বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর! দেশের ৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা মেধাবী ছেলেমেয়েরা এবার শিক্ষা বৃত্তি পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
কোন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বৃত্তি দেবে?
সাতটি বিখ্যাত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় তাদের স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষায় ভালো ফলাফলকারী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই সব বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্য শিক্ষার্থীরা মেধাবৃত্তি এবং সাধারণ বৃত্তি পাবেন। এই শিক্ষা বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খরচ কমবে এবং তারা আরও মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করতে পারবেন।
কতটি বৃত্তি দেওয়া হবে?
মেধাবৃত্তির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বৃত্তি পাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা – মোট ৩৫টি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পাবে ২৬টি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ১৮টি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ১৬টি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ১৩টি, আর শাহজালাল ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিটি ১২টি করে মেধাবৃত্তি দেবে। এভাবে মোট ১৩২টি মেধাবৃত্তি দেওয়া হবে।
সাধারণ বৃত্তির সংখ্যা আরও বেশি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একাই দেবে ১ হাজার ৮৭৫টি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ৯৮৪টি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ৫৬২টি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ২৮১টি, আর বাকি তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিটি ১৪১টি করে দেবে। মোট ৪ হাজার ১২৫টি সাধারণ বৃত্তি বরাদ্দ করা হয়েছে।
বৃত্তি পাওয়ার শর্তাবলী
শিক্ষা বৃত্তি পেতে হলে শিক্ষার্থীদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত মানতে হবে। প্রথমত, তাদের মেধার ভিত্তিতে নির্বাচিত হতে হবে। এছাড়া বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী অবশ্যই নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকতে হবে এবং পরবর্তী উচ্চতর শ্রেণিতে ভর্তি হতে হবে।
একটি বিশেষ নিয়ম হলো ছেলে ও মেয়েদের সমান সুযোগ দেওয়া। মেধাবৃত্তি এবং সাধারণ বৃত্তির ৫০ শতাংশ যাবে ছেলেদের এবং ৫০ শতাংশ যাবে মেয়েদের। তবে যদি যোগ্য মেয়ে না পাওয়া যায়, তাহলে যোগ্য ছেলেরা সেই বৃত্তি পেতে পারবে।
আবেদনের প্রক্রিয়া
বৃত্তি পেতে চাইলে শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের যেকোনো তফসিলভুক্ত ব্যাংকে নিজের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। এই অ্যাকাউন্ট অবশ্যই অনলাইন সুবিধাসহ হতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাবা-মায়ের বা অন্য কারও নামের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা যাবে না – একমাত্র শিক্ষার্থীর নিজের নামের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বৃত্তির গেজেট প্রকাশ করবে। এই তথ্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হবে। শিক্ষার্থীদের সব তথ্য ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমে (MIS) দিতে হবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ
এই শিক্ষা বৃত্তি কর্মসূচি বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় সুযোগ। আর্থিক সাহায্য পাওয়ার মাধ্যমে তারা আরও ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারবেন এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবেন।
শিক্ষামন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগ দেশের উচ্চশিক্ষার মান বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে। যারা স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ে ভালো ফলাফল করেছেন, তারা এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই বৃত্তি কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর হাজার হাজার শিক্ষার্থী উপকৃত হবেন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা দেশ ও জাতির সেবায় নিজেদের প্রস্তুত করতে পারবেন।
