দাখিল ৯ম শ্রেণির শিক্ষাবর্ষ ২০২৫-২০২৬ এর জন্য রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া আসছে ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই অনলাইন রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া চলবে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। দেশের লাখো শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি জানার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন।
মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে দাখিল শিক্ষার্থীদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের ইএসআইএফ ফরম পূরণও করতে হবে অনলাইনে। দেশের সকল অনুমোদিত মাদরাসার অধ্যক্ষ ও সুপারদের এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রেজিস্ট্রেশনের সময়সূচি কী?
দাখিল ৯ম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশনের জন্য নির্ধারিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা ৫ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে পারবেন। তবে যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন না, তাদের জন্য বিলম্ব ফি সহ রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ থাকবে ২১ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, ইএসআইএফ ফরম পূরণের শেষ সময় ৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
কারা রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন?
বয়সের শর্ত অনুযায়ী, যে সব শিক্ষার্থীর বয়স ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি তারিখে সর্বনিম্ন ১৪ বছর এবং সর্বোচ্চ ২০ বছর, তারা সরাসরি দাখিল ৯ম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। তবে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য এই বয়সসীমা আরও উদার করা হয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ১ বছর থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশেষ সুবিধা হিসেবে, যে সব শিক্ষার্থী আগে ৮ম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করার সুযোগ পাননি, তারাও প্রতিষ্ঠান প্রধানের মাধ্যমে বোর্ডে আবেদন করে সরাসরি দাখিল ৯ম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। এই সুবিধাটি বিশেষভাবে সেই সব শিক্ষার্থীদের জন্য যারা বিভিন্ন কারণে আগে রেজিস্ট্রেশন করতে পারেননি।
রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া কেমন হবে?
অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রতিটি মাদরাসাকে মাদরাসা বোর্ড থেকে সরবরাহকৃত ইআইআইএন ভিত্তিক মোবাইল সিম ব্যবহার করতে হবে। এই বিশেষ সিম ব্যবহার না করলে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না। প্রতিটি শিক্ষার্থীর তথ্য এন্ট্রি করার সময় অবশ্যই তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর অথবা অভিভাবকের মোবাইল নম্বর সঠিকভাবে প্রদান করতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে শুধুমাত্র একজন শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন করা যাবে। এর মানে হলো প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য আলাদা মোবাইল নম্বর প্রয়োজন হবে। অভিভাবকদের এই বিষয়টি মাথায় রেখে আগেই প্রস্তুতি নিতে হবে।
প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব কী?
মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, শিক্ষার্থীদের সব তথ্য নিশ্চিত হয়ে ডাটা এন্ট্রি করতে হবে। কোনো ভুল তথ্য প্রদান করা হলে পরবর্তীতে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। তাই প্রতিটি মাদরাসার কর্তৃপক্ষকে বিশেষ সতর্কতার সাথে এই কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে এর সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব প্রতিষ্ঠান প্রধানকে বহন করতে হবে। এজন্য প্রতিটি মাদরাসার অধ্যক্ষ ও সুপারদের আরও বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
অভিভাবকদের করণীয়
দাখিল শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের এই সময়ে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। প্রথমত, সন্তানের বয়সের হিসাব সঠিকভাবে যাচাই করে নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রয়োজনীয় মোবাইল নম্বর প্রস্তুত রাখতে হবে। তৃতীয়ত, সন্তানের সকল ব্যক্তিগত তথ্য সঠিক ও আপডেটেড রাখতে হবে।
অভিভাবকদের উচিত হবে সন্তানের অধ্যয়নরত মাদরাসার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা। রেজিস্ট্রেশনের সময়সূচি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে আগেই জেনে নেওয়া। বিশেষ করে যে সব শিক্ষার্থী আগে ৮ম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করেননি, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রক্রিয়া রয়েছে যা সম্পর্কে আগেই অবগত হতে হবে।
সতর্কতা ও পরামর্শ
দাখিল ৯ম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কিছু বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। প্রথমত, শুধুমাত্র অনুমোদিত মাদরাসার মাধ্যমেই রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে যাতে বিলম্ব ফি দিতে না হয়।
রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোনো সংশয় থাকলে সংশ্লিষ্ট মাদরাসার কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করুন। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকেও সর্বশেষ আপডেট পাওয়া যাবে। অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের সময় ইন্টারনেট সংযোগ স্থিতিশীল রাখতে হবে যেন কাজের মাঝে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।
শেষ কথা
দাখিল শিক্ষাব্যবস্থার অন্তর্গত ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এই রেজিস্ট্রেশন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়ায় সকল শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যৌথ প্রচেষ্টা প্রয়োজন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিকভাবে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাজীবনের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন।
মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের এই নতুন উদ্যোগ দেশের দাখিল শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করে তুলবে। প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও দ্রুততর হয়েছে। আশা করা যায়, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সকল যোগ্য শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষার সুযোগ পাবেন।
