দেশের ১৯টি সাধারণ ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামীকাল বুধবার থেকে ভর্তি আবেদনের দরজা খুলে যাচ্ছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য গুচ্ছ পদ্ধতিতে এই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। যেসব শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের জন্য এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ। এবারের বিশেষ আকর্ষণ হলো সেকেন্ড টাইম বা দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ।
কবে থেকে শুরু হচ্ছে আবেদন প্রক্রিয়া?
১০ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে শুরু হবে ভর্তি আবেদন প্রক্রিয়া এবং চলবে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই ১৫ দিনের মধ্যে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। GST গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.gstadmission.ac.bd এ গিয়ে আবেদন করতে হবে। গত ৭ ডিসেম্বর রবিবার এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
| গুরুত্বপূর্ণ তারিখসমূহ – এক নজরে | |
|---|---|
| আবেদন শুরু | ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ |
| আবেদনের শেষ তারিখ | ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ |
| সি ইউনিট পরীক্ষা | ২৭ মার্চ ২০২৬ |
| বি ইউনিট পরীক্ষা | ৩ এপ্রিল ২০২৬ |
| এ ইউনিট পরীক্ষা | ১০ এপ্রিল ২০২৬ |
| পাস মার্ক | ৩০ |
| নেগেটিভ মার্কিং | ০.২৫ (প্রতি ভুল উত্তরে) |
| অফিসিয়াল ওয়েবসাইট | www.gstadmission.ac.bd |
কারা আবেদন করতে পারবেন?
এবারের ভর্তি পরীক্ষায় বিশেষভাবে সুযোগ পাচ্ছেন যারা ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩ সালের এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং ২০২৪ ও ২০২৫ সালের এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় পাস করেছেন। এর মানে হলো, যারা আগে একবার সুযোগ পেয়েছিলেন কিন্তু বিভিন্ন কারণে ভর্তি হতে পারেননি বা পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাননি, তারা সেকেন্ড টাইম বা দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দিয়ে নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের সুযোগ পাচ্ছেন।
ভর্তি পরীক্ষার ইউনিট ও তারিখ
তিনটি ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ‘এ’ ইউনিট হলো বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য, ‘বি’ ইউনিট মানবিক বিভাগের জন্য এবং ‘সি’ ইউনিট ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য। প্রতিটি ইউনিটের জন্য আলাদা তারিখে পরীক্ষা নেওয়া হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা সুবিধামতো প্রস্তুতি নিতে পারেন।
| ইউনিট | বিভাগ | পরীক্ষার তারিখ |
|---|---|---|
| সি ইউনিট | ব্যবসায় শিক্ষা | ২৭ মার্চ ২০২৬ |
| বি ইউনিট | মানবিক | ৩ এপ্রিল ২০২৬ |
| এ ইউনিট | বিজ্ঞান | ১০ এপ্রিল ২০২৬ |
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: পাস নম্বর ও নেগেটিভ মার্কিং
এবারের ভর্তি পরীক্ষায় পাস নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০। অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থীকে ভর্তির যোগ্য বিবেচিত হতে হলে কমপক্ষে ৩০ নম্বর পেতে হবে। শুধুমাত্র উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাই পরবর্তী ধাপে GST গুচ্ছভুক্ত নিজ নিজ পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নেগেটিভ মার্কিং বা ভুল উত্তরের জন্য নম্বর কাটা। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কেটে নেওয়া হবে। তাই শিক্ষার্থীদের উচিত হবে নিশ্চিত না হয়ে যথেচ্ছভাবে উত্তর না দেওয়া। ভালোভাবে চিন্তা করে এবং জানা প্রশ্নগুলোর উত্তর দিলে ভালো ফলাফল পাওয়া সম্ভব।
কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে গুচ্ছ পদ্ধতিতে?
