পরীক্ষার পড়া মনে থাকে না? স্মৃতিশক্তি বাড়ানো ও মানসিক চাপ কমাতে করুন ‘হলাসন’

পরীক্ষার আগে পড়া মনে রাখতে না পারার সমস্যা কিন্তু শুধু আপনার একার নয়। আজকাল অনেক ছাত্রছাত্রীই এই স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা নিয়ে চিন্তিত। মজার ব্যাপার হলো, এর পেছনে শুধু মস্তিষ্কের দুর্বলতা নয়, বরং মানসিক চাপ একটি প্রধান কারণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি সহজ যোগাসন নিয়মিত অভ্যাস করলেই এই সমস্যার সমাধান পাওয়া যেতে পারে। সেই আসনটির নাম ‘হলাসন’।

কেন পড়া মনে থাকে না?

পরীক্ষার সময় আমাদের মানসিক চাপ বেড়ে যায় অনেকগুণ। এই চাপ সরাসরি প্রভাব ফেলে আমাদের স্মৃতির কেন্দ্রে। যখন মন উদ্বিগ্ন থাকে, তখন মস্তিষ্ক নতুন তথ্য গ্রহণ ও সংরক্ষণে ব্যাঘাত ঘটে। শুধু বয়স্করা নয়, এখন কমবয়সী ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেও মনোযোগের অভাব ও স্মৃতি দুর্বলতার সমস্যা দেখা যাচ্ছে।

আধুনিক জীবনযাত্রায় স্ক্রিনের অতিরিক্ত ব্যবহার, অনিয়মিত ঘুম, এবং ক্রমাগত প্রতিযোগিতার চাপ এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। তবে সুখবর হলো, প্রাচীন যোগব্যায়ামের মাধ্যমে এই সমস্যার প্রাকৃতিক সমাধান পাওয়া সম্ভব।

হলাসন কী এবং কেন কার্যকর?

হলাসন হচ্ছে একটি বিশেষ যোগাসন যেখানে শরীরকে ‘হল’ বা লাঙলের মতো আকৃতি দেওয়া হয়। এই আসনে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়, যা স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি মানসিক চাপ কমিয়ে মনে শান্তি আনে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হলাসন অভ্যাসের ফলে থাইরয়েড গ্রন্থি সক্রিয় হয়, যা হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে। আর হরমোনের সঠিক ভারসাম্য মানসিক স্থিরতা ও একাগ্রতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

হলাসনের সঠিক নিয়ম

প্রথমে একটি সমতল জায়গায় যোগ ম্যাট বিছিয়ে চিত হয়ে শুয়ে পড়ুন। পা দুটি একসাথে সোজা রেখে গভীর শ্বাস নিন। এবার শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে পা দুটি ধীরে ধীরে উপরে তুলুন।

যখন পা সম্পূর্ণ সোজা হয়ে যাবে, তখন হাত দিয়ে কোমর ধরে সাপোর্ট দিন। এরপর শ্বাস ছাড়তে থাকুন এবং পা আরও পেছনে নিয়ে যান যতক্ষণ না পায়ের আঙুল মাটি স্পর্শ করে।

এই ভঙ্গিতে ২০ সেকেন্ড থাকার চেষ্টা করুন এবং স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস চালিয়ে যান। তারপর ধীরে ধীরে আগের অবস্থানে ফিরে আসুন। কোমর ও নিতম্ব মাটিতে রেখে সম্পূর্ণ শরীরকে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসুন।

হলাসনের অসাধারণ উপকারিতা

নিয়মিত হলাসন অনুশীলনে সবচেয়ে বড় উপকার হলো স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি ও মনোযোগ বাড়ানো। পরীক্ষার্থীদের জন্য এটি বিশেষভাবে কার্যকর কারণ এটি মানসিক চাপ কমিয়ে একাগ্রতা বাড়ায়।

এই আসনটি থাইরয়েডজনিত সমস্যা কমাতে সাহায্য করে এবং হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে। পেটের মেদ কমানো এবং পেট ও পিঠের পেশি শক্ত করার ক্ষেত্রেও হলাসন অত্যন্ত কার্যকর।

মেরুদণ্ড ও ঘাড়ের নমনীয়তা বৃদ্ধিতে এই আসন দারুণ কাজ করে। এমনকি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও এটি উপকারী কারণ এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

সতর্কতা ও নিষেধাজ্ঞা

যাদের আলসার বা হার্নিয়ার সমস্যা রয়েছে, তাদের এই আসন এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। গর্ভাবস্থায় কোনো প্রশিক্ষকের পরামর্শ ছাড়া হলাসন করা উচিত নয়।

ঘাড়ে আঘাত বা মেরুদণ্ডের সমস্যা থাকলেও এই আসন থেকে বিরত থাকুন। প্রথমবার করার সময় অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে করলে আরও ভালো হয়।

পরীক্ষার জন্য বিশেষ টিপস

পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় প্রতিদিন সকালে হলাসন অনুশীলন করুন। এটি সারাদিনের জন্য মানসিক প্রশান্তি এনে দেবে এবং পড়ার একাগ্রতা বাড়াবে।

হলাসনের পাশাপাশি প্রাণায়াম ও ধ্যান অনুশীলন করলে আরও ভালো ফলাফল পাবেন। নিয়মিত ৩-৪ সপ্তাহ অনুশীলনের পর স্মৃতিশক্তিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখতে পাবেন।

মানসিক চাপ কমানোর পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার এবং নিয়মিত ব্যায়াম করাও জরুরি। এভাবে সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান উন্নত করলে পরীক্ষার ফলাফল আরও ভালো হবে।

শাকিল আহম্মেদ
শাকিল আহম্মেদhttps://porasonablog.com
মোঃ শাকিল আহাম্মেদ শিক্ষা বিষয়ক সংবাদ নিয়ে নিয়মিত কাজ করছেন এবং ভর্তি, রেজাল্ট ও বিভিন্ন পরীক্ষার আপডেট সংগ্রহ ও যাচাই করেন। তিনি অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। তথ্য প্রকাশের আগে তিনি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল নোটিশ ও নির্ভরযোগ্য সূত্র মিলিয়ে দেখেন। শিক্ষার্থীদের জন্য দ্রুত ও নির্ভুল তথ্য পৌঁছে দেওয়াই তার প্রধান লক্ষ্য।
রিলেটেড আরটিকেল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

জনপ্রিয় নিউজ