বাংলাদেশের কোটি কোটি মুসলমানের জন্য অপেক্ষার দিন শেষ হতে চলেছে। পবিত্র রমজান ২০২৬ আসছে অত্যন্ত দ্রুত। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ইতিমধ্যে সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬ প্রকাশ করেছে, যা সারা দেশের রোজাদারদের জন্য একটি বড় সুবিধা এনে দিয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী এবং চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে (বৃহস্পতিবার) প্রথম রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রমজান ২০২৬ কবে শুরু হবে বাংলাদেশে?
হিজরি ১৪৪৭ সালের পবিত্র রমজান মাস ২০২৬ বাংলাদেশে শুরু হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ হলো ১৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার। তবে এটি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে রমজানের চাঁদ দেখার উপর। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বৈঠকে বসে চাঁদ দেখা গেলে তখনই চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে। সাধারণত সৌদি আরবের এক দিন পরে বাংলাদেশে রমজান শুরু হয়ে থাকে।
এবারের রমজানে একটি বড় পরিবর্তন এসেছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে যে আগে সেহরির শেষ সময়ে যে ৩ মিনিটের সতর্কতামূলক সময় রাখা হতো, সেটি এবার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমের খতিব এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় ইসলামী স্কলারদের পরামর্শে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মানে হলো, সেহরির শেষ সময়ই হবে ফজরের নামাজের সময়।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬ – ঢাকার জন্য (সম্পূর্ণ ৩০ দিন)
ঢাকা জেলার রোজাদারদের জন্য রমজান ক্যালেন্ডার ২০২৬ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ঢাকায় প্রথম রোজার সেহরির শেষ সময় হবে ভোর ৫টা ১২ মিনিট এবং ইফতারের সময় হবে সন্ধ্যা ৫টা ৫৮ মিনিট। নিচের টেবিলে ঢাকার সম্পূর্ণ ৩০ দিনের বিস্তারিত সময়সূচি দেওয়া হলো:
| রোজা নং | তারিখ ও বার | সেহরির শেষ সময় | ইফতারের সময় |
|---|---|---|---|
| ১ম | ১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) | ৫:১২ মিনিট | ৫:৫৮ মিনিট |
| ২য় | ২০ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) | ৫:১১ মিনিট | ৫:৫৮ মিনিট |
| ৩য় | ২১ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) | ৫:১১ মিনিট | ৫:৫৯ মিনিট |
| ৪র্থ | ২২ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) | ৫:১০ মিনিট | ৫:৫৯ মিনিট |
| ৫ম | ২৩ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) | ৫:০৯ মিনিট | ৬:০০ মিনিট |
| ৬ষ্ঠ | ২৪ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) | ৫:০৮ মিনিট | ৬:০০ মিনিট |
| ৭ম | ২৫ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) | ৫:০৮ মিনিট | ৬:০১ মিনিট |
| ৮ম | ২৬ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) | ৫:০৭ মিনিট | ৬:০১ মিনিট |
| ৯ম | ২৭ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) | ৫:০৬ মিনিট | ৬:০২ মিনিট |
| ১০ম | ২৮ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) | ৫:০৫ মিনিট | ৬:০২ মিনিট |
| ১১তম | ০১ মার্চ (রবিবার) | ৫:০৫ মিনিট | ৬:০৩ মিনিট |
| ১২তম | ০২ মার্চ (সোমবার) | ৫:০৪ মিনিট | ৬:০৩ মিনিট |
| ১৩তম | ০৩ মার্চ (মঙ্গলবার) | ৫:০৩ মিনিট | ৬:০৪ মিনিট |
| ১৪তম | ০৪ মার্চ (বুধবার) | ৫:০২ মিনিট | ৬:০৪ মিনিট |
| ১৫তম | ০৫ মার্চ (বৃহস্পতিবার) | ৫:০১ মিনিট | ৬:০৫ মিনিট |
| ১৬তম | ০৬ মার্চ (শুক্রবার) | ৫:০০ মিনিট | ৬:০৫ মিনিট |
| ১৭তম | ০৭ মার্চ (শনিবার) | ৪:৫৯ মিনিট | ৬:০৬ মিনিট |
| ১৮তম | ০৮ মার্চ (রবিবার) | ৪:৫৮ মিনিট | ৬:০৬ মিনিট |
| ১৯তম | ০৯ মার্চ (সোমবার) | ৪:৫৮ মিনিট | ৬:০৭ মিনিট |