GST গুচ্ছ পদ্ধতিতে এবার মোট ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় টাঙ্গাইল, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহসহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠান।
| ক্রমিক | বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম | জেলা |
|---|---|---|
| ১ | ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় | কুষ্টিয়া |
| ২ | মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় | টাঙ্গাইল |
| ৩ | পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় | পটুয়াখালী |
| ৪ | নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় | নোয়াখালী |
| ৫ | জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় | ময়মনসিংহ |
| ৬ | যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় | যশোর |
| ৭ | পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় | পাবনা |
| ৮ | বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় | রংপুর |
| ৯ | গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় | গোপালগঞ্জ |
| ১০ | বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় | বরিশাল |
| ১১ | রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় | রাঙ্গামাটি |
| ১২ | রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় | সিরাজগঞ্জ |
| ১৩ | ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি | গাজীপুর |
| ১৪ | নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয় | নেত্রকোণা |
| ১৫ | জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় | জামালপুর |
| ১৬ | চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় | চাঁদপুর |
| ১৭ | কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় | কিশোরগঞ্জ |
| ১৮ | সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় | সুনামগঞ্জ |
| ১৯ | পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় | পিরোজপুর |
সেকেন্ড টাইম বা দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দেওয়ার সুবিধা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
অনেক শিক্ষার্থী প্রথমবার ভর্তি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে পারেন না বিভিন্ন কারণে। কারও হয়তো প্রস্তুতি পূর্ণাঙ্গ ছিল না, কেউ হয়তো পরীক্ষার চাপ সামলাতে পারেননি, আবার কারও স্বাস্থ্যগত বা পারিবারিক সমস্যা হয়েছিল। সেকেন্ড টাইম সুযোগ এসব শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নতুন দরজা খুলে দিচ্ছে। এবার তারা আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পাচ্ছেন।
এছাড়াও যারা আগে অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন কিন্তু মন থেকে চাইছিলেন এই ১৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো একটিতে পড়ার, তারাও এবার আবেদন করতে পারবেন। এটি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য একটি বিশেষ সুবিধা যা অনেক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণে সাহায্য করবে।
কীভাবে আবেদন করবেন?
আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক এবং খুবই সহজ। শিক্ষার্থীদের প্রথমে GST admission এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.gstadmission.ac.bd এ ভিজিট করতে হবে। সেখানে ১০ ডিসেম্বর থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন ফর্ম পাওয়া যাবে। নিজের এসএসসি ও এইচএসসির তথ্য, ছবি এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।
আবেদনের সময় নিশ্চিত করুন যে আপনার সকল তথ্য সঠিক এবং আপডেট। কোনো ভুল তথ্য দিলে পরবর্তীতে সমস্যা হতে পারে। Application process সম্পন্ন করার পর একটি confirmation message পাবেন এবং সেটি সংরক্ষণ করে রাখুন।
ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য পরামর্শ
যেহেতু এবার নেগেটিভ মার্কিং আছে এবং পাস মার্ক ৩০, তাই শুধু বেশি প্রশ্নের উত্তর দিলেই হবে না, সঠিক উত্তর দিতে হবে। প্রতিটি বিষয়ের বেসিক কনসেপ্ট ভালোভাবে ক্লিয়ার করুন। আগের বছরের প্রশ্নপত্র দেখে ধরন বুঝে নিন। MCQ type question সমাধানের জন্য বেশি বেশি অনুশীলন করুন।
যেসব শিক্ষার্থী সেকেন্ড টাইম পরীক্ষা দিচ্ছেন, তাদের আগের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো উচিত। কোথায় ভুল হয়েছিল, কোন বিষয়ে দুর্বলতা ছিল সেগুলো চিহ্নিত করে সেই অংশে বেশি জোর দিন। টাইম ম্যানেজমেন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তাই মক টেস্ট দিয়ে সময় নিয়ন্ত্রণ শিখুন।
ফলাফল প্রকাশ ও পরবর্তী ধাপ
প্রতিটি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল GST গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। শুধুমাত্র উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাই পরবর্তী পর্যায়ে নিজ নিজ পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কিছু শর্ত থাকবে যা পূরণ করতে হবে।
ফলাফল প্রকাশের পর দ্রুত আপনার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগ নির্বাচন করে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন। মেধা তালিকা অনুযায়ী আসন বরাদ্দ হবে, তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আবেদন করা ভালো।
শেষ কথা
১৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি আবেদন শুরু হতে মাত্র একদিন বাকি। যারা ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে উচ্চশিক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছেন, তাদের জন্য এটি একটি সোনালী সুযোগ। বিশেষভাবে সেকেন্ড টাইম সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীরা এবার আরও আত্মবিশ্বাসের সাথে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। মনে রাখবেন, সফলতা একদিনে আসে না, কিন্তু সঠিক প্রস্তুতি ও পরিশ্রম আপনাকে লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।
আবেদনের শেষ তারিখ ২৪ ডিসেম্বর, তাই দেরি না করে আজই প্রস্তুতি শুরু করুন এবং সময়মতো আবেদন সম্পন্ন করুন। আপনার স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির এই সুযোগ হাতছাড়া করবেন না। সবার জন্য শুভকামনা রইল!
