এনটিআরসিএ শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা: নতুন নিয়মে ২০০ নম্বরে পরীক্ষা, ১০০ সাবজেক্টিভ ও ১০০ জেনারেল

বাংলাদেশের বেসরকারি স্কুল ও কলেজে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বড় খবর এসেছে। এনটিআরসিএ (বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ) জানিয়েছে যে এবার শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা হবে ২০০ নম্বরে। এই পরীক্ষায় ১০০ নম্বর থাকবে বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নে এবং বাকি ১০০ নম্বর থাকবে সাধারণ বিষয়ে।

নতুন পরীক্ষা পদ্ধতি কেমন হবে?

২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট এনটিআরসিএ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই নতুন পদ্ধতিতে স্কুল-কলেজের সহকারী শিক্ষক এবং প্রভাষক পদের জন্য পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় উপস্থিত শিক্ষকরা জানিয়েছেন যে এই পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে সবাই একমত হয়েছেন।

জেনারেল ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে চারটি বিষয়ে – বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং বিজ্ঞান। প্রতিটি বিষয়ে থাকবে ২৫ নম্বর করে প্রশ্ন। এই অংশটি সব ধরনের শিক্ষার্থীদের জন্য একই রাখা হয়েছে। অর্থাৎ বিজ্ঞান, মানবিক কিংবা ব্যবসায় শিক্ষা – সব বিভাগের প্রার্থীদের জন্য জেনারেল অংশ একই থাকবে।

বিষয়ভিত্তিক নম্বর বণ্টন

বাকি ১০০ নম্বর থাকবে বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নে। এর মানে হলো প্রার্থীরা যে বিষয়ে স্নাতক-স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন, সেই বিষয়ের উপরই ১০০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ বাংলা সাহিত্যে স্নাতক-স্নাতকোত্তর করে থাকেন, তাহলে তার ১০০ নম্বর থাকবে বাংলা সাহিত্যের উপর।

এই নতুন পদ্ধতিতে বাছাই পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। এর ফলে যোগ্য প্রার্থীরা তাদের বিষয়ে দক্ষতা প্রমাণের পাশাপাশি সাধারণ জ্ঞানেও পারদর্শিতা দেখাতে পারবেন।

মাদ্রাসার জন্য আলাদা নিয়ম

মাদ্রাসার শিক্ষকদের জন্য নম্বর বণ্টন কিছুটা ভিন্ন রাখা হয়েছে। মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী এবং প্রভাষক পদের জন্যও পরীক্ষা হবে ২০০ নম্বরে। তবে এখানে ১৪০ নম্বর থাকবে বিষয়ভিত্তিক এবং বাকি ৬০ নম্বর হবে সাধারণ বিষয়ে।

৬০ নম্বরের সাধারণ অংশে বাংলা ১৫, ইংরেজি ১৫, সাধারণ জ্ঞান ১৫ এবং গণিত ও বিজ্ঞান ১৫ নম্বর করে থাকবে। এই বিশেষ ব্যবস্থা মাদ্রাসা শিক্ষার ধরন অনুযায়ী করা হয়েছে।

চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা

যদিও এই সিদ্ধান্ত প্রাথমিকভাবে নেওয়া হয়েছে, তবুও এটি এখনও চূড়ান্ত নয়। এনটিআরসিএর বোর্ড সভায় এই প্রস্তাব নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে। তারপর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

এই নতুন পরীক্ষা পদ্ধতি শিক্ষক নিয়োগে আরও স্বচ্ছতা এবং যোগ্যতাভিত্তিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রার্থীরা এখন তাদের নির্দিষ্ট বিষয়ে গভীর জ্ঞান এবং সাধারণ শিক্ষার উপর সমান গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি নিতে পারবেন।

শিক্ষক নিয়োগ প্রত্যাশী সকলের জন্য এই নতুন পদ্ধতি একটি ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসবে। ২০০ নম্বরের এই সুষম বণ্টন প্রার্থীদের সার্বিক যোগ্যতা যাচাইয়ে সহায়ক হবে।

লিজা আক্তার
লিজা আক্তার
লিজা আক্তার শিক্ষা ও ক্যারিয়ার বিষয়ক সংবাদ নিয়ে কাজ করেন। তিনি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। তথ্য প্রকাশের আগে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল নোটিশ ও বিশ্বস্ত সূত্র যাচাই করেন। তিনি এমনভাবে তথ্য উপস্থাপন করতে চান যাতে শিক্ষার্থীরা সহজেই প্রয়োজনীয় তথ্য বুঝতে পারে।
রিলেটেড আরটিকেল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

জনপ্রিয় নিউজ