তীব্র গরমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময়সূচি পরিবর্তনের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি বলছে, চলমান তাপদাহ ও অস্বস্তিকর আবহাওয়ায় ছোট ছোট শিশুদের সুরক্ষা দিতে হলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময়সূচি পরিবর্তন করে বেলা ১২টার মধ্যে বিরতিহীনভাবে ক্লাস শেষ করা দরকার। শিক্ষকদের এই আহ্বান এখন অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে, কারণ গরমে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের কষ্ট সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে।
সোমবার, ২০ এপ্রিল, এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়। বিবৃতিতে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, দেশে প্রচণ্ড গরম ও তাপদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের দুপুরের আগেই বিদ্যালয়ে আনা-নেওয়ার ব্যবস্থা করা জরুরি। কারণ দিনের তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছোট শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলে যাওয়া, ক্লাস করা এবং বাসায় ফেরা—সবই আরও কষ্টকর হয়ে ওঠে।
তিনি মনে করেন, শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এখন সবচেয়ে বড় বিষয়। প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা বয়সে ছোট হওয়ায় তারা গরম দ্রুত সহ্য করতে পারে না। তাই গরমে স্কুলের সময়সূচি এমনভাবে ঠিক করা উচিত, যাতে সকালেই পাঠদান শেষ করা যায়। এতে একদিকে যেমন শিশুদের কষ্ট কমবে, অন্যদিকে অভিভাবকদের উদ্বেগও কিছুটা কমবে। বিশেষ করে শহর ও গ্রাম—দুই জায়গাতেই দুপুরের রোদে ছোট শিশুদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিখন ঘাটতি তুলনামূলকভাবে খুব বেশি নয়। জানুয়ারি মাসে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। সেই হিসাবে প্রাথমিক স্তরে এমন একটি সাময়িক সময়সূচি পরিবর্তন করা সম্ভব, যাতে শিক্ষা কার্যক্রম চালু থাকে, আবার শিক্ষার্থীদেরও অতিরিক্ত গরমের মধ্যে থাকতে না হয়। এই যুক্তি থেকেই দুপুর ১২টার মধ্যে ক্লাস শেষ করার প্রস্তাব সামনে আনা হয়েছে।
একই বিবৃতিতে মাধ্যমিক স্তরের প্রসঙ্গও উঠে আসে। সেখানে বলা হয়, অনেক জায়গায় এসএসসি পরীক্ষার সেন্টার ও অন্যান্য কারণে শিখন ঘাটতি বেশি হয়েছে। এ কারণে বিদ্যালয় বন্ধের দিনগুলোতেও পরীক্ষা নেওয়ার মতো বিকল্প ভাবনার কথা বলা হয়েছে। তবে প্রাথমিক স্তরের ক্ষেত্রে মূল জোর দেওয়া হয়েছে শিশুদের নিরাপত্তা, উপস্থিতি এবং সহজে শেখার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর।
গরমে প্রাথমিক বিদ্যালয় চালু রাখার প্রশ্নে এই প্রস্তাব অনেকের কাছে বাস্তবসম্মত বলেই মনে হচ্ছে। কারণ পুরোপুরি ক্লাস বন্ধ না করে সময় কমিয়ে বিরতিহীন পাঠদান চালু রাখা হলে শিশুদের পড়াশোনা থেমে যাবে না, আবার তীব্র রোদেও বেশি সময় থাকতে হবে না। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পরিবার—সবার জন্যই একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে, গরমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময়সূচি পরিবর্তনের আহ্বান শুধু একটি প্রশাসনিক প্রস্তাব নয়, এটি শিশুদের স্বাস্থ্য, স্বস্তি ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি। এখন দ্রুত সিদ্ধান্ত এলে প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা যেমন স্বস্তি পাবে, তেমনি অভিভাবকেরাও নিশ্চিন্ত থাকবেন যে তীব্র গরমের মধ্যেও তাদের সন্তানদের কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবা হচ্ছে।