| ২০তম | ১০ মার্চ (মঙ্গলবার) | ৪:৫৭ মিনিট | ৬:০৭ মিনিট |
| ২১তম | ১১ মার্চ (বুধবার) | ৪:৫৬ মিনিট | ৬:০৮ মিনিট |
| ২২তম | ১২ মার্চ (বৃহস্পতিবার) | ৪:৫৫ মিনিট | ৬:০৮ মিনিট |
| ২৩তম | ১৩ মার্চ (শুক্রবার) | ৪:৫৪ মিনিট | ৬:০৯ মিনিট |
| ২৪তম | ১৪ মার্চ (শনিবার) | ৪:৫৩ মিনিট | ৬:০৯ মিনিট |
| ২৫তম | ১৫ মার্চ (রবিবার) | ৪:৫২ মিনিট | ৬:১০ মিনিট |
| ২৬তম | ১৬ মার্চ (সোমবার) | ৪:৫১ মিনিট | ৬:১০ মিনিট |
| ২৭তম | ১৭ মার্চ (মঙ্গলবার) – শবে কদর | ৪:৫০ মিনিট | ৬:১১ মিনিট |
| ২৮তম | ১৮ মার্চ (বুধবার) | ৪:৪৯ মিনিট | ৬:১১ মিনিট |
| ২৯তম | ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) | ৪:৪৮ মিনিট | ৬:১২ মিনিট |
| ৩০তম | ২০ মার্চ (শুক্রবার) | ৪:৪৭ মিনিট | ৬:১২ মিনিট |
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই সময়সূচি ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য প্রযোজ্য। অন্যান্য জেলার ক্ষেত্রে ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী ৩-৯ মিনিট পর্যন্ত পার্থক্য হতে পারে। আপনার জেলার সঠিক সময়সূচি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট থেকে দেখে নিন।
বাংলাদেশের ৬৪ জেলার জন্য আলাদা Ramadan Time Table 2026
এবছর ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রথমবারের মতো একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশের ৬৪টি জেলার প্রতিটির জন্য আলাদা আলাদা সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে শুধুমাত্র ঢাকার সময়সূচি প্রকাশ করা হতো এবং অন্যান্য জেলার মানুষকে নিজেদের এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী যোগ-বিয়োগ করে সময় বের করতে হতো।
এই নতুন পদ্ধতিতে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর এবং দেশের প্রতিটি জেলার মানুষ তাদের নিজস্ব এলাকার সঠিক সময় জানতে পারবেন। ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে বিভিন্ন জেলায় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় আলাদা হয়, তাই এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সর্বোচ্চ ৯ মিনিট পর্যন্ত পার্থক্য থাকতে পারে বিভিন্ন জেলার মধ্যে।
রমজান মাসের গুরুত্বপূর্ণ তারিখসমূহ ২০২৬
পবিত্র রমজান মাস শুধু রোজা রাখার মাস নয়, এটি অসংখ্য বরকত ও ফজিলতের মাস। এই মাসে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিবস রয়েছে যেগুলো সম্পর্কে প্রতিটি মুসলমানের জানা উচিত:
| বিশেষ দিবস | সম্ভাব্য তারিখ ২০২৬ | গুরুত্ব |
|---|---|---|
| প্রথম তারাবি | ১৮ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) রাত | রমজানের শুরু, বিশেষ নফল নামাজ |
| প্রথম রোজা | ১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) | সিয়াম সাধনার শুরু |
| শবে কদর (লাইলাতুল কদর) | ১৭ মার্চ (মঙ্গলবার) দিবাগত রাত | হাজার মাসের চেয়ে উত্তম রাত |
| ঈদুল ফিতর | ২০ বা ২১ মার্চ ২০২৬ | রমজান শেষে আনন্দের উৎসব |
শবে কদর রমজানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাত। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে এই রাত হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। সাধারণত রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। বিশেষ করে ২৭তম রমজানের রাত অর্থাৎ ১৭ মার্চ দিবাগত রাতে এটি পালনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
রোজার নিয়ত ও ইফতারের দোয়া – সম্পূর্ণ গাইড
প্রতিটি রোজাদারের জন্য সেহরির নিয়ত এবং ইফতারের দোয়া জানা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক নিয়তের সাথে রোজা রাখলে এবং যথাযথভাবে ইফতার করলে রোজার পূর্ণ সওয়াব পাওয়া যায়।
সেহরির সময় রোজার নিয়ত (আরবি):
نَوَيْتُ أَنْ أَصُومَ غَدًا مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ الْمُبَارَكِ فَرْضًا لَكَ يَا اللهُ فَتَقَبَّلْ مِنِّي إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
