অনার্স ও ডিগ্রিতে বড় পরিবর্তন: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলক হলো নতুন Comprehensive English কোর্স

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত অনার্স ও ডিগ্রি শিক্ষার্থীদের জন্য এলো বড় এক পরিবর্তন। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে স্নাতক (পাস ও সম্মান) পর্যায়ের দ্বিতীয় বর্ষে যুক্ত হচ্ছে নতুন বাধ্যতামূলক Comprehensive English কোর্স। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে দ্বিতীয় বর্ষের সব শিক্ষার্থীকে এই কোর্স সম্পন্ন করতে হবে। মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষা দক্ষতা বাড়ানো, লেখাপড়া আরও সহজ করা এবং ভবিষ্যৎ চাকরি ও উচ্চশিক্ষার জন্য তাদের প্রস্তুত করা।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই Comprehensive English কোর্সটি হবে ৪ ক্রেডিটের। অর্থাৎ এটি শুধু নামমাত্র একটি সংযোজন নয়, বরং নিয়মিত একাডেমিক পড়াশোনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই ধরা হবে। অনার্স ২য় বর্ষডিগ্রি ২য় বর্ষ—দুই স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্যই এটি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন দেশের নানা কলেজে পড়ুয়া বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এই নতুন নিয়মের আওতায় আসবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক শিক্ষার্থী বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনায় ভালো করলেও ইংরেজিতে দুর্বলতা থাকায় একাডেমিক কাজ, পরীক্ষা, উপস্থাপনা, এমনকি চাকরির প্রস্তুতিতেও পিছিয়ে পড়ে। এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই ইংরেজি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং একাডেমিক সক্ষমতা উন্নয়নকে সামনে রেখে কোর্সটি চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সহজভাবে বললে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় চাইছে শিক্ষার্থীরা শুধু পাস করুক তা নয়, বরং তারা যেন বাস্তব জীবনেও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।

এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্র থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, নতুন এ কোর্সটি ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকেই কার্যকর হবে। অর্থাৎ নতুন শিক্ষাবর্ষে সংশ্লিষ্ট স্নাতক (পাস ও সম্মান) প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার কাঠামোতে এই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত থাকবে। প্রজ্ঞাপনটি অনুমোদনক্রমে স্বাক্ষর করেন কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্রের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) ড. এ এইচ এম রুহুল কুদ্দুস

শিক্ষাবিদদের মতে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কোর্স চালুর এই উদ্যোগ সময়োপযোগী। কারণ এখন প্রায় সব ক্ষেত্রেই ইংরেজি ভাষার ব্যবহার বাড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা, গবেষণা, অনলাইন রিসোর্স ব্যবহার, চাকরির আবেদন, ভাইভা, এমনকি আন্তর্জাতিক স্কলারশিপের ক্ষেত্রেও ইংরেজি জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই দ্বিতীয় বর্ষ থেকেই শিক্ষার্থীদের এই দক্ষতা চর্চার সুযোগ দেওয়া হলে তা তাদের দীর্ঘমেয়াদে উপকারে আসবে।

এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। কারণ শুধু সনদ অর্জন নয়, এখন শিক্ষার্থীদের বাস্তব দক্ষতার দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যারা গ্রাম বা মফস্বল এলাকার কলেজে পড়েন, তাদের অনেকের জন্য Comprehensive English কোর্সটি হতে পারে আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার একটি বড় সুযোগ। এতে ক্লাসরুমের শেখা জ্ঞান বাস্তব জীবনে কাজে লাগানো আরও সহজ হতে পারে।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য খবরটি গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি কারণে। নতুন কোর্স মানে শুধু সিলেবাসে বাড়তি একটি বিষয় নয়, বরং ভবিষ্যতে পরীক্ষার প্রস্তুতি, ক্লাসে উপস্থিতি, অ্যাসাইনমেন্ট এবং ফলাফলের দিক থেকেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই অনার্স ও ডিগ্রির শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই এ বিষয়ে সচেতন থাকা দরকার। যে শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় বর্ষে উঠবে, তাদের জন্য এই কোর্সটি আর আলাদা কোনো বিকল্প নয়, এটি হবে বাধ্যতামূলক একাডেমিক অংশ।

সব মিলিয়ে বলা যায়, অনার্স ও ডিগ্রিতে নতুন কোর্স বাধ্যতামূলক করল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়—এই সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, এটি শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়ানোর বড় বার্তাও বহন করছে। ইংরেজি ভাষা দক্ষতা, একাডেমিক উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রস্তুতি—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই নতুন Comprehensive English কোর্স চালু করা হয়েছে। ফলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি হতে পারে নতুন সুযোগের দরজা খোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

রায়হান আহাম্মেদ
রায়হান আহাম্মেদ
রায়হান আহাম্মেদ শিক্ষা ও চাকরি সংক্রান্ত আপডেট নিয়ে কাজ করেন। তিনি কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন এবং অনলাইন তথ্য যাচাই ও দ্রুত আপডেট প্রকাশে দক্ষ। তিনি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট ও অফিসিয়াল নোটিশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে নিশ্চিত হওয়ার পর প্রকাশ করেন। তার লক্ষ্য হলো পাঠকদের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য নিশ্চিত করা।
রিলেটেড আরটিকেল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

জনপ্রিয় নিউজ