বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হলো – বর্তমান কলেজ শিক্ষার্থীরা এই নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবিধা পাবেন কিনা? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে যা জানা গেছে, তা আজকের এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হলো।
বর্তমান শিক্ষার্থীদের অবস্থান কী?
রাজধানীর সাত কলেজের বর্তমান শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার অবসান হচ্ছে ধীরে ধীরে। আজ (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছেন।
তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, বর্তমান শিক্ষার্থীরা বিদ্যমান কাঠামোতেই তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাবেন। তবে তারা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবিধা পাবেন কিনা, সেটি আইনগত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত হবে। এখনই সুনির্দিষ্ট কিছু বলা যাচ্ছে না।
নতুন ও পুরাতন কাঠামোর পার্থক্য
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বর্তমান কাঠামো এবং ভবিষ্যতের নতুন কাঠামো সম্পূর্ণ আলাদা। প্রফেসর তানজীমউদ্দিন খান এ বিষয়ে বলেছেন, “বর্তমান কাঠামোর সঙ্গে ওই কাঠামো (সামনের আইন) চলছে না। দুটো সেপারেট।” এর অর্থ হলো নতুন শিক্ষার্থীরা যে ব্যবস্থায় পড়াশোনা করবেন, সেটি বর্তমান শিক্ষার্থীদের থেকে ভিন্ন হবে।
সার্টিফিকেটে কী থাকবে?
অনেক কলেজ শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের মনে প্রশ্ন রয়েছে যে, তাদের সার্টিফিকেটে কলেজের নাম থাকবে নাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম থাকবে। এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে ইউজিসি সদস্য জানিয়েছেন যে, বিষয়গুলো নিয়ে এখনও কাজ চলছে। এখনও চূড়ান্ত কিছুই হয়নি।
শিক্ষার্থীদের জন্য কী করা হবে?
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আশ্বস্ত করার বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “শিক্ষার্থীরা দাবি জানিয়েছে, সেটা মেনে নেওয়া হয়েছে। তাদের জন্য সবচেয়ে যেটা ভালো হবে, সেটাই করা হবে। আমরা সুন্দর একটা সমাধানে যাব।”
এর অর্থ হলো কলেজ শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। তবে সেই সমাধান কী হবে, তা আলোচনা ও গবেষণার পর নির্ধারণ করা হবে।
বর্তমান শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার নিশ্চয়তা
সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, বিভিন্ন পর্যায়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা পূর্বের বিদ্যমান একাডেমিক কাঠামো অনুযায়ী তাদের শিক্ষা কার্যক্রম সমাপ্ত করবেন। তাদের সময়মতো পরীক্ষা নেওয়া হবে, রেজাল্ট দ্রুত প্রকাশ করা হবে এবং সেশনজট কমাতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশিষ্ট্য
ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় একটি অত্যাধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪০ শতাংশ ক্লাস অনলাইনে এবং ৬০ শতাংশ ক্লাস সশরীরে অনুষ্ঠিত হবে। তবে সব ধরনের পরীক্ষা সশরীরেই নেওয়া হবে।
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা হবে ইন্টারডিসিপ্লিনারি ও হাইব্রিড। এখানে প্রথম থেকে দ্বিতীয় বর্ষ পর্যন্ত সবাই নন-মেজর কোর্স পড়বেন, এরপর নির্দিষ্ট মার্কসের ভিত্তিতে তাদের ডিসিপ্লিন নির্ধারণ হবে।
ভর্তি প্রক্রিয়া কেমন হবে?
ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রথম দিকে ২৩টি বিষয়ে ভর্তির সুযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে এই পরিসর আরও বাড়ানো হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তি প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে এবং প্রতিটি বিষয়ে যৌক্তিকভাবে ছাত্রসংখ্যা নির্ধারণ করা হবে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এবার বুয়েট (বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়) ভর্তি পরীক্ষার পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এর ফলে প্রশ্নের মান অনেক বেশি মানসম্পন্ন হবে। পেনাল্টি মার্কিং সহ সেকেন্ড টাইম থাকার সুবিধাও রয়েছে।
সাত কলেজের সমান গুরুত্ব
ইউজিসি চেয়ারম্যান জানিয়েছেন যে, সব কলেজকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেছেন, “শুধু ঢাকা কলেজ নয়, প্রত্যেকটা কলেজকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সবাইকে নিয়েই আমরা বেস্ট কিছু আশা করছি।”
চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
কলেজ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ছিল, তার অবসানের দিকে এগিয়ে চলেছে বিষয়টি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। আইনগত বিষয়াদি পর্যালোচনা করে এবং সব পক্ষের সাথে আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থী বান্ধব একটি সমাধান বের করা হবে।
শিক্ষার্থীদের করণীয়
বর্তমান কলেজ শিক্ষার্থীদের এই মুহূর্তে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের শিক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাওয়ার পূর্ণ নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। সেশনজট কমানো এবং সময়মতো রেজাল্ট প্রকাশের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নতুন শিক্ষার্থীরা ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারেন। এই আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসম্পন্ন শিক্ষার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার সুবিধা পাওয়া যাবে।
