ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে সম্প্রতি সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ জরুরি নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। এই নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য হলো আগামী ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার জন্য দক্ষ প্রশ্নপত্র প্রণেতা (সেটার) এবং পরিমার্জনকারী (মডারেটর) তৈরি করা। এই বিশেষ উদ্যোগটি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মান উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কেন এই জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হলো?
শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং পরীক্ষা পদ্ধতির উৎকর্ষতার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষা আরও কার্যকর এবং মানসম্মত করতে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিট এই বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করবে। প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ হচ্ছে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, কৃষি শিক্ষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, ব্যবসায় উদ্যোগ, হিসাববিজ্ঞান, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিংসহ সকল এসএসসি বিষয়ে শিক্ষক মনোনয়ন দিতে হবে।
শিক্ষক নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড
যোগ্য শিক্ষক নির্বাচনের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। প্রথমত, প্রার্থী শিক্ষকের এসএসসি থেকে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে কমপক্ষে দুইটি প্রথম বিভাগ/শ্রেণি অথবা সমমানের জিপিএ বা সিজিপিএ থাকতে হবে। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পাঠদানে ন্যূনতম পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা থাকা আবশ্যক।
বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়নের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে এবং শিক্ষকের কমপক্ষে পনেরো বছর চাকরি বাকি থাকতে হবে। তবে বারো দিনের সৃজনশীল প্রশ্নপত্র প্রণয়নের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এই প্রশিক্ষণের জন্য মনোনয়ন দেওয়া যাবে না।
আবেদনের প্রক্রিয়া এবং সময়সীমা
প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্রতি বিষয়ের জন্য দুইজন যোগ্য শিক্ষক নির্বাচন করতে হবে। নির্ধারিত ছক অনুযায়ী প্রশিক্ষণার্থীদের নামের তালিকার হার্ডকপি এবং সফটকপি (নিকস ও এক্সেল ফরমেট) প্রস্তুত করে দুই কর্মদিবসের মধ্যে [email protected] ইমেইল ঠিকানায় পাঠাতে হবে।
এই উদ্যোগের শিক্ষাক্ষেত্রে প্রভাব
এই বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দক্ষ সেটার এবং মডারেটর তৈরির মাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষার মান আরও উন্নত হবে। শিক্ষার্থীরা আরও মানসম্মত প্রশ্নপত্র পাবে, যা তাদের প্রকৃত যোগ্যতা যাচাইয়ে সহায়ক হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের করণীয়
সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের এই জরুরি নির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে পালন করতে হবে। নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী যোগ্য শিক্ষক নির্বাচন করে সময়মতো তালিকা জমা দেওয়া অত্যাবশ্যক। এটি শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
উপসংহার
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এই জরুরি নির্দেশনা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং উন্নয়নের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষা আরও কার্যকর এবং মানসম্মত করতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সক্রিয় সহযোগিতার মাধ্যমে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা আরও উন্নত হবে এবং শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।
