খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তির জন্য আবেদন শুরু হচ্ছে আগামী ৭ নভেম্বর থেকে। যারা উচ্চশিক্ষার জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আগ্রহী, তাদের জন্য এটি একটি সুসংবাদ। বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এবারের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৮ ও ১৯ ডিসেম্বর তারিখে। মোট ১,১০৯টি আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ পাবে ৩০ ডিসেম্বর। চূড়ান্ত ভর্তি শেষে আগামী বছরের ২৫ জানুয়ারি থেকে নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য ওরিয়েন্টেশন, রেজিস্ট্রেশন এবং ক্লাস শুরু হবে।
আবেদনের সময়সূচি এক নজরে
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি আবেদন শুরু হবে ৭ নভেম্বর এবং শেষ হবে ২৭ নভেম্বর। অর্থাৎ আগ্রহী শিক্ষার্থীরা মোট ২১ দিন সময় পাবেন আবেদন করার জন্য। আবেদনের পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে।
| বিষয় | তারিখ |
|---|---|
| আবেদন শুরু | ৭ নভেম্বর ২০২৫ |
| আবেদন শেষ | ২৭ নভেম্বর ২০২৫ |
| ভর্তি পরীক্ষা | ১৮ ও ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ |
| ফলাফল প্রকাশ | ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ |
| ক্লাস শুরু | ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ |
ইউনিট ভিত্তিক আসন সংখ্যা ও যোগ্যতা
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে চারটি ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি ইউনিটের জন্য আলাদা আসন সংখ্যা এবং ভিন্ন ভিন্ন যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ইউনিট: বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুল
এ ইউনিটে মোট ৩২০টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ আসন ৩০৩টি এবং কোটায় ১৭টি আসন। যারা এই ইউনিটে আবেদন করতে চান, তাদের এসএসসি ২০২২-২৩ এবং এইচএসসি ২০২৪-২৫ পরীক্ষায় সম্মিলিত জিপিএ কমপক্ষে ৮.০০ থাকতে হবে। ভর্তি পরীক্ষায় ৬০ নম্বরের এমসিকিউ এবং ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হবে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত অঙ্কন পরীক্ষা নেওয়া হবে।
বি ইউনিট: জীববিজ্ঞান স্কুল
বি ইউনিটে মোট ২৮১টি আসন আছে। সাধারণ আসন ২৬৬টি এবং কোটায় ১৫টি। এই ইউনিটেও আবেদনকারীদের সম্মিলিত জিপিএ ন্যূনতম ৮.০০ থাকতে হবে। পরীক্ষা পদ্ধতি এ ইউনিটের মতোই হবে।
সি ইউনিট: কলা ও মানবিক, সামাজিক বিজ্ঞান, আইন, শিক্ষা ও চারুকলা স্কুল
সি ইউনিট সবচেয়ে বেশি আসন সংখ্যা নিয়ে এগিয়ে আছে। এখানে মোট ৪১৫টি আসন রয়েছে, যার মধ্যে সাধারণ আসন ৩৯১টি এবং কোটায় ২৪টি। এই ইউনিটের জন্য জিপিএ প্রয়োজন ৭.০০। চারুকলা ডিসিপ্লিনের জন্য অতিরিক্ত লিখিত ও অঙ্কন পরীক্ষা থাকবে।
ডি ইউনিট: ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুল
ডি ইউনিটে মোট ৮৮টি আসন আছে। সাধারণ আসন ৮৩টি এবং কোটায় ৫টি। এই ইউনিটে আবেদন করতে হলে এসএসসি এবং এইচএসসিতে পৃথকভাবে ন্যূনতম জিপিএ ৩.৫০ থাকতে হবে এবং ইংরেজিতে কমপক্ষে জিপিএ ৩.০০ বাধ্যতামূলক।
| ইউনিট | মোট আসন | সাধারণ আসন | কোটা | ন্যূনতম জিপিএ |
|---|---|---|---|---|
| এ ইউনিট | ৩২০ | ৩০৩ | ১৭ | ৮.০০ (সম্মিলিত) |
| বি ইউনিট | ২৮১ | ২৬৬ | ১৫ | ৮.০০ (সম্মিলিত) |
| সি ইউনিট | ৪১৫ | ৩৯১ | ২৪ | ৭.০০ (সম্মিলিত) |
| ডি ইউনিট | ৮৮ | ৮৩ | ৫ | ৩.৫০ (পৃথক) |
পরীক্ষা কেন্দ্রের নতুন সুবিধা
এবার খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে পরীক্ষা কেন্দ্র বাড়িয়েছে। গত বছর ঢাকা, খুলনা ও রাজশাহীতে পরীক্ষা হলেও এবার নতুন কেন্দ্র হিসেবে চট্টগ্রাম যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ এ, বি এবং সি ইউনিটের পরীক্ষা চারটি বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হবে। তবে ডি ইউনিটের পরীক্ষা শুধুমাত্র ঢাকা ও খুলনায় অনুষ্ঠিত হবে।
এই নতুন ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে সহায়ক হবে, কারণ তারা তাদের নিজ নিজ অঞ্চলের কাছাকাছি পরীক্ষা কেন্দ্র বেছে নিতে পারবেন। এতে যাতায়াত খরচ এবং সময় দুটোই সাশ্রয় হবে।
আবেদন পদ্ধতি
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইনে করতে হবে। আগ্রহী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে আবেদন ফরম পূরণ করতে পারবেন। আবেদনের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং তথ্য সঠিকভাবে প্রদান করতে হবে। ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
কেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়?
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে মানসম্পন্ন শিক্ষা, আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা এবং দক্ষ শিক্ষকমণ্ডলী রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনার সুযোগ দেয়। ক্যাম্পাসটি সবুজ পরিবেশে অবস্থিত এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।
শেষ কথা
যারা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চান, তাদের জন্য এই সুযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৭ নভেম্বর থেকে আবেদন শুরু হবে এবং ২৭ নভেম্বর শেষ হবে। সময়মতো আবেদন করুন এবং যোগ্যতা যাচাই করুন। পরীক্ষার প্রস্তুতি ভালোভাবে নিন এবং স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ কাজে লাগান।