বাংলা উচ্চারণ: “নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম মিন শাহরি রমাদ্বানাল মুবারাকি ফারদ্বল্লাকা, ইয়া আল্লাহু ফাতাক্বাব্বাল মিন্নি ইন্নাকা আনতাস সামিউল আলিম।”
বাংলা অর্থ: “হে আল্লাহ! আগামীকাল পবিত্র রমজানের তোমার পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ রোজা রাখার নিয়ত করলাম। অতএব তুমি আমার পক্ষ থেকে (আমার রোজা তথা পানাহার থেকে বিরত থাকাকে) কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।”
ইফতারের সময় দোয়া (আরবি):
اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ
বাংলা উচ্চারণ: “আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা আফতারতু।”
বাংলা অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্যই রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেওয়া রিজিক দিয়ে ইফতার করছি।”
রমজান ২০২৬ প্রস্তুতি – বাজার ও সরকারি পদক্ষেপ
পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে চিনি, ভোজ্যতেল, ছোলা, খেজুর এবং অন্যান্য রমজানের বিশেষ পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা বা অতিরিক্ত মূল্য বৃদ্ধির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (TCB) সারাদেশে বিশেষ বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপন করবে যেখানে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রি করা হবে। গত বছরের তুলনায় এবার আরও বেশি ট্রাক নিয়ে টিসিবি কাজ করবে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য ভর্তুকি মূল্যে চাল, ডাল, তেল, চিনি সরবরাহ করা হবে।
স্বাস্থ্য টিপস – রোজা রেখে সুস্থ থাকার উপায়
রমজান মাসে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত:
সেহরিতে যা খাবেন: সেহরিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। জটিল শর্করা জাতীয় খাবার যেমন লাল চাল, লাল আটার রুটি খান যা ধীরে ধীরে হজম হয় এবং সারাদিন শক্তি দেয়। প্রোটিন জাতীয় খাবার যেমন ডিম, দুধ রাখুন। ফল বিশেষ করে খেজুর, কলা খান।
ইফতারে যা করবেন: হঠাৎ করে অতিরিক্ত খাবার খাবেন না। প্রথমে পানি ও খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করুন। তারপর হালকা খাবার খান। ভাজাপোড়া খাবার কম খাওয়ার চেষ্টা করুন। বেশি করে শাকসবজি ও ফলমূল খান।
এড়িয়ে চলুন: অতিরিক্ত তৈলাক্ত ও মসলাযুক্ত খাবার, কোমল পানীয়, অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন। দীর্ঘ সময় রোদে থাকা থেকে বিরত থাকুন। রাতে পর্যাপ্ত ঘুমের ব্যবস্থা করুন।
রমজান মাসের বিশেষ আমল ও ইবাদত
পবিত্র রমজান মাস শুধু রোজা রাখার মাস নয়, এটি আল্লাহর নৈকট্য লাভের বিশেষ সময়। এই মাসে কিছু বিশেষ ইবাদত ও আমল রয়েছে যা অন্য সময়ের তুলনায় হাজার গুণ বেশি সওয়াবের:
তারাবির নামাজ: প্রতি রাতে এশার নামাজের পর ২০ রাকাত তারাবির নামাজ পড়া সুন্নাত। এই নামাজে সম্পূর্ণ কুরআন শরিফ খতম করা হয়। মসজিদে জামাতের সাথে পড়া উত্তম। বাড়িতে থাকলে একাও পড়া যায়।
কুরআন তেলাওয়াত: রমজান মাসে পবিত্র কুরআন নাজিল হয়েছিল। তাই এই মাসে বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত করা উচিত। চেষ্টা করা উচিত পুরো রমজান মাসে অন্তত একবার কুরআন খতম করার। প্রতিটি হরফে ১০টি করে নেকি পাওয়া যায়।
দান-সদকা: রমজান মাসে দান-সদকা করার ফজিলত অনেক বেশি। হাদিসে বলা হয়েছে, রাসূল (সা.) রমজান মাসে প্রবাহিত বাতাসের চেয়েও বেশি দানশীল ছিলেন। গরিব-দুঃখীদের সাহায্য করা, ইফতার করানো, জাকাত আদায় করা এই মাসের বিশেষ আমল।
ইতিকাফ: রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। এসময় মসজিদে অবস্থান করে বিশেষভাবে ইবাদত করা হয়। শবে কদর খোঁজার জন্য রাসূল (সা.) নিয়মিত ইতিকাফ করতেন।
অনলাইনে সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি কোথায় পাবেন?
