আগামী ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে শুরু হতে যাওয়া জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ (Junior Scholarship Exam 2025) নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। এবছর প্রবেশপত্র বিতরণ থেকে শুরু করে পরীক্ষার রুটিন এবং কেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় আনা হয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। প্রতিটি অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীর জন্য এই নতুন নির্দেশনা জানা অত্যন্ত জরুরি।
বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে শিক্ষা বোর্ড তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট dhakaeducationboard.gov.bd এর মাধ্যমে একটি বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এই বিজ্ঞপ্তিতে Junior Scholarship Admit Card সংগ্রহ, Exam Routine, পরীক্ষার সময়সূচি এবং বিশেষ নিয়মকানুন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে।
| গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| প্রবেশপত্র ডাউনলোডের শেষ তারিখ | ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ |
| পরীক্ষার তারিখ | ২৮-৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ |
| পরীক্ষা শুরুর সময় | সকাল ১০:০০ টা |
| কেন্দ্রে পৌঁছানোর সময় | পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে |
| মোট নম্বর | ৪০০ |
| পরীক্ষার বিষয় | বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও বিশ্বপরিচয় |
| মোবাইল ফোন | সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ (কেন্দ্র সচিব ছাড়া) |
| ক্যালকুলেটর | সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর অনুমোদিত |
| আসন বিন্যাস | ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখা বাধ্যতামূলক |
| অফিসিয়াল ওয়েবসাইট | dhakaeducationboard.gov.bd |
প্রবেশপত্র ডাউনলোড ও বিতরণের সময়সীমা
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র (Admit Card) ইতিমধ্যে অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের আগামী ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের মধ্যে শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দিতে হবে। এটি একটি বাধ্যতামূলক ডেডলাইন যা অবশ্যই মেনে চলতে হবে।
যদি কোনো শিক্ষার্থীর Admit Card তে কোনো তথ্যে ভুল পাওয়া যায়, তাহলে অবিলম্বে স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সেই ভুল সংশোধনের জন্য পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করতে হবে। নাম, জন্ম তারিখ, রোল নম্বর বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যে ভুল থাকলে তা যত দ্রুত সংশোধন করা সম্ভব, তত ভালো।
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার রুটিন ২০২৫
এবারের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২৮ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষা শুরু হবে এবং দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে। চারটি মূল বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং মোট ৪০০ নম্বরের (Total Marks 400) ওপর ভিত্তি করে বৃত্তি প্রদান করা হবে।
| তারিখ | বিষয় | নম্বর | সময় |
|---|---|---|---|
| ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | বাংলা (Bengali) | ১০০ | ৩ ঘণ্টা |
| ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | ইংরেজি (English) | ১০০ | ৩ ঘণ্টা |
| ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ | গণিত (Mathematics) | ১০০ | ৩ ঘণ্টা |
| ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ | বিজ্ঞান (Science) + বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (BGS) | ৫০+৫০ = ১০০ | ১.৩০ মিনিট + ১.৩০ মিনিট |
বাংলা, ইংরেজি এবং গণিত বিষয়ে প্রতিটিতে ১০০ নম্বর এবং ৩ ঘণ্টা সময় বরাদ্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে ৫০+৫০ নম্বরের দুটি পরীক্ষা হবে, যার প্রতিটিতে ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় পাবে শিক্ষার্থীরা।
পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম
শিক্ষা বোর্ড এবার Exam Center Entry Rules নিয়ে বেশ কিছু কঠোর নিয়ম আরোপ করেছে। সকল শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে হবে এবং তাদের নির্ধারিত আসনে বসতে হবে। এটি একটি বাধ্যতামূলক নিয়ম এবং দেরিতে আসলে রেজিস্টার খাতায় কারণ লিখে প্রবেশ করতে হবে।
মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরীক্ষা কেন্দ্রে নেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কেবলমাত্র কেন্দ্র সচিব একটি সাধারণ বাটন ফোন (যাতে ক্যামেরা নেই) ব্যবহার করতে পারবেন। শিক্ষক, পরিদর্শক এবং শিক্ষার্থী কেউই মোবাইল ফোন বা স্মার্টওয়াচ জাতীয় কোনো ডিভাইস সাথে রাখতে পারবেন না।
তবে, Scientific Calculator ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর সাথে নিতে পারবে। তবে প্রোগ্রামেবল ক্যালকুলেটর বা অন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করা যাবে না।
পরীক্ষা কেন্দ্রে আসন বিন্যাস ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য প্রতিটি পরীক্ষার্থীর মধ্যে কমপক্ষে ৩ ফুট দূরত্ব (Seating Distance) রেখে বসার ব্যবস্থা করতে হবে। পরীক্ষা কক্ষে প্রতি ২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ জন পরিদর্শক নিয়োগ দেওয়া হবে যাতে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা যায়।
পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনে হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করা যাবে এবং সম্ভব হলে CCTV ক্যামেরা স্থাপন করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। এতে করে পরীক্ষা কেন্দ্রে যেকোনো ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর ব্যবস্থা
