ইংরেজিতে ৩৫ নম্বর, আইসিটিতে ২৫ নম্বর এবং এনালাইটিক্যাল এবিলিটিতে ১৫ নম্বর থাকবে। এছাড়াও গণিত, হিসাববিজ্ঞান বা সাধারণ জ্ঞান থেকে যেকোনো একটি বিষয়ে ২৫ নম্বর থাকবে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দমতো একটি বিষয় বেছে নিতে পারবেন। এই বিভাগের পরীক্ষায় ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে না।
মেধা তালিকা কীভাবে তৈরি হবে?
চূড়ান্ত মেধা তালিকা তৈরি করার সময় শুধু ভর্তি পরীক্ষার নম্বর নয়, এসএসসি এবং এইচএসসির ফলাফলও বিবেচনা করা হবে। ভর্তি পরীক্ষায় পাওয়া ১০০ নম্বরের সাথে এসএসসির জিপিএ থেকে ৫০ নম্বর এবং এইচএসসির জিপিএ থেকে ৫০ নম্বর যোগ করা হবে। এভাবে মোট ২০০ নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। তাই শুধু ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করলেই হবে না, এসএসসি এবং এইচএসসিতে ভালো ফলাফলও গুরুত্বপূর্ণ।
আবেদন কীভাবে করবেন?
যারা বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হতে চান, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে আবেদন করতে পারবেন। শীঘ্রই বিস্তারিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে যেখানে আবেদনের শুরুর তারিখ, শেষ তারিখ এবং আবেদন ফি সংক্রান্ত সব তথ্য পাওয়া যাবে। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নিয়মিত www.bmu.edu.bd ওয়েবসাইট ভিজিট করা উচিত।
বিশেষ তথ্য যা জেনে রাখা জরুরি
বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার সময় শুধুমাত্র নন-প্রোগ্রামেবল ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবেন। কোন কোন মডেলের ক্যালকুলেটর অনুমোদিত তার তালিকা পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। সব অনুষদের জন্য প্রশ্নপত্র বাংলা ভাষায় হবে, তবে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য বন্ধনীতে ইংরেজি অনুবাদ দেওয়া থাকবে।
কেন মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতে পড়বেন?
বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি দেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে সমুদ্র বিষয়ক বিশেষায়িত শিক্ষা দেওয়া হয়। বাংলাদেশ একটি সমুদ্র উপকূলীয় দেশ হওয়ায় সমুদ্র অর্থনীতি বা ব্লু ইকোনমিতে আমাদের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। জাহাজ শিল্প, বন্দর ব্যবস্থাপনা, সমুদ্র সম্পদ আহরণ এবং সমুদ্র আইন বিষয়ে দক্ষ জনবলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা দেশে ও বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরি পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
চূড়ান্ত কথা
বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির ভর্তি পরীক্ষা ২০২৫ আগামী জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যারা সমুদ্র বিষয়ক পড়াশোনায় আগ্রহী এবং যোগ্যতা রাখেন, তাদের জন্য এটি একটি দুর্দান্ত সুযোগ। এই মুহূর্ত থেকেই প্রস্তুতি শুরু করুন এবং নিয়মিত মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইট চেক করুন যাতে কোনো তথ্য মিস না হয়। আপনার স্বপ্নের ক্যারিয়ার গড়ার পথে এই বিশ্ববিদ্যালয় হতে পারে আপনার প্রথম পদক্ষেপ।