আধুনিক যুগে ডিজিটাল মাধ্যমে রমজানের সময়সূচি পাওয়া অত্যন্ত সহজ হয়ে গেছে। বিভিন্ন উপায়ে আপনি আপনার এলাকার সঠিক সেহরি ও ইফতারের সময় জানতে পারবেন:
ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (islamicfoundation.gov.bd) সম্পূর্ণ সময়সূচি পাওয়া যায়। এছাড়াও তাদের ফেসবুক পেজে নিয়মিত আপডেট দেওয়া হয়। বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন এ প্রতিদিন সময়সূচি প্রচার করা হয়।
বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ রয়েছে যেখানে আপনার লোকেশন অনুযায়ী সঠিক সময় দেখাবে। কিছু জনপ্রিয় অ্যাপ হলো “Muslim Pro”, “Athan”, “Ramadan 2026 BD” ইত্যাদি। এই অ্যাপগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেহরি ও ইফতারের আগে সতর্কতা সংকেত দেয়।
প্রধান সংবাদপত্রগুলো যেমন প্রথম আলো, কালের কণ্ঠ, দৈনিক ইত্তেফাক তাদের ওয়েবসাইটে নিয়মিত আপডেট প্রকাশ করে। এছাড়া আমাদের Porasonablog ও বিভিন্ন ইসলামিক ওয়েবসাইটেও সময়সূচি পাওয়া যায়।
FAQ – সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
১. ২০২৬ সালে বাংলাদেশে রমজান কবে শুরু হবে?
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) থেকে বাংলাদেশে রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত ঘোষণা জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি থেকে আসবে।
২. ঢাকায় প্রথম রোজার সেহরি ও ইফতারের সময় কখন?
ঢাকায় প্রথম রোজার সেহরির শেষ সময় হবে ভোর ৫টা ১২ মিনিট এবং ইফতারের সময় হবে সন্ধ্যা ৫টা ৫৮ মিনিট। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সময়সূচি অনুযায়ী এই সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
৩. ইসলামিক ফাউন্ডেশন কি সব জেলার জন্য আলাদা সময়সূচি দিয়েছে?
হ্যাঁ, এবছর প্রথমবারের মতো ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার জন্য পৃথক সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ করেছে। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী প্রতিটি জেলার সময় আলাদা।
৪. সেহরির সময়ে ৩ মিনিটের সতর্কতামূলক সময় কি বাদ দেওয়া হয়েছে?
হ্যাঁ, জাতীয় মসজিদের খতিব এবং শীর্ষস্থানীয় আলেমদের পরামর্শে এবার থেকে ৩ মিনিটের সতর্কতামূলক সময় বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন সেহরির শেষ সময়ই হবে ফজরের ওয়াক্ত শুরুর সময়।
৫. শবে কদর কবে পালিত হবে ২০২৬ সালে?
রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হলে শবে কদর বা লাইলাতুল কদর ১৭ মার্চ (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে পালিত হবে। এটি রমজানের ২৭তম রাত।
৬. ঈদুল ফিতর ২০২৬ কত তারিখে?
রমজান ৩০ দিন হলে ঈদুল ফিতর সম্ভাব্যভাবে ২০ বা ২১ মার্চ ২০২৬ তারিখে পালিত হতে পারে। এটিও চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল।
৭. কোথা থেকে সঠিক সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি পাবো?
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, সংবাদপত্র এবং টিভি চ্যানেলগুলো থেকে নির্ভরযোগ্য সময়সূচি পাওয়া যায়। প্রতিটি জেলার জন্য আলাদা সময়সূচি দেখতে পারবেন।
৮. রোজা রাখার সময় কী কী স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত?
সেহরিতে পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবার খান, ইফতারে হঠাৎ অতিরিক্ত খাবেন না, ভাজাপোড়া কম খান, রাতে পর্যাপ্ত ঘুম নিন এবং দিনে অতিরিক্ত পরিশ্রম এড়িয়ে চলুন। শারীরিক সমস্যা হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
উপসংহার
পবিত্র রমজান মাস ২০২৬ আসছে নতুন প্রত্যাশা ও আশীর্বাদ নিয়ে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি মেনে চলুন এবং সঠিক সময়ে ইবাদত করুন। এবারের বিশেষ সুবিধা হলো ৬৪টি জেলার জন্য আলাদা সময়সূচি, যা রোজাদারদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক।
মনে রাখবেন, রমজান শুধু খাদ্য ও পানীয় থেকে বিরত থাকার মাস নয়, এটি আত্মশুদ্ধির মাস, ধৈর্য ও সংযমের মাস। এই মাসে বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত, নামাজ, দান-সদকা এবং আল্লাহর জিকির করুন। শবে কদরের বিশেষ মর্যাদা লাভের চেষ্টা করুন। সুস্বাস্থ্য বজায় রেখে রোজা রাখুন এবং পরিবার-পরিজনের সাথে ইফতার করে রমজানের আনন্দ ভাগাভাগি করুন।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে এই পবিত্র রমজান মাসে সঠিকভাবে রোজা রাখার এবং ইবাদত করার তৌফিক দান করুন। আমীন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই আর্টিকেলে উল্লেখিত সকল তারিখ ও সময় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রকাশিত তথ্যের উপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়েছে। চূড়ান্ত তারিখ চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল। সরকারি ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করুন।
