পরবর্তী এসএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আগামীকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সারাদেশে শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা, আর এর ঠিক আগের দিন সোমবার (২০ এপ্রিল) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, পরবর্তী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা এ বছরই নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের একটি মূল্যবান শিক্ষাবর্ষ যেন নষ্ট না হয়, সেই বিবেচনা থেকেই এই সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এর আগেও এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরে নেওয়ার প্রাথমিক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে ডিসেম্বরে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তটি কবে বাস্তবায়ন হবে—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “জানুয়ারি মাসে সিলেবাস দিয়ে ক্লাস শুরু হয়েছে। কোর্স শেষ হওয়ার কথা ডিসেম্বরে। যদি ডিসেম্বরে কোর্স শেষ হয়, তাহলে আমি শিক্ষার্থীদের জীবনের একটা বছর কেন নষ্ট করব?” তাঁর এই বক্তব্য থেকেই মূলত স্পষ্ট হয় যে, পরবর্তী এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬ সালের ডিসেম্বরেই অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
সাংবাদিকরা যখন আবারও নিশ্চিত হতে চান যে আগামী এসএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরেই হবে কি না, তখন শিক্ষামন্ত্রীর উত্তর ছিল আরও স্পষ্ট। তিনি বলেন, “প্রত্যেক পরীক্ষা যে সময়ে হয়, সেই সময়ে হবে। প্রত্যেক পরীক্ষার কোর্স শেষ হবে ডিসেম্বরের মধ্যে, পরীক্ষা হতে হবে ডিসেম্বরের মধ্যে—লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার।” তাঁর এই বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে পড়া পাবলিক পরীক্ষার একাডেমিক ক্যালেন্ডার আবারও পুরনো ছন্দে ফিরিয়ে আনতে চাইছে সরকার।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন তোলেন, আগামী জুলাই মাসে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এত অল্প সময়ের মধ্যে শিক্ষা বোর্ডগুলো কি পরপর দুটি বড় পাবলিক পরীক্ষা নিতে পারবে? এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমার কনসার্ন বোর্ড নয়, শিক্ষার্থীরা। সিলেবাস ডিসেম্বরে শেষ হলে আমরা শিক্ষার্থীদের একটি বছর নষ্ট করতে পারি না।” তাঁর এই বক্তব্যে পরিষ্কার হয়ে যায়, সরকার শিক্ষার্থীদের স্বার্থকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে এবং শিক্ষাবর্ষ স্বাভাবিক গতিতে ফেরানোর লক্ষ্যেই এমন সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে।
এপ্রিল মাসে ঘোষণা দিয়ে মাত্র আট মাসের মাথায় ডিসেম্বরে পরীক্ষা নেওয়া বাস্তবসম্মত কি না—এমন প্রশ্নও উঠে এসেছে সংবাদ সম্মেলনে। এর উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী জানান, জানুয়ারি মাস থেকেই ক্লাস শুরু হয়ে গেছে এবং মাঝে যতটুকু সময়ের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি আবারও নিশ্চিত করেন যে, ডিসেম্বরের মধ্যেই কোর্স শেষ হয়ে যাবে। তবে এখনো পর্যন্ত এসএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত ও লিখিত কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেননি তিনি।
শিক্ষা-সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি এলোমেলো হয়ে পড়েছিল। করোনা মহামারি, বন্যা ও নানা প্রাকৃতিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বারবার পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় ভর্তি, বিদেশে পড়াশোনা এবং ক্যারিয়ার পরিকল্পনায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছিল। এ অবস্থায় পরবর্তী এসএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের জট খুলবে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা। পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
সব মিলিয়ে আগামীকাল শুরু হতে যাওয়া ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ঠিক আগমুহূর্তে শিক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। যদিও এসএসসি পরীক্ষার রুটিন বা আনুষ্ঠানিক সময়সূচি এখনো প্রকাশ করেনি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড, তবে মন্ত্রীর বক্তব্য থেকে এটি পরিষ্কার যে, ভবিষ্যতে পাবলিক পরীক্ষাগুলো নির্ধারিত সময়ে অর্থাৎ ডিসেম্বরের মধ্যেই নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, তারা যেন এখন থেকেই পরীক্ষার প্রস্তুতিতে পূর্ণ মনোযোগ রাখেন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী অফিসিয়াল নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকেন।