Question Paper Leakage রোধে এবার শিক্ষা বোর্ড অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। ট্রেজারি থেকে প্রশ্নপত্র সংগ্রহের সময় জেলা ও উপজেলা কমিটির উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং পুলিশি প্রহরায় প্রশ্নপত্র পরিবহন করতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কেন্দ্র সচিব শিক্ষা বোর্ড থেকে SMS নির্দেশনা (SMS Instruction) না পাওয়া পর্যন্ত প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খুলতে পারবেন না। এই SMS পাওয়ার পরেই কেবল প্রশ্নপত্র খোলার অনুমতি দেওয়া হবে। এই পদ্ধতি অবলম্বন করার ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে।
ইংরেজি ভার্সনের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা
যেসব শিক্ষার্থী English Version এ পড়াশোনা করে, তাদের জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র এবং উত্তরপত্র ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের অবশ্যই ইংরেজি ভার্সনের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিতে হবে এবং উত্তরপত্রগুলো আলাদাভাবে প্যাকেটবন্দী করে জমা দিতে হবে। এতে করে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া আরও সহজ এবং স্বচ্ছ হবে।
উত্তরপত্র সংরক্ষণ ও জমা দেওয়ার নিয়ম
পরীক্ষা শেষে Answer Scripts সংরক্ষণে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। উত্তরপত্র কোনোভাবেই ভাঁজ করা যাবে না। প্রতিটি কেন্দ্রে ৫০টি উত্তরপত্র একসাথে প্যাকেটবন্দী করে সিলগালা করতে হবে এবং পুলিশি পাহারায় নির্ধারিত স্থানে জমা দিতে হবে। এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে উত্তরপত্র হারিয়ে যাওয়া বা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না।
অভিভাবকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। অভিভাবকদের উচিত তাদের সন্তানদের সঠিকভাবে প্রস্তুত করা এবং নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নিশ্চিত করা:
প্রথমত, আগামী ২১ ডিসেম্বরের মধ্যে স্কুল থেকে Admit Card সংগ্রহ করুন এবং সেখানে সকল তথ্য সঠিক আছে কিনা যাচাই করুন। যদি কোনো ভুল থাকে, অবিলম্বে স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানান।
দ্বিতীয়ত, পরীক্ষার দিন আপনার সন্তানকে অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যান। দেরিতে পৌঁছালে মানসিক চাপ বেড়ে যেতে পারে এবং পরীক্ষায় প্রভাব ফেলতে পারে।
তৃতীয়ত, নিশ্চিত করুন যে আপনার সন্তান সাথে কোনো মোবাইল ফোন, স্মার্টওয়াচ বা অন্য কোনো নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে যাচ্ছে না। শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় লেখার উপকরণ এবং একটি সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর সাথে রাখুন।
চতুর্থত, পরীক্ষার আগের রাতে পর্যাপ্ত ঘুম এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করুন। মানসিক চাপ কমাতে আপনার সন্তানকে উৎসাহিত করুন এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ান।
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ সুবিধা
Junior Scholarship Exam শুধুমাত্র একটি পরীক্ষা নয়, এটি মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি এবং উৎসাহ প্রদানের একটি মাধ্যম। যারা এই পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করবে, তারা বৃত্তি (Scholarship) পাবে যা তাদের পরবর্তী শিক্ষাজীবনে আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে।
এছাড়াও, জুনিয়র বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা সামাজিক স্বীকৃতি এবং আত্মবিশ্বাস অর্জন করে। এটি তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও ক্যারিয়ারের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে। সরকার প্রতিবছর সীমিত সংখ্যক শিক্ষার্থীকে এই বৃত্তি প্রদান করে থাকে, তাই প্রতিযোগিতা অত্যন্ত কঠিন।
সর্বশেষ তথ্য ও আপডেট কোথায় পাবেন?
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত সর্বশেষ আপডেট, নোটিশ এবং রুটিন পরিবর্তন জানতে নিয়মিত ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। এছাড়াও আপনার সন্তানের স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন।
পরীক্ষা কেন্দ্রের তালিকা, সংশোধিত রুটিন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে Notice Section চেক করুন। যেকোনো সমস্যা বা জিজ্ঞাসার জন্য সরাসরি শিক্ষা বোর্ডের হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।
শেষ কথা
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ যা মেধাবী শিক্ষার্থীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ খুলে দেয়। প্রবেশপত্র সংগ্রহ, পরীক্ষার রুটিন মনে রাখা, কেন্দ্রে যথাসময়ে পৌঁছানো এবং সকল নিয়মকানুন মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষা বোর্ড এবার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে এবং সুষ্ঠু পরীক্ষা পরিচালনায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।
অভিভাবক এবং শিক্ষার্থী উভয়ের সচেতনতা এবং সহযোগিতায় এই পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যায়। প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে এবং ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারে, সেই কামনা করি। ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে শুরু হওয়া এই পরীক্ষায় সকল শিক্ষার্থীর জন্য শুভকামনা।
নোট: এই আর্টিকেলে উল্লেখিত সকল তথ্য ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি থেকে সংগৃহীত। সর্বশেষ আপডেটের জন্য অনুগ্রহ করে শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন।
